আফগান যুদ্ধ : মার্কিনীরা জীবন দিচ্ছে কীসের জন্য?

আফগান যুদ্ধ : মার্কিনীরা জীবন দিচ্ছে কীসের জন্য?

জ্যাকব জি হর্নবার্গার :

এইমাত্র আফগানিস্তানে যদি কোন মার্কিন সেনা নিহত হয়, যার পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি, সে যদি বিবাহিত হয়, তাহলে যখন ওই নিহত সেনাটির কফিন পতাকায় মোড়ানো হবে তখন তার স্বামী বা স্ত্রী ও সম্ভাব্য সন্তানদের মার্কিন কর্মকর্তারা কি বলে সান্তনা দেবেন তা আমি ভেবে পাইনা। তারা কি এসব কথা বলবেন, ‘সে আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে গিয়ে জীবন দিয়েছে’ অথবা ‘সে মারা গেছে আফগানিস্তানের স্থায়ী স্বাধীনতার জন্য’ অথবা ‘সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত হয়েছে’ বা ‘দেশপ্রেমিক হিসেবে সে জীবন দিয়েছে’।

তারা যেটাই বলুন না কেন সেটা মিথ্যা কথা। আফগানিস্তানে একেবারে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মিথ্যার উপর পুরো সামরিক পর্বটি চলছে। এটা যে পুরোপুরি মিথ্যা তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টে গোপন সামরিক নথিপত্র প্রকাশ করে দেয়ার পর এসব নথি আমেরিকাবাসীর কাছে গোপন রাখতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করেছে পেন্টাগন।

আমার মনে হয় তারা ওই বিধবা ও তার সন্তানদের বলতে পারতো যে ‘সে মারা গেছে মিথ্যাকে রক্ষা করার জন্য।’ তবে এটা বেশ বোকার মতো কাজ হতো। আমি মনে করি সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য বিবৃতি হতো, ‘সে অকারণে মারা গেছে’। হ্যা, এটা কঠোর শোনায়, তবুও এটাই সবচেয়ে কম সত্যি। সত্য কি মিথ্যার চেয়ে ভালো নয়, সেটা তিক্ত হলেও?

ওই সৈনিকের মৃত্যু অবশ্যই বহু ভালো প্রশ্নের জন্ম দেয়: আমাদের ১২০০০-১৪,০০০ সেনা আফগানিস্তানে কি করছে? এরপর তাদের যে কেউ অকারণে মারা যেতে পারে।

প্রায় ১৯ বছর ধরে দেশটি দখল করে আছে পেন্টাগন ও সিআইএ। মর্কিন সেনারা নিহত ও মারা যাওয়ার জন্য এটা কি দীর্ঘ সময় নয়?

গত বছর, আমাদের ১৯ সেনা আফগানিস্তানে কমব্যাট অপারেশনে নিহত হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে এই সংখ্যা ছিলো সবচেয়ে বেশি। অথচ ২০১৪ সালেই পেন্টাগণ বুক ফুলিয়ে ঘোষণা করেছিলো যে দেশটিতে আমাদের কমব্যাট অপারেশনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে।

ও হ্যা, আমি মনে করি মার্কিন সেনা ও তাদের পরিবারদের উচিত হবে তাদের উপর আশীর্বাদের হিসাব করা। আফগানিস্তানে অকারণে ২,৪০০-এর বেশি মার্কিন সেনা নিহত হলেও সেই সংখ্যাটি ভিয়েতনামে নিহত ৫৮,০০০-এর সেনা সংখ্যার কাছাকাছি পৌছাতে পারেনি।

সূত্র :সাউথ এশিয়ান মনিটর

আগের সংবাদআর্টের নামে নির্লজ্জতা, দুঃখ প্রকাশ করলেন ‘হিউম্যান ডগ’ পারফর্মের আর্টিস্ট
পরবর্তি সংবাদ‘থার্টি ফার্স্ট নাইটে নিষিদ্ধ সব ধরনের অনুষ্ঠান’