খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জুব্বা-রুমালকে বাংলাদেশের সংস্কৃতির পরিপন্থী পোষাক ঘোষণা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জুব্বা-রুমালকে বাংলাদেশের সংস্কৃতির পরিপন্থী পোষাক ঘোষণা

ফাতেহ ডেস্ক:

সম্প্রতি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগ ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের শেষ ক্লাসে মাথায় লাল রুমাল এবং গায়ে সাদা জুব্বা পরে উপস্থিত হবার জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে পরোক্ষভাবে জুব্বা ও রুমালকে বাংলাদেশের সংস্কৃতির পরিপন্থী পোষাক হিসেবে উল্লেখ করে ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই পোষাক পরিধান করায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে বলে জানানো হয়।

কুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলরের নির্দেশক্রমে রেজিস্ট্রার জি এম শহিদুল ইসলাম ও সহকারী রেজিস্ট্রার দেবাশীষ মন্ডল সাক্ষরিত ০১-০১-২০২০ ইংরেজি তারিখের ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এতদ্বারা অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে কিছু নির্দিষ্ট পোষাক পরিধান করে শোভা বা র্যালিতে অংশগ্রহণ করছে, যা বাংলাদেশের সংস্কৃতির পরিপন্থী বিধায় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর, সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বা বিভাগীয় প্রধানগণের নিকট হতে পোষাক সংক্রান্ত মতামত গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো এবং এ বিষয়ে ছাত্রকল্যাণ দপ্তর/ সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট/ সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান ও সকল শিক্ষকগণকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগ ১৫ ব্যাচের ছাত্ররা তাদের শেষক্লাসে উপস্থিত হয়েছিল একদমই ধর্মীয় লেবাসে। মাথায় আরবীয় ফ্যাশনের লাল রুমাল, গায়ে জুব্বা। সবার চোখে ছিল সানগ্লাস। অন্যরকম পোশাক আর নৃত্যের বদলে আরবীয় জুব্বা এবং পাগড়ি পরে তারা স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছে দিনটি।

কিন্তু তাদের ছবিগুলো সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় সেকুলার এক্টিভিস্টদের বিষোদগার। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে ইসলামি পোশাক পরায় সমালোচনার ঝড় বইয়ে দেয় তারা।

সমালোচনা করে কেউ বলছেন, কেবল পোশাক পরার জন্য এই পোশাক বেছে নিতে হবে কেন? রুমাল দিয়ে মুখ ঢাকা ছবি উগ্রতাবাদের আভাস দেয়।

কেউ বলছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এই পোশাক পরতে চায় কেন?’ কেউ কেউ আগ বাড়িয়ে তাদের জঙ্গিদের কাতারেও দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে।

তবে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। তারা বলছেন, অশ্লীল র‍্যাগ ডে পালনের বিকল্প হিসেবে এমন শালীন পোশাকেও যে উৎসব করা যায়, কুয়েটের ছাত্ররা তা দেখিয়ে দিল। পোশাক পরার স্বাধীনতা সবারই আছে। ৯০ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে এই পোশাক পুরো মানানসই।

আগের সংবাদহেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে তাইওয়ানের সেনাপ্রধানসহ ৮ সামরিক অফিসার নিহত
পরবর্তি সংবাদভারতকে গতবছরের বিমান তছনছ ও পাইলট আটকের ঘটনা ভুলে না যাবার পরামর্শ দিলো পাকিস্তান