টার্গেটে ভারতীয় মুসলিম: ঊনিশ সালে হিন্দুত্ববাদের চার আঘাত

টার্গেটে ভারতীয় মুসলিম: ঊনিশ সালে হিন্দুত্ববাদের চার আঘাত

হামমাদ রাগিব : 

ভারতীয় মুসলমানদের জন্য বিদায়ী বছর ২০১৯ সাল বৈষম্য ও অধিকার-বঞ্চিতির একটি বছর। হিন্দুত্ববাদের টানা চারটি আঘাত ভারতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস-প্রশ্নে তাঁদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তা ও শংকার তুমুল এক সংকটে ফেলে দিয়েছে।

প্রথমত মুসলিম বিশ্বাস-বিরোধী তিন তালাক নিষিদ্ধ করে আইন পাশ, দ্বিতীয়ত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংবলিত ধারা সংবিধান থেকে বিলুপ্ত করে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে দ্বিখণ্ডিতকরণ ও কাশ্মীরিদের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়া, তৃতীয়ত বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের রায় এবং সর্বশেষ মুসলিম-বিরোধী বৈষম্যমূলক সংশোধিত নাগরিক আইন পাশ করে ভারতীয় মুসলমানদের চূড়ান্ত বৈষম্য ও বিপদের মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে চলতি বছরে।

চারটি আঘাতই করা হয়েছে বছরের শেষার্ধে এসে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে; ক্ষমতাসীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তির মদদ ও সরাসরি পৃষ্ঠপোষণে। ক্ষমতাসীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল টানা দ্বিতীয় বারের মতো ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই এই আঘাতগুলো করা হয়েছে।

১. তিন তালাক নিষিদ্ধের আইন

হানাফি মাজহাব মতে স্ত্রীকে একসাথে তিন তালাক প্রদান করলে ওই মহিলার সাথে তালাক প্রদানকারীর বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং মহিলা অন্যকোনো পুরুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে শারীরিক সম্পর্কের পর ঘটনাক্রমে ওই দ্বিতীয় স্বামীও তাঁকে তালাক প্রদান করে বিবাহবিচ্ছেদ করলে তবেই প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যাবে। অন্যথায় ওই মহিলার সঙ্গে প্রথম স্বামীর পুনরায় বিয়ে হারাম।

কিন্তু ভারতীয় পার্লামেন্টে একসঙ্গে তিন তালাক প্রদানের এই মাসআলার সম্পূর্ণ উল্টো একটি বিল পাশ করানো হয় চলতি বছরের জুলাই মাসে। জুলাই মাসের ২৫ তারিখ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় এবং ২৯ তারিখ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় মুসলিম উইমেন (প্রোটেকশন অব রাইটস অন ম্যারেজ) বিল (যা তিন তালাক বিল নামে প্রসিদ্ধ) নামক এই বিলটি পাশ করানো হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি তাতে সাক্ষর করলে বিলটি আইনে পরিণত হয়।

এই আইন অনুযায়ী ভারতীয় কোনো মুসলিম যদি তাঁর স্ত্রীকে একসঙ্গে তিন তালাক প্রদান করে, তাহলে এই তালাক গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এটা তার ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হবে। এর জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর তাকে জেল খাটতে হবে এবং তিন তালাক দেওয়া স্ত্রীর সঙ্গে তাকে সংসার করতে হবে।

তিন তালাক বিল পাশ হবার পর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দসহ ভারতের সকল মুসলিম সংগঠন ও নেতৃত্ব এর তীব্র প্রতিবাদ ও বিরোধিতা করেন। মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এ আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রীম কোর্টে আপিলও করে। আপিলে আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বলা হয়, তিন তালাক নিষিদ্ধ আইনটি একটি স্বেচ্ছাচারী আইন। সংবিধানের ১৪,১৫,২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হানাফি মুসলিমদের ব্যক্তিগত আইনে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ। তাছাড়া তিন তালাক নিষিদ্ধ আইনটি একটি ফৌজদারি আইন। এ আইন লঙ্ঘন করে অর্থাৎ তিন তালাক একসঙ্গে দিয়ে দিলে স্বামীর তিন বছরের জেল হতে পারে। আর আইনের প্রাথমিক নীতি হল—শাস্তি সংক্রান্ত আইন স্বচ্ছ এবং সঠিক হতে হয়। কিন্তু এখানে তা অনুপস্থিত।

