ফাতেহ ডেস্ক :
১১ দফা দাবি আদায়ে বুধবার সকাল থেকে অনশনে বসেছেন রাজশাহী, নরসিংদী ও খুলনার পাটকল শ্রমিকরা। ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতি দিয়ে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। অনশনের সময় নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে তাদের বুকে ঝুলানো। কোনোটির মধ্যে লেখা ‘মা হাসিনা, মজুরি কমিশন দিয়া দে, নইলে একটু বিষ দে’।
রাজশাহীতে সকাল ৮টা থেকে নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালীতে মিলগেটে শ্রমিকরা অনশনে বসেন। কাজ বাদ দিয়ে ১১ দফা দাবিতে শ্রমিকদের এ অনশন চলেছে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এর আগে দাবি আদায়ে সোমবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন পাটকল শ্রমিকরা।
নরসিংদীতে মজুরি কমিশনসহ ১১ দফা দাবি আদায়ে শ্রমিকদের পাশাপাশি কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের স্ত্রী ও তাদের শিশুসন্তানরাও এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতি দিয়ে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেন ইউএমসি জুট মিল শ্রমিকরা।
অনশনে মিলে কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে শ্রমিকদের সহধর্মীণী ও শিশুসন্তানরা অংশ নেন। এসময় ‘ভাত দে, কাপড় দে নয়তো একটু বিষ দে’ স্লোগান দেয়া হয়। একই সঙ্গে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকায় জুতাপেটা করা হয়। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পযর্ন্ত চলে এ কর্মসূচি ।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন।
মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ ১১ দফা দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের ডাকে মিলের উৎপাদন বন্ধ করে নিজ নিজ পাটকলের সামনে শ্রমিকরা অনশন করেন।
পাটকল শ্রমিকদের মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বাতিল, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের পিএফ গ্রাচ্যুইটির টাকা প্রদান, শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি নিয়মিত পরিশোধ, পাট মৌসুমে পাট ক্রয়ের অর্থ বরাদ্দসহ শ্রমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১১ দফা দাবিতে গত ১৭ নভেম্বর ছয়দিনের কর্মসূচির ঘোষণা করে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদ।
সকালে ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, দৌলতপুর , খালিশপুর, দিঘলিয়া, আলীম, ইস্টার্ন, কার্পেটিং ও জেজেআই জুট মিলের শ্রমিকরা কর্মস্থলে না গিয়ে নিজ নিজ মিল গেটে সমবেত হন। সেখানে শ্রমিকরা পৃথকভাবে মূল ফটকের সামনে অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ সরদার, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন, প্লাটিনাম মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, খালিশপুর জুট মিল সিবিএ’র সভাপতি আবু দাউদ দ্বীন মোহাম্মদ, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম শেখ প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে শ্রমিকদের ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে বিজেএমসি কর্তৃপক্ষের কাছে জোর আহ্বান জানান।
