রবিউল আউয়াল উপলক্ষে ইসলামি প্রকাশনীগুলোর যত আয়োজন

রবিউল আউয়াল উপলক্ষে ইসলামি প্রকাশনীগুলোর যত আয়োজন

রাগিব রব্বানি :

বাংলাদেশের স্থানীয় সংস্কৃতিতে হিজরি সনের তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল আলাদা একটা আমেজ নিয়ে হাজির হয়। মহানবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের জন্ম এবং মৃত্যু এ মাসেই হয়েছিল। ফলে সিরাত চর্চার একটা আমেজ পুরো মাস জুড়েই বিদ্যমান থাকে ধর্মীয় অঙ্গনে। সিরাতকে উপলক্ষ করে থাকে নানা আয়োজন।

এ মাসে নবিজির জীবনী বা সিরাত এবং ধর্মীয় বইপত্র পাঠের আগ্রহ ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে নতুন মাত্রা লাভ করে। এই দিক বিবেচনায় রেখে ইসলামি প্রকাশনীগুলো নিজেদের প্রকাশিত বইগুলোতে বিশেষত সিরাত বিষয়ক গ্রন্থে বিশেষ ছাড়ের আয়োজন করেছে।

রবিউল আউয়ালকে কেন্দ্র করে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে মাকতাবাতুল ইসলাম। রবিউল আউয়ালের ১২ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত ১৪ দিন ব্যাপী সিরাতগ্রন্থ প্রদর্শনী ও মূল্যছাড় উৎসবের আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সিরাত বিষয়ক গ্রন্থসহ বিভিন্ন প্রকাশনীর কয়েক শত বাংলা বই ৩০ থেকে ৭০ পার্সেন্ট পর্যন্ত ছাড় মূল্যে ক্রয় করা যাচ্ছে সেখান থেকে। গত তিন বছর ধরে রবিউল আউয়ালে মাকতাবাতুল ইসলামের প্রধান বিক্রয়কেন্দ্র রাজধানীর মধ্যবাড্ডা আদর্শ নগরে এ উৎসবের আয়োজন হয়ে আসছে।

Image may contain: 1 person
মাকতাবাতুল ইসলামের সিরাতগ্রন্থ প্রদর্শনী থেকে বই কিনছেন পাঠক।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটেও প্রতি রবিউল আউয়ালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজন করে ইসলামি বইমেলার। বাংলাবাজারের বিভিন্ন প্রকাশনী সেখানে অংশগ্রহণ করে। এ বছর অভিজাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গার্ডিয়ান, সমকালীন, সমর্পণ, রাহনুমাসহ বেশ কয়েকটি প্রকাশনী অংশগ্রহণ করেছে। আছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্টলও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন মেলা উপলক্ষে তাদের সব ধরনের বইয়ে ২০ থেকে ৩০ পার্সেন্ট পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে। এ ছাড়া মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনীগুলো, যারা সাধারণত ২৫ পার্সেন্ট ছাড় মূল্যে বই বিক্রি করে, তারা এখন ৩৫ পার্সেন্ট ছাড়ে বিক্রি করছে। আর যারা ৫০ পার্সেন্ট ছাড়ে নিয়মিত বই বিক্রি করে, তারা ৫৫ পার্সেন্ট পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে।

এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এ বইমেলা প্রতিবছর আয়োজিত হলেও লোকসমাগম খুব বেশি হয় না। এ ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজক কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছেন মেলায় অংশগ্রহণকারী অনেক প্রকাশনীর কর্ণধারেরা। তাঁরা বলছেন, বাংলাদেশে বইপড়ুয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঠক ইসলামি ধারার। কিন্তু আয়োজকপক্ষ মেলার প্রচার-প্রচারণা সেভাবে না করায় অনেকে জানতেই পারছে না এখানে যে রবিউল আউয়াল উপলক্ষে বইমেলার আয়োজন হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আয়োজকদের এমন দায়সারা মনোভাবের সমালোচনা করেছেন অনেকে। তবে গত কয়েকদিনে এ নিয়ে তুমুল আলোচনা হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ পাঠকদের অনেকেই অবগত হয়েছেন। ফলে মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনী মালিকেরা জানিয়েছেন গতকাল এবং আজ মোটামুটি পাঠক সমাগম ঘটেছে মেলায়।

এদিকে মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনীগুলোর বাইরে অন্যান্য ইসলামি প্রকাশনীর প্রায় প্রত্যেকটিই রবিউল আউয়াল উপলক্ষে নিজেদের বইয়ে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রেখেছে।

আগের সংবাদমাওলানা আতীক উল্লাহর সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করলো তার পরিবার
পরবর্তি সংবাদফিলিস্তিনে ঘুমন্ত অবস্থায় ইসরাইলি হামলার শিকার একটি পরিবার, নারী-শিশুসহ নিহত ৮