কিন্তু এতদসত্ত্বেও আইনটি এখনও বহাল তবিয়তে আছে ভারতের আইনে। যা মুসলিম সমাজের ধর্মীয় ও পারিবারিক জীবনে ভারত রাষ্ট্রের অবৈধ ও অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবেই প্রতিভাত হয়েছে বিশ্ববাসীর কাছে।

২. জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল, দ্বিখণ্ডিত কাশ্মীর

জুলাই মাসে একদিকে যেমন তিন তালাক বিল পাশ করছিল বিজেপি সরকার, অপরদিকে যুগযুগ ধরে নিপীড়িত কাশ্মীরি মুসলমানদের আজাদির স্বপ্নে আগ্রাসনের শেষ পেড়েক বসানোর ইন্তেজাম করে। আগস্ট মাস শুরু হবার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতের জবর দখলে থাকা জম্মু-কাশ্মীরে বহিরাগত সকল মানুষকে তোড়জোড় করে সরিয়ে দেওয়া হয়। পর্যটকদের বারণ করা হয় কাশ্মীর প্রবেশে। উপত্যকাটি এম্নিতেই পৃথিবীর শীর্ষ সামরিক অঞ্চল, ভারত সরকার এই তোড়জোড়ের সময় অতিরিক্ত আরও কয়েক প্লাটুন সৈন্য পাঠায় সেখানে। সরকারি হিসাবে যদিও এর সৈন্যসংখ্যা নয় হাজার বলা হয়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বলেছে লক্ষাধিক সৈন্য সেসময়ে নতুন করে পাঠানো হয়েছে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে জানানো হয় কাশ্মীর সংক্রান্ত বিশেষ একটি ঘোষণা আসছে ৫ আগস্ট। তাই বাড়তি এই নিরাপত্তা সতর্কতা। কিন্তু ঠিক কী ঘোষণা আসছে, তা কেউই আঁচ করতে পারেনি। অবশেষে আসে সেই ৫ আগস্ট। ভারতের রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ নির্দেশনামাটি পড়ে শোনান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহা। এতে প্রায় ৭০ বছর আগে ভারতীয় সংবিধানে কাশ্মীরকে দেয়া বিশেষ মর্যাদা সংবলিত ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের নির্দেশনা দেয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে ভারতের জবর দখলে থাকা জম্মু-কাশ্মীর এতদিন যে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসছিল, তা বিলুপ্ত হয়ে যায়।

এ আইন পাশ হবার পর বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। সচেতন মানুষেরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান। সেই সঙ্গে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে কাশ্মীরি জনগণ। কাশ্মীরের সকল রাজনৈতিক নেতা এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু তাদের প্রত্যেককেই গৃহবন্দী করে রাখে দখলদার ভারত। মিলিটারিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে আসে কাশ্মীরি জনগণ। কিন্তু তাদেরকেও গণহারে গ্রেপ্তার করে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশির নামে নানা ধরনের হেনস্তা করে মিলিটারিরা। শহিদ করা হয় অনেককে।

এ সবই হচ্ছিল কাশ্মীরকে কঠিন কারফিউর মাধ্যমে অবরুদ্ধ করে। ইন্টারনেট-মোবাইল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল পুরো উপত্যকায়, বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব ধরনের প্রতিষ্ঠান। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদেরও সেখানে স্বাধীনভাবে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। টানা একমাস জুড়ে কী ঘটেছিল কাশ্মীরে, কত মানুষের প্রাণ বিসর্জিত হয়েছে, কত মাবোনের ইজ্জত খোয়া গেছে, নিপীড়নের শিকার হয়েছেন কত লাখ মানুষ, তার কোনো কিছু বহির্বিশ্বকে জানতে দেয়নি ভারতীয় আগ্রাসনবাদীরা।

