আলমি শুরার বিশ্ব ইজতেমায় মানুষের ঢল: সাদপন্থীরা যেভাবে দেখছে

আলমি শুরার বিশ্ব ইজতেমায় মানুষের ঢল: সাদপন্থীরা যেভাবে দেখছে

মুসান্না মেহবুব:

আজ রোববার দুপুরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগ তীরে সমাপ্ত হলো তাবলিগ জামাতের আলমি শুরার সাথিদের তত্ত্বাবধানে ৫৫ তম বিশ্ব ইজতেমা। আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি একই ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে সাদপন্থীদের ইজতেমা। আলমি শুরার তত্ত্বাবধানে এবারের ইজতেমায় মুসল্লিদের ঢল নেমেছিল। নতুন করে বর্ধিত পরিসরে ১৬০ একর আয়তনের সুবিশাল ময়দান কানায় কানায় ভরে গিয়েছিল ইজতেমা শুরুর দুদিন আগেই। ইজতেমার আগের দিন যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের অনেকেই ময়দানে জায়গা পাননি। ফলে ময়দানের আশপাশের রাস্তাগুলোর ফুটপাত, টঙ্গী ও উত্তরা এলাকার মসজিদ মাদরাসা স্কুল কলেজ ও ফাঁকা মাঠে অবস্থান নিয়েছিলেন অসংখ্য মুসল্লি। ইজতেমায় নিয়মিত অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, এবারের ইজতেমায় স্মরণকালের মধ্যে সবেচেয়ে বেশি মানুষের সমাগম ঘটেছিল।

তাবলিগের বিবাদমান দুই পক্ষ গত বছর থেকে আলাদাভাবে ইজতেমা করছেন। আলমি শুরার গতবারের ইজতেমায়ও মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। বিপরীতে সাদপন্থীদের ইজতেমায় ময়দানের অনেকগুলো অংশ ফাঁকা পড়ে ছিল। আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারির ইজতেমায় বর্ধিত পরিসরের ময়দান মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কতটা পূর্ণ হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

আলমি শুরার এবারের ইজতেমায় মুসল্লিদের যে ঢল নেমেছিল, তা ভালোভাবