ফাতেহ ডেস্ক :
ভারতের সুপ্রিমকোর্ট কর্তৃক অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের স্থলে বিতর্কিত রাম মন্দির নির্মাণের অবৈধ রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইসলামী ঐক্যজোট ঢাকা মহানগর।
আজ বুধবার বাদ আসর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইটে দলের ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ঐক্যজোট চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, রাম নামের একটি কাল্পনিক চরিত্রকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্যই ভারতের সুপ্রিমকোর্ট এই কালো রায় প্রদান করেছে। রাম নামে যে কেউ কোনোদিন ছিল না, এটা ভারতের বিচারপতিরাও স্বীকার করেছেন। সাবেক বিচারপতি আশোর কুমার গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, রাম বাস্তবে নয়, কাব্যে রয়েছে। বাস্তবে রাম নামের কোন অস্থিত্ব কোনোকালেই ছিলো না।
মাওলানা নেজামী বলেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পরেই তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন বাবরি মসজিদ পুণঃনির্মাণ করে দেয়া হবে। কিন্তু ২৭ বছর আইন প্রক্রিয়ার পর এখন মসজিদ নির্মাণের নয়, বরং রাম মন্দির নির্মাণের রায় হয়েছে।
আমরা মনে করি, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি মিথ্যা রিপোর্টের ভিত্তিতে এই অন্যায় রায় দিয়েছে। রায়ের আগে একটি জরিপ কমিটি হয়েছিল। সেই কমিটির দুইজন সদস্য পরিষ্কারভাবে এই রিপোর্টের বিরোধিতা করেছে। তাদের মতামতকে কোনো গুরুত্ব দেয়া হয়নি। শুধু একজনের ত্রুটিপূর্ণ একটি রিপোর্টকে গুরুত্ব দিয়ে চরম বৈষম্যমূলক রায় দেয়া হলো। আজকের বিশ্বের মুসলমানরা তো বটেই, পাশাপাশি ভারতের বিবেকবান মানুষও এই রায়ের বিরোধিতা করছে। কারো কথাকেই গ্রাহ্য করছে না ভারত সরকার।
তিনি আরও বলেন, ভারত সরকারকে বলছি, মসুলমানরে ভেতর জ্বলতে থাকা ক্ষোভের আগুন নেভাতে হলে অবিলম্বে মসুলমানদের ভূমিতে বাবরি মসজিদ পুণঃনির্মাণ করতে হবে। তা নাহলে প্রয়োজনে আবারো ভারত অভিমুখে লংমার্চ করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ঐক্যজোট মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, ১৯৯২ সালে উগ্র হিন্দুরা যখন ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলছিল, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও নিজ বাসভবন থেকে এই দৃশ্য দেখে পুলকিত হচ্ছিল। এই হৃদয়বিধারক ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশের ইসলামপ্রিয় জনতার নয়নমণি মুফতী আমিনী ও শায়খুল হাদীস রহ. ভারতের অযোধ্যা অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচী ঘোষণা করেছিলেন। সারা বিশ্বের মুসলমানরা প্রতিবাদে গর্জে ওঠেছিল।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, বাবরি মসজিদ ভাঙ্গা ছিল জঘণ্য অপরাধ। এই প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ায় ভারতে হাজার হাজার ঈমানদার মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছিল। এরপর ভারতের উলামায়ে কেরাম ও মসুলমানরা আইনি সমাধানের জন্য কোর্টের দারস্থ হয়। আজ দীর্ঘ ২৭ বছর পর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাবরী মসজিদের স্থলে রাম মন্দির নির্মাণের স্ববিরোধী রায় দিয়েছে। একদিকে তারা বলছে, বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা ছিল অপরাধ, আবার অন্যদিকে বলছে এই জমি মসুলমানরা পাবে না। এখানে নির্মাণ হবে হিন্দুদের কল্পিত রাম মন্দির।
মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি নিজেই নারী কেলেঙ্কারীর অভিযুগে অভিযুক্ত। কট্টর হিন্দুত্ববাদী মোদী সরকারের চাপেই বিচারপতি এই রায় দিয়েছেন কিনা তাও ভেবে দেখতে হবে।
তিনি বলেন, এই রায় পৃথিবীর কোন ঈমানদার মুসলমান মানে না, মেনে নিতে পারে না। এই রায় বিচারের নামে অবিচারের রায়। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা যে অধিকার নিয়ে বাংলাদেশে বসবাস করছি, ঠিক অমুসলমরাও মর্যাদার সাথে এখানে বসবাস করবে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করিছ ভারতে মুসলমানদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে চিহিত করার চেষ্টা চলছে। সেখানে গরুর রক্তের চেয়েও মুসলমানের রক্তের দাম কম। ঠুনকো অযুহাতে মুসলমানদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ভারতের মুসলমানদের উপর যে নির্মম নিপীড়ন চলছে, তা ভাষায় বর্ণনা করাও কঠিন। অথচ ভারতের স্বাধীনতার জন্য এই মুসলমানরাই রক্ত দিয়েছে, কারাবরণ করেছে, ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলে জীবন দিয়েছে। আমাদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট, মুসলমানদের বাবরি মসজিদের স্থান মুসলমানদের ফিরিয়ে দিতে হবে। অবিলম্বে অন্যায় ও অবৈধ রায় প্রত্যাহার করতে হবে। যদি মুসলমানদের মসজিদের স্থলে বিতর্কিত রাম মন্দির নির্মাণের করার চেষ্টা করা হয়, তা হলে ভারত ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মুফতী তৈয়্যব হোসাইন, মাওলানা শেখ লোকমান হোসাইন, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, সহকারী মহাসচিব মাওলানা ফারুক আহমদ, মাওলানা মীর হেদায়েতুল্লাহ গাজী, মুফতী সাইফুল ইসলাম, মাওলানা একেএম আশরাফুল হক, পীরজাদা সৈয়দ মোঃ আহসান, মাওলানা আব্দুল কাইয়্যুম, মাওলানা আনছারুল হক ইমরান, মাওলানা ওবায়দুল হক, ইসলামী ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান, ছাত্র খেলাফতের সেক্রেটারী জেনারেল মোঃ আবুল হাসিম শাহী প্রমুখ।