৫ আগস্ট বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে দ্বিখণ্ডিত করে কেড়ে নেওয়া হয় তার পৃথক রাজ্যের মর্যাদাও। এ জন্য ৫ আগস্ট রাজ্যসভায় এবং ৬ আগস্ট লোকসভায় পাশ করা হয় ‘জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য পুনর্গঠন আইন ২০১৯’। রাষ্ট্রপতি ৯ আগস্ট তাতে সাক্ষর করেন। ৩১ অক্টোবর ২০১৯ থেকে নতুন এ আইন কার্যকর হয়। নতুন আইন অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীর থেকে কারগিল ও লাদাখকে আলাদা করে তৈরি করা হয় ‘লাদাখ’ নামের নতুন এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যেখানে কোনো বিধানসভা থাকবে না। অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীর উপত্যকার বাকি অংশও গণ্য হবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে, যদিও সেখানে বিধানসভা থাকবে। দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই পরিচালনা করবেন দুইজন ল্যাফটেনেন্ট গভর্নর।

৩১ অক্টোবর ২০১৯ ভারতের জবর দখলে থাকা জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়৷ আর এর মধ্য দিয়ে কাশ্মীরি মুসলমানদের আজাদির স্বপ্নে পরাধীনতার শেষ পেরেকটি বসিয়ে দেয় হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসী শক্তি। কিন্তু এরপরও কাশ্মীরি জনগণের অতীত বলে, তারা তাদের আজাদির স্বপ্নকে মলিন হতে দেবে না, এই আগ্রাসনী সিদ্ধান্ত থেকে বরং তারা আরও বলীয়ান হবে নিজেদের আজাদির স্বাদ আস্বাদন করতে।

৩. বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের রায়

ভারতের অযোধ্যায় অবস্থিত কয়েক শতাব্দী পুরনো ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির ছিল এবং এটা রামের জন্মভূমি দাবি করে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর মসজিদটি ভেঙে ফেলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর উগ্র ও হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীরা। আজকের বিজেপিও ছিল সেই মসজিদ ভাঙার নির্মম কাণ্ডে। তারপর এই জায়গার দখল নিয়ে হিন্দু উগ্রবাদী ও মুসলিমদের মধ্যে আদালতে দীর্ঘ লড়াই চলতে থাকে। অবশেষে চলতি বছরের ৯ নভেম্বর নানামাত্রিক যৌক্তিক আপত্তি ও প্রশ্নকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার রায় ঘোষণা করে। যা স্পষ্টতই একপাক্ষিক এবং ভারতীয় মুসলিমদের ওপর হিন্দুত্ববাদী শক্তির নতুন ও তীব্র আঘাত বলেই বিবেচিত হয়েছে সচেতন ও বিবেকবান মানুষদের কাছে।

সুপ্রিম কোর্টের সেই রায় অনুযায়ী, বাবরি মসজিদ যে জায়গায় ছিল সেটা-সহ মসজিদের অধিভুক্ত ২ দশমিক ৭ একর জমি হিন্দুদেরকে দিয়ে দেওয়া হবে মন্দির নির্মাণের জন্য। আর অযোধ্যায় বিকল্প কোনো স্থানে একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য মুসলমানদের দেয়া হবে ৫ একর জমি।

অথচ আদালত নিজেই স্বীকার করেছে, মসজিদের নিচে একটি কাঠামো ছিল ঠিকই, কিন্তু সেটা যে কোনো মন্দিরের কাঠামো ছিল, তা প্রমাণিত নয়। তাহলে কীসের ভিত্তিতে পুরনো প্রাচীন এ মসজিদের জায়গা মন্দিরের জন্য দেওয়া হলো, এ প্রশ্ন তুলেছেন খোদ ভারতেরই সচেতন নাগরিকেরা৷

এ রায়কে চ্যালেঞ্জ করে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দসহ ১৮টি পক্ষ আপিল করেছিল, কিন্তু চলতি মাসে সবকয়টি আপিলকেই খারিজ করে দেওয়া হয়েছে কোনো বিবেচনা ছাড়াই। এর মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে হিন্দুত্ববাদী শক্তি কতটা প্রভাব ও প্রতিপত্তির সঙ্গে ঝেঁকে বসেছে ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায়।

