‘দৈনিক বিশ্ব ইজতেমা’: দেশজুড়ে ইজতেমার ধ্বনি

‘দৈনিক বিশ্ব ইজতেমা’: দেশজুড়ে ইজতেমার ধ্বনি

রেদওয়ান বিন মোর্তজা:

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আজ রোববার সমাপ্ত হলো টঙ্গী ময়দানের ৫৫ তম বিশ্ব ইজতেমা। বিদায়ী করুন সুর। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাসহ সারা দেশ থেকে ছুটে এসেছিলেন অসংখ্য অগণিত মুসল্লি এবারের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেছেন।

একটা সময় ছিল যখন মানুষ ভাবতো, বড়দের মুখনিঃসৃত মুক্তোঝরা ইজতেমার এই বয়ানগুলো লেখার হরফে যদি পাওয়া যেত। কালের পরিক্রমায় আজ সে স্বপ্ন ও কল্পনা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। ঢাকাসহ গোটা দেশে আজ ঝকঝকে লেখার হরফে কাগজের পাতায় মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যাচ্ছে ইজতেমার ধ্বনি। উপলক্ষ একটাই– ইজতেমাকে কেন্দ্র করে একটি দৈনিক প্রকাশ হওয়া। আর তা হলো- ‘বাংলাদেশ জাতীয় তাফসীর পরিষদ’ কর্তৃক প্রকাশিত ও প্রচারিত ‘দৈনিক বিশ্ব ইজতেমা’

২০১৫ সালে মাত্র ১২ জন উদীয়মান তরুণ লেখক ও সাংবাদিকের প্রচেষ্টায় শুরু হয় দৈনিক বিশ্ব ইজতেমার পথচলা। পত্রিকা প্রকাশের প্রথম বছরই এটি ব্যাপক সাড়া ফেলে পাঠকমহলে। ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পাঠক পত্রিকা অফিসে ফোন করে এবং মেইল করে কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সাধুবাদ জানায় এবং তাদের জোর দাবি ছিল এ পত্রিকাটি যাতে প্রতিবছর ইজতেমার সময় প্রকাশিত হয়।

বিপুল পাঠকপ্রিয়তাকে স্বাগত জানিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পত্রিকাটি টিকিয়ে রাখে কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে পত্রিকাটি সাধারণ মানুষ এবং আলেম সমাজের আস্থা অর্জন করেছে। বর্তমানে এটি ইজতেমা কেন্দ্রিক একমাত্র জনপ্রিয় ও বহুল প্রচারিত পত্রিকা।

প্রতিষ্ঠার শুরুর গল্প জানতে চাইলে দৈনিক বিশ্ব ইজতেমার সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ বলেন, ‘আমরা শুরুতে ১২ জন উদ্যোক্তাসহ মোট ৮০ জনের একটি লেখক, প্রতিবেদক, প্রুফ রিডার ও সম্পাদকদের সমন্বিত টিম পত্রিকাটি শুরু করি। তখন বাজারে এ সংক্রান্ত আরো কয়েকটি পত্রিকা ছিল। কালের আবর্তে আজ সবই হারিয়ে গেছে। আল্লাহর রহমতে আমরা এখনো টিকে আছি।’

দৈনিক বিশ্ব ইজতেমার এই বিপুল পাঠকপ্রিয়তার নেপথ্যের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বরাবরই পাঠকদের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করেছি এজন্য পাঠক আমাদের ভালোবাসে।’

সালমান সাঈদ নামক এক তাবলীগের সাথীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘দৈনিক বিশ্ব ইজতেমার ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে আমাদেরকে পত্রিকা সংগ্রহের জন্য হকারের কাছে কাড়াকাড়ি পর্যন্ত করতে হয়।’

পত্রিকাটি এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে ভারত, পাকিস্তানসহ আরববিশ্বে যাচ্ছে বলে জানান পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হাবীবুল্লাহ সিরাজ। তবে সময়ের অভাবে বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় অনুবাদ করে পত্রিকাটি প্রকাশ করা এখনো সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তাই বাংলা ভার্সনই সংগ্রহ করে নিচ্ছেন সেসব দেশের বাঙালি পাঠকরা। চলমান ২০২০ সালের ৫৫ তম ইজতেমায় পত্রিকাটি হয়ে উঠেছে আরও বর্ণীল ও সৃজনশীল। দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রতিবছর পত্রিকাটির প্রকাশ অব্যাহত থাকুক এই কামনা পাঠক মহলের।

আগের সংবাদপ্রতিরোধের বিকল্প প্রকল্প: বিদ্রুপ যখন স্বৈরাচার মোকাবেলার প্রধান অস্ত্র
পরবর্তি সংবাদআলমি শুরার বিশ্ব ইজতেমায় মানুষের ঢল: সাদপন্থীরা যেভাবে দেখছে