মুজাহিদুল ইসলাম :
জুলাই, ১৯২৬। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে তখন ব্যতিক্রমধর্মী এক আয়োজন চলছে। ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের মাটিতে ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন মসজিদের উদ্বোধন হচ্ছে। উপস্থিত চরম ইসলাম-বিদ্বেষী ধর্মীয় নেতৃবর্গ। অথচ তাদের ভেতর এক ধরনের স্বস্তি। হাসিখুশি ভাব। কারণ, মাতৃভূমি ও অন্যান্য মুসলিম উপনিবেশিত দেশের মধ্যে তারা তৈরি করতে যাচ্ছে নতুন বন্ধন।
প্যারিসে মসজিদটি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব ঊনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ফ্রান্সের পার্লামেন্টে সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়। সংসদ এ জন্য পাঁচ লক্ষ ফ্রান্সিস ফ্রাংক বরাদ্দ দেয়ার পাশাপাশি প্যারিস-পৌরসভা ৭৫০০ মিটার জায়গা মসজিদের জন্য দান করে। মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য ফ্রান্সের উপনিবেশ মরোক্কোতে নিযুক্ত জেনারেল এবং ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত আলজেরিয়ার স্বাধীনতাবিরোধী আলজেরিয়ান কর্মকর্তা কাদ্দুর বিন ঘোব্রিতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
মসজিদটির স্বতন্ত্র নকশা মূলত ইসলামের প্রতি ফ্রান্সের কল্পিত নতুন দৃষ্টিভঙ্গিকেই মূর্ত করে তুলেছিল। মসজিদটিতে নামাজের পাশাপাশি আরবীয় সংস্কৃতি অনুসারে উষ্ণ পানির স্নানাগার, আলিফ লায়লার গল্পানুসারে পরিবেশিত রেস্তোরাঁ এবং রয়েছে দোল-নর্তকীর ব্যবস্থা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ফ্রান্স মূলত অবিচারের বিরুদ্ধে ও সহজাত স্বাধীনতা-সংগ্রামে ইসলামের প্রতিরোধ-মূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে ঢেকে দিয়ে মধ্যযুগীয় গালগল্পের জাদুকরি ও সিন্দাবাদি ইসলামকে তুলে ধরার প্রয়াস নিচ্ছিল। খুঁজছিল তাদের লোলুপ উপনিবেশবাদী চেহারাকে জায়েজ ও গোপন করার পথ-পন্থা। তারা তাদের বিন ঘোব্রিতের ইসলামকেই প্রতিষ্ঠা করবে। সে সময়ের প্রখ্যাত আলিম আবদুল হামিদ বিন বাদিস। ফ্রান্সের প্রতি আবদুল হামিদ বিন বাদিসের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল এমন–তিনি বলতেন, ‘যদি কোনো ফ্রেঞ্চ আমাকে কালিমায়ে তাওহিদ ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’ পড়তে বলে তবুও আমি তা কখনো পড়ব না।’
ইসলাম ও ফ্রান্স : শুরু থেকে গল্প
ইসলাম ও ফ্রান্সের মধ্যে প্রথম পরিচয়টি অষ্টম শতাব্দীর শুরু থেকে, বিশেষত ৭১৮ খ্রিষ্টাব্দে, অর্থাৎ মুসলমানরা আন্দালুস জয় করার মাত্র কয়েক বছর পরই। বর্তমান ফ্রান্সের মূল ভূমিকে মুসলমানরা তখন ‘গ্রেট ল্যান্ড’ বা ‘মহান ভূমি’ নামে অভিহিত করত। সে বছর স্পেনবিজয়ী তারিক বিন যিয়াদ তার সেনাবাহিনী নিয়ে এক অনুসন্ধানী অভিযানে বের হন।
একের পর এক জয়ের পর মুসলিমরা আরবোন (নরবোনে) বিজয়ে সক্ষম হয়। কিন্তু ৭১৫ সালে মুসলিম বাহিনীর সেনা-কমান্ডার সামাহ বিন মালিক আল খুলানি শহিদ হওয়াতে প্রথম প্রচেষ্টার সমাপ্তি হয় এবং মুসলমানরা বার্সেলোনায় তাদের শক্ত ঘাঁটিতে ফিরে যায়।
