ফাতেহ ডেস্ক :
রাজধানীর ঐহিত্যবাহী সোবহানবাগ জামে মসজিদটি নান্দনিক ডিজাইনে ১০তলা ভবন করার কাজ হাতে নিয়েছে সরকার। এতে বর্তমানে যেখানে ৬০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন, সেখানে ৩ হাজার ৭০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।
ইতিমধ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। চলতি বছরে শুরু হওয়া এ কাজটি শেষ হবে আগামী বছরের ডিসেম্বরে। ৮২ বছর আগে নির্মিত এ মসজিদটির ঊর্ধ্বমুখী নির্মাণ ও আধুনিকায়নের এ ডিজাইন করেছেন স্থপতি ইকবাল হাবিব।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঐহিত্যবাহী সোবহানবাগ জামে মসজিদে মুসল্লিদের স্থান সংকুলন হচ্ছিল না। মুসল্লিদের দীর্ঘদিনের দাবি ও রাস্তা প্রশস্তকরণের লক্ষে¨ সরকার একটি উদ্যোগ নিয়েছে। এতে একদিকে যেমন বিপুলসংখ্যক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন, তেমনি মসজিদের অংশে থাকা সরু রাস্তাটিও প্রশস্ত হবে।’
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ মসজিদটি দশমিক ৩৫ একর জমির ওপর ১৯৩৭ সালে মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান প্রতিষ্ঠা করেন। পরবতী সময়ে ১৯৯২ সালে পাঁচতলা ভিত্তির ওপর মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এ মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ৬০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। বর্তমানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় সেমি বেজমেন্টসহ ১০তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে দোতলায় একটি মেজানাইন ফ্লোর রয়েছে। প্রথম ফ্লোরে রাস্তার ভাগে চারটি দোকান, সেমি-বেজমেন্টে একটি মাদ্রাসা, অগ্নিবহির্গমন দুটি সিঁড়ি, অজুর স্থান, তিনটি অত্যাধুনিক লিফট থাকবে। মসজিদটি নির্মাণকালীন নামাজের কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ধানমণ্ডি ১৪ নম্বর সড়কের ওপর স্টিল স্ট্রাকচার দিয়ে একটি অস্থায়ী মসজিদ নির্মাণ করা হবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ঢাকা-গণপূর্ত সার্কেল-১) ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম সোহরাওয়ার্দ্দী গণমাধ্যমকে বলেন, ১০তলা এ মসজিদটির নির্মাণকাজ যথাসময় শেষ করতে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। এখানে অত্যাধুনিক সুবিধা যেমন ভূগর্ভস্থ জলাধার, সাব-বিদ্যুৎস্টেশন, ১৫০ কেভি জেনারেটর, ২ হাজার কেজি প্যাসেঞ্জার লিফট, পাম্প মোটর সেট, সাউন্ড সিস্টেম, অনগ্রিন সোলার সিস্টেম, অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা, এয়ারকুলার, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকছে।’
