‘সরকার একদিন নিজেদের পতনকেও গুজব বলে প্রচারণা চালাবে’ : চরমোনাই পীর

ফাতেহ ডেস্ক :

সরকার তাদের ব্যর্থতা ও অপরাধকে যেভাবে গুজব বলে অস্বীকার করে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে তাতে একদিন নিজেদের পতনকেও গুজব বলে মিথ্যা প্রচারণা চালাবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলনে বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীরসাহেব চরমোনাই। তিনি বলেন তখন সেই প্রচারণ তাদের পতন ঠেকাতে যথেষ্ট হবে না।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা না করার কারণে দেশে দুর্নীতি এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। এই দুর্নীতি থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে অবশ্যই আমাদেরকে ইসলামে অনুশাসন মেনে চলতে হবে এবং অনৈসলামিক কর্মকান্ড থেকে ফিরে আসতে হবে।

আজ বুধবার সকাল ১০টায় বরিশালের চরমোনাই মাহফিল মঞ্চে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ওলামা ও সুধী সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

পীরসাহেব চরমোনাই বলেন, মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশে আল্লাহ, রাসূল (সা:), ইসলাম-মুসলমান ও কুরআন অবমাননা হয় কিন্তু এর প্রতিরোধে কোনো আইন নেই। তিনি বলেন, ইসলামবিরোধীরা স্রাম্রাজ্যবাদীদের মদদে ধর্ম অবমাননা করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্র করলেও তারা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

তিনি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভোলার বোরহানউদ্দিনে শহীদদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান।

মাদরাসায় হিন্দু সুপার নিয়োগ প্রসঙ্গে পীরসাহেব চরমোনাই বলেন, মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশে লাখ লাখ যোগ্য আলেম-ওলামা থাকার পরেও সরকার দেশের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হিন্দুদেরকে বসিয়ে এখন মাদরাসায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে নিয়োগ দিয়ে মুসলিমপ্রধান বাংলাদেশের জনগণকে কি ম্যাসেজ দিচ্ছে চায় তা জাতির কাছে স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, মাদরাসায় হিন্দু সুপার নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্ত দেশবাসীকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে। এ সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহার করাসহ ভবিষ্যতে এমন কাজ না করতে তিনি সরকারের প্রতি আহবান জানান।

সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ, রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক যুবনেতা কে এম আতিকুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদসহ দলের কেন্দ্রীয় ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় মাহফিলে সারাদেশ থেকে আগত শ্রমিক নেতা-কর্মীদের নিয়ে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ এবং বেলা ১১টায় সারাদেশ থেকে আগত ছাত্রদের নিয়ে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে ছাত্র গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে।

২৯ নভেম্বর সকাল ৮টায় পীর সাহেব চরমোনাইর আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

আগের সংবাদ‘মুহাম্মদ সা. যুগে যুগে আসবেন’ : দেওয়ানবাগীর বিতর্কিত বক্তব্য অনলাইনে ভাইরাল
পরবর্তি সংবাদসিরিয়ায় ঘুমন্ত গ্রামবাসীর ওপর রাশিয়ার বিমান হামলা