ভারতের বারাণসী বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দুত্ববাদী ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে মুসলিম শিক্ষকের পদত্যাগ

ভারতের বারাণসী বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দুত্ববাদী ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে মুসলিম শিক্ষকের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

ভারতের বারাণসী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতি বিদ্যা ধর্ম ভজন (এসভিডিভি) অনুষদে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগের মাসখানেক পর নিজের পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন ফিরোজ খান নামের এক মুসলমান শিক্ষক। তবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির কলা অনুষদে যোগ দিয়ে সংস্কৃতি পড়ানোর ইচ্ছা পোষণ করেছেন।

দেশটির ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়া টুডে ও দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়েছে, তার নিয়োগের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা অব্যাহত বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমনকি আমৃত্যু অনশনেরও হুমকি দেয়া হয়েছিল।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শিক্ষার্থী শাখা সর্বভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সদস্য ও কিছু শিক্ষার্থী গত ৭ নভেম্বর থেকে তার নিয়োগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছিলেন।

তাদের অভিযোগ, ওই শিক্ষক একজন মুসলমান। তাই সে তাদের ক্লাসে পাঠদানে অযোগ্য।

এরপর তাকে অপসারণে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ধর্ণা শুরু করেন তারা। অনুষদ বন্ধ ঘোষণার পরেও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে বলে খবরে বলা হয়েছে।

বিভাগীয় ডিন অধ্যাপক কুশালেন্দ্র পান্ডে বলেন, ফিরোজ খান পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি সংস্কৃতি বিভাগে পড়াতে ইচ্ছা পোষণ করেছেন।

এই অধ্যাপক আরও বলেন, কিছু কারণে তিনি এসভিডিভিতে যোগ দিতে পারেননি। কাজেই তিনটি সুযোগের মধ্যে তার সামনে এখন আরও দুটি রয়েছে।

এসভিডিভিতে প্রাচীণ ভারতীয় শাস্ত্র, সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট ডিগ্রিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। সমাজে তন্ত্র, জ্যোতিষবিদ্যা, আধ্যাত্মিকতা ও ধর্ম নিয়ে ভুল ধারণা দূর করতে ১৯১৮ সালে এই অনুষদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, একজন মুসলমান হিসেবে তিনি আমাদের ধর্ম ও ধর্মীয়গ্রন্থ পড়াতে পারেন না। কেবল হিন্দুরাই এই বিভাগের শিক্ষক হতে পারবেন। কাজেই তার নিয়োগ বাতিল করতে হবে।

প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিয়োগবিধি অনুসারেই ফিরোজ খানকে বারাণসী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ওই পদটিতে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যেই ফিরোজ খানই ছিলেন সবচেয়ে মেধাবী।

একদিন আগে শান্তিলাল সালভি নামের এক দলিত শিক্ষকের ওপর হামলা চালিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী। এসভিডিভি অনুষদে যে অল্প কয়েকজন শিক্ষক ফিরোজ খানকে সমর্থন জানিয়েছেন, শান্তিলাল তাদের একজন।

ওই মুসলমান শিক্ষকের ওপর অন্যায় আচরণের প্রকাশ্যে নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষার্থীরা তার ওপর পাথর নিক্ষেপ করলে এক বাইক চালকের সহায়তায় তিনি নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হন।

সালভি বলেন, অধ্যাপক পান্ডে শিক্ষার্থীদের মন বিষাক্ত করে তুলেছেন এবং তাদের উসকে দিয়েছেন। বহু বছর ধরে বর্ণবাদী ভাষায় তিনি আমাকে হয়রানি করে আসছেন।

আগের সংবাদনাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল ত্রিপুরা রাজ্যও, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ
পরবর্তি সংবাদরোহিঙ্গা গণহত্যা : আজ আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন সু চি