১০ বছর পর মুসলমানরা পুনরায় নতুন বিজয়ের জন্য ফ্রান্সের দরজায় করাঘাত করে। সুহাইম আল কালবির নেতৃত্বে এক বাহিনী ফ্রান্স বিজয়ে সক্ষম হয়। তাদের বিজয়াভিযানের ফলে প্যারিস তখন মাত্র ১০০ মাইল দূরে ছিল। এখানেই থেমে ছিল না। বরং আবদুর রহমান গাফিকির নেতৃত্বাধীন বাহিনী নতুন ভূমি যুক্ত করার মানসে ৭৩২ ‘বর্দে’ হতে অভিযান শুরু করেন। এক পর্যায়ে ‘পয়োটার্সে’ তাদের অভিযান থেমে যায়। সেখানে বালাতুশ শুহাদা নামক বিখ্যাত লড়াইয়ে মুসলিম বাহিনীর পরাজয় হয়। ফলে উত্তরে মুসলিমদের অগ্রাভিযান থেমে যায়। তবে তা এ অঞ্চলের ক্ষমতার চিত্র বদলে দেয়নি। তারা ৭৩৭ সালে মার্সেই এবং ৮৮৯ সালে সেন্ট-ট্রয়েসকে মুসলিম ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করে। দশম শতাব্দী পর্যন্ত এখানে মুসলিমরা তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।
আন্দালুসের পতনের পর ফ্রান্স আর মুসলিমদের মধ্যে সম্পর্কের মোড় ঘুরে যায়। এবারের সম্পর্কে কোনো শত্রুতা নেই, বরং যৌথ দুশমন স্পেনের ক্যাথলিকদের বিরুদ্ধে এক হয়ে যায় তারা। স্পেনের যে সকল মুসলিম আফ্রিকায় না গিয়ে ইউরোপে থাকতে চায়, তাদেরকে ফ্রান্স স্বাগত জানায়। তারা সেখানে ধর্মকর্মসহ সকল ধরনের ব্যবসাবাণিজ্যে যুক্ত হয়। বিশেষত ফ্রান্সিসরা যখন ইসলামে প্রবেশ করতে থাকে। ১৬০৫ সালে স্পেনের ‘মরিসকোদের’ (যারা প্রাণের ভয়ে খ্রিষ্টান ধর্ম প্রকাশ করে কিন্তু আদতে মুসলিম) একটি প্রতিনিধিদল ফ্রান্সের বাদশাহ চতুর্থ হ্যানরির নিকট স্পেনের রাজা তৃতীয় ফিলিপের বিরুদ্ধে সহযোগিতা চায়। তিনিও তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এক পাগল পাদ্রীর হাতে বাদশাহ নিহত হওয়াতে নতুন করে মুসলিমদের সেখানে যাওয়ার স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায়।
মুসলিমদের একের পর এর দুর্গের পতনের পর বাকি ছিল উসমানি সালতানাত। যা সাইক এবং পিকেটের ষড়যন্ত্রে যেমন ইচ্ছে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মুসলিম ও ফ্রান্সের সম্পর্কে নতুন বাঁক দেখা দেয়। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ফ্রান্স তার নৌবহর পাঠিয়ে সেখানকার জনশক্তি ও বিভিন্ন খনিজ দ্রব্য ফ্রান্সে আনতে থাকে। আফ্রিকার সম্পদে গড়ে উঠতে থাকে ফ্রান্সের শক্তিসামর্থ্য। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সৈন্যবল যোগাতে ও যুদ্ধের পর ক্ষত সারিয়ে তুলতে ফ্রান্স মুসলিমদের আনতে থাকে। তারা তাদের ধর্মকর্মের জন্য সেনানিবাসের ভেতরও মসজিদ নির্মাণ করে। ধীরে ধীরে তাদের পরিবারও আসতে থাকে। এমনকি এক সময় ফ্রান্সে খ্রিষ্টধর্মের পর ইসলাম সেখানে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মের স্থান দখল করে। যা একসময় ধর্মনিরপেক্ষ ফ্রান্স নিজের জন্য হুমকি মনে করতে থাকে।
ফরাসি ধর্মনিরপেক্ষতা : সবকিছুর আগে এবং পরে ধর্মের প্রতি শত্রুতা
কেউ যদি অ-ইউরোপীয় কোনো দেশ (মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপীড়িত অঞ্চল বা দরিদ্র এশীয় কিংবা মঙ্গাকবলিত আফ্রিকা) থেকে ফ্রান্সে যেতে চায়, তাকে প্রথমেই ফ্রান্সের প্রজাতন্ত্রের নীতির অন্তর্ভুক্তি এবং পরিচয় বিভাগের কোর্সে অংশ নিতে হবে। এটা তাকে শেখাবে ফ্রান্স একটি ধর্মহীন রাষ্ট্র। কিন্তু এখানে পূর্ণ স্বাধীনতা আছে। তবে বাস্তবে এ কথিত স্বাধীনতার অর্ধাংশও পাওয়া কঠিন। ফ্রান্স ১৯০৫ সালে রাষ্ট্র হতে গির্জাকে আলাদা করার পাশাপাশি ফ্রান্সকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের স্বাীকৃতি দিয়ে আইন পাশ করে। যে আইনের কোনো ধরনের ব্যাখ্যা চলবে না; যেন আসমানি নির্দেশনা। এটা নিশ্চিত করার জন্য দুইটি বিশেষ অথরিটি আছে। তারা হালাল-হারাম পর্যন্ত নির্ধারণ করে।