৪. মুসলিম-বিরোধী সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন

বছরের একদম শেষ সময়ে এসে, ১৩ ডিসেম্বর, ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার আরেকটি আঘাত হেনেছে ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদের ওপর। যে আঘাতে ভারতীয় মুসলিমদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশগ নাগরিকত্ব হারানোর প্রবল ঝুঁকিতে নিপতিত হয়েছেন।

গত ১৩ ডিসেম্বর ভারতের লোকসভায় বিজেপি সরকার দেশটির নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন এনে ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব বিল ২০১৯’ পাশ করিয়ে নেয়। তারপর রাজ্যসভায়ও পাশ হয় বিলটি এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি তাতে সাক্ষর করলে বিলটি আইনে পরিণত হয়। আইনটিতে যে সংশোধনী আনা হয়েছে, তার ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে যে সমস্ত হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-জৈন-পারসি ধর্মাবলম্বী ভারতে প্রবেশ করেছেন তাদেরকে ভারত কোনো বাধা ছাড়াই নাগরিকত্ব প্রদান করবে। কিন্তু মুসলমানদের বেলায় এই সুযোগ রাখা হয়নি। তাছাড়া আসামের মতো পুরো ভারতেই এনআরসি বা জাতীয় নাগরিক পঞ্জির তালিকা করা হবে কয়েক বছরের মধ্যে।

এই তালিকায় নাম উঠাতে গেলে অমুসলিম জনগোষ্ঠীকে ২০১৪-এর ডিসেম্বরের আগে ভারতে তাদের বসবাস প্রমাণ করলেই যথেষ্ট হবে। কিন্তু মুসলিমদেরকে সংশোধিত নাগরিক আইন অনুযায়ী ১৯৫২ সালের আগে নিজেদের বাপ-দাদাদের অবস্থান ভারতে ছিল এবং এখানে তাদের জমিজমা ছিল, তা প্রমাণ করতে হবে। নইলে তারা বহিরাগত এবং অনাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন।

স্বাভাবিকভাবেই অসংখ্য মুসলিম অশিক্ষা বা অন্যান্য নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে সেটা প্রমাণ করতে পারবেন না, ফলে তাদের শেষ ঠিকানা হবে ডিটেনশন ক্যাম্প। ইতিমধ্যে আসামেই এনআরসি থেকে বাদ পড়া ৬ লাখ মুসলিম আছেন, সংশোধিত নাগরিক আইনের কারণে যারা আর কোনোভাবেই নাগরিক পঞ্জিতে নাম ওঠাতে পারবেন না। পুরো ভারতে যখন এই তালিকা করা হবে, তখন এই সংখ্যা কত লাখে গিয়ে দাঁড়াবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই বিশাল সংখ্যক মুসলিমকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবার চেষ্টা করা হবে আবশ্যিকভাবে। আর তখনই দেখা দেবে মুসলিম গণহত্যা। ফলে সংশোধিত এই নাগরিক আইন পাশ হবার পর ভারত জুড়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যা এখনও চলমান। বিক্ষোভে বিজেপি সরকারের পুলিশ প্রশাসন বেধড়ক মারপিট ও গ্রেপ্তার করছে বিক্ষোভকারীদের। গুলিও চালাচ্ছে সরাসরি। ইতিমধ্যে বিশের অধিক বিক্ষোভকারীকে প্রাণ দিতে হয়েছে পুলিশের গুলিতে।

কিন্তু তীব্র এ বিক্ষোভের জেরে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাতিল করা কতটা সম্ভব হবে তা বলা যাচ্ছে না। এ আইন বাস্তবায়িত হলে অদূর ভবিষ্যতে ভারতের লাখ লাখ মুসলমানদের জীবন ভয়ানক এক দুর্বিষহতার দিকে ধাবিত হবে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

২০১৯ শেষ হচ্ছে, ভারতীয় মুসলমানদের জন্য যা বঞ্চনা ও বৈষম্যের একটি বছর। এ বছর হিন্দুত্ববাদের যে ভয়াবহ টার্গেটে পরিণত হয়েছেন তাঁরা, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় তা নিতান্তই আশঙ্কাজনক।

আগের সংবাদবৈশ্বিক শীর্ষ পাঁচ সূচকে মুসলিম বিশ্ব
পরবর্তি সংবাদঊনিশের মুসলিম  বিশ্ব : আলোচিত পনেরো ঘটনা