
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পর বিজেপি সরকারে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভে এবার শামিল হয়েছে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রোববার সন্ধ্যায় জামিয়া মিল্লিয়ায় পুলিশের আক্রমণের পর আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দিল্লির জামিয়া মিল্লিয়ার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে।
পুলিশ সেটি ছত্রভঙ্গ করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। তাতে প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী ও দশ পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ সব হোস্টেল খালি করে দেয়ার নির্দেশ দেয়। শহরে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়টি আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
মধ্যরাতে হায়দারাবাদের মাওলানা আজাদ উর্দু বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীও মধ্যরাতে দিল্লি পুলিশের সদর দফতরের সামনে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্যাতনের নিন্দা ও গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি জানায়।
পুলিশ বিক্ষোভকারী সংঘর্ষের পর ওই এলাকার মেট্রোরেল পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হয়, বন্ধ থাকে পাঁচটি স্টেশন। সড়কে চলাচলের গতিপথ বদলে দেয়া হয়। এক টুইট বার্তায় দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদা বলেন, ‘দক্ষিণপূর্ব জেলার জামিয়া, ওখলা, নিউ ফ্রেন্ডস কলোনি এবং মদনপুর খাদারের স্কুলগুলো আগামী সোমবার (আজ) বন্ধ থাকবে।’
অপর এক টুইট বার্তায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এই সহিংসতার নিন্দা করে লিখেছেন, ‘পুলিশ প্রধানের সঙ্গে কথা বলে স্বাভাবিক অবস্থা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে সকল পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছি। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সম্ভাব্য সব করার চেষ্টা করছি। প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’
প্রসঙ্গত, ভারতের ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে এ সংশোধনে গত সোমবার ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় একটি বিল (সিএবি) উত্থাপন করেন অমিত শাহ। ব্যাপক বিতর্কের পর সেদিন মধ্যরাতে বিলটি পাস হয়। এরপর গত বুধবার রাজ্যসভায়ও বিলটি পাসের পর রাষ্ট্রপতি গত বৃহস্পতিবার স্বাক্ষর করায় সেটি এখন আইন।
নতুন এই আইন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ ২০১৫ সালের আগে প্রতিবেশী পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে ‘ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার’ হয়ে যেসব অমুসলিম (হিন্দু, শিখ, খ্রিষ্টান, জৈন, পারসি ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা) ভারতে গেছেন তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেয়া হবে।
বিরোধী দলের এমপিরা পার্লামেন্টে মোদি সরকারের প্রস্তাবিত এ বিলটিতে আপত্তি জানালেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি পাসে কোনো বেগ পেতে হয়নি সরকারকে। বিরোধীরা বলছেন, নতুন আইনের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের নাগরিক সুরক্ষাকে উপেক্ষা করা হবে, যা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্য আসামসহ উত্তরপূর্ব ভারতে বিক্ষোভকারীদের দাবি, আইনটির মাধ্যমে অন্য দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা সহজেই এ দেশের (ভারতের) নাগরিকত্ব পাবেন। তাতে সংকটে পড়বেন আদি বাসিন্দারা। তবে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, আইনটিতে উত্তরপূর্বের অনেকটা অংশই বাদ দেয়া হয়েছে।