ইসলাম সম্পর্কে ফ্রান্সের রাজনৈতিক স্রোতের মনোভাব
বর্তমান ডানপন্থী রাজনৈতিক পরিভাষা মূলত ফ্রান্সের রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদের আধ্যাত্মিক পিতা ম্যারিন লুবিনের মতাদর্শানের রূপায়ণ। এদের মূল ফোকাস হলো অ-ফ্রেঞ্চদের বিরোধিতা করা। এরাই মূলত ফ্রান্সে ইহুদিদের উপস্থিতির বিরোধিতা করেছিল। যদিও বর্তমানে তারা তা থেকে নিজেদের দায়মুক্তির দাবি করে। কিন্তু বর্তমানে তারা মুসলিম আইডিওলজির বিরোধিতাকে তাদের প্রচারণার মূল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে।
এদের এই ডানপন্থার আদর্শই মূলত বর্তমানে বিশ্বব্যাপী কাজ করছে। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের সন্ত্রাসী মূলত এদের আদর্শেরই অনুসারী। বর্তমান ফ্রান্সের ডানপন্থীরাও ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিরোধিতার কোনো সুযোগকে হাতছাড়া করে না। ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ধর্মের সাথে তাদের কোনো বিরোধ নেই। সমস্যা শুধু ইসলাম বা ইসলামি “চরমপন্থা” নিয়ে।’ সাবেক ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজি ফ্রান্সের স্কুলগুলো মুসলিম ছাত্রদের জন্য হালাল খাবার ও হিজাবের সোজাসাপ্টা বিরোধিতা করেছেন।
অন্যদিকে বামপন্থীরা মুসলিম কমিউনিটির প্রতি তুলনামূলক ইতিবাচকতা দেখায়। বামপন্থী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময় ইসলাম ও মুসলিমদের সাথে সন্ত্রাসবাদকে জড়ানোর বিরোধিতা করেছেন। সাবেক বামপন্থী প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সে একাধিকবার বলেছে, ‘ইসলাম গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মূল্যবোধের পরিপন্থী নয়। ফ্রান্সে তাদেরও অন্য নাগরিকদের মতো অধিকার আছে। সন্ত্রাসের বলি হওয়া থেকে তারাও নিরাপদ নয়।’ বামপন্থীরা ডানপন্থীদের মুনাফিক আখ্যায়িত করে বলেন, ‘তারা বাদশাহ সালমানের সাথে আলোচনা করে, সেখানে কী হচ্ছে তা জানা সত্ত্বেও তারা তার নিকট উদ্বেগ প্রকাশ করে না। খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় পোশাকে আপত্তি না থাকলেও তাদের মুসলিমদের পোশাকে আপত্তি। ইসরাইলি কোনো মন্ত্রী কোনো নারীর সাথে হ্যান্ডশ্যাক করা হতে বিরত থাকলে তারা চটে না, তারা বেজার হয় যদি কোনো মুসলিম হাত মেলানো হতে বিরত থাকে।’
ফ্রেঞ্চ ইসলাম
যে ফ্রান্স এখনো ধর্ম থেকে দূরে থাকা এবং রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে দূরে রাখা নিয়ে গর্ব করে, তারা প্রকৃত ইসলামের প্রচার-প্রসার করবে, তার চিন্তা করাও কঠিন।
ইসলামের বিরোধিতার জন্য তারা মূলত দুইভাবে কাজ করে। পরোক্ষভাবে–ইসলামিক যেকোনো অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক ব্যক্তিদের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মডারেশন করা। প্রশাসনের সাথে মুসলিম কমিউনিটির দৃঢ় বন্ধন তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ব্যবহারের চেষ্টা করা। প্রত্যক্ষভাবে–স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সেল মুসলিম কমিউনিটির সংগঠনের বিষয়ে ছাড়পত্র দেওয়া ।
অনেকে মনে করতে পারেন, সাম্প্রতিক সময়ের অস্থিরতার কারণে ফ্রান্স-প্রশাসন এ ব্যবস্থা নিয়েছে। না, তা নয়। এটা বরং বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে নেয়া পদক্ষেপ। ১৯৯৭ সালে সে সময়ের ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, যা ইসলামেকে ফ্রান্সের অনুকূলে নিয়ে আসবে। তিনি এক জনসভায় মুসলিমদের বলেন, ‘আমরা প্রতিষ্ঠান করতে চাই। আমরা ফ্রেঞ্চ ইসলামের প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’ ২০০৩ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজ ফ্রান্সের মুসলিমরা ফ্রেঞ্চ ইসলাম গ্রহণ করছে। এ ইসলাম তাদের বংশধররাও বহন করবে। আমরা এমন ইমাম চাই, যারা আমাদের সভ্যতা ধারণ করবে, আমাদের যুবকদের সাথে কথা বলতে পারবে ,আমাদের সাথে আমাদের ভাষায় কথা বলবে।’ ২০১৬ সালে মুসলিম প্রতিষ্ঠানে অমুসলিম প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেয়া হয়, যা মূলত ইসলামি জ্ঞানে পাণ্ডিত্য রাখেন এমন ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত।
ফ্রেঞ্চ ইসলামের ধর্মনিরপেক্ষ ধর্মীয় ইমাম
ফ্রান্সে নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের কুরুচিপূর্ণ কার্টুন প্রকাশের প্রেক্ষিতে শার্লি পত্রিকায় হামলার পর হাসান শালগমী নামে এক (ফ্রান্সিস) ইমামের বক্তব্য, ‘আমি খুব দুঃখিত, আমরা কীভাবে নির্দোষ মানুষকে হত্যা করতে পারি, এর কোনও অধিকার আমাদের নেই, আমি খুব দুঃখিত, আমি ক্ষতিগ্রস্থদের পরিবার এবং শার্লির পরিবারকে দেখেছি, আমি তাদের জন্য দুঃখ পেয়েছি।’
সবচে দুঃখের বিষয় হলো, তিনি সেসব হাতেগোনা ইমামদের অন্যতম, যারা ইসরাইলের বিজয়ের জন্য দোয়া করেন। বিভিন্ন উপলক্ষে ইসরাইল ভ্রমণ করেন। যেখানে অন্যান্য ইমামদের জন্য টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ, সেখানে তাঁকে সবাই আমন্ত্রণ জানায়। এমন আরো অনেক সতীর্থ আছে তাঁর। তাঁরা সৌজন্যবশত ও পারষ্পরিক আলোচনার পর হারাম খাবার খাওয়ার বৈধতার ফতোয়া দেন।
সন্দেহজনক ফ্রেঞ্চ ইসলাম
ইসলামের সাথে ফ্রান্সের সম্পর্ক বেশ প্রাচীন। কখনও সরাসরি সংঘাত, কখনও লিয়াজো-কেন্দ্রিক। এটা প্যারিসের বহুল চর্চিত পদ্বতি। নেপোলিয়ন মিশর দখল করা সত্ত্বেও নিজের নাম মুহাম্মাদ রেখে ইসলাম গ্রহণের কথা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাঁর দুরভিসন্ধি মিসরের আলেমদের নিকট গোপন করতে পারেননি। উপনিবেশিক দেশগুলোতে মুসলিমদের নির্মম নির্যাতনকারী জেনারেল হার্বার কিন্তু প্যারিসের সবচেয়ে বড় মসজিদের অর্থায়নকারী।
ওপরের তথ্যের আলোকে ফ্রেঞ্চ ইসলাম-প্রচারের মাধ্যম ‘ফ্রান্স ইসলামিক ফাউন্ডেশন’ নামক প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য, দিকনির্দেশনা এবং বার্তা ধর্মীয় বা ধর্মনিরপেক্ষ হোক, উপেক্ষা করা উচিত নয়। এই প্রকল্প সফল হতে পারে। আবার মুসলমানরা এতে জড়িত না বলে এটি ব্যর্থ হতে পারে। এখানে সবকিছুই সম্ভব। তবে সব ক্ষেত্রেই মুসলমান এবং পশ্চিমাদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক ও সভ্যতার যুদ্ধ একটি নতুন মোড় গ্রহণ করছে বলে মনে হয়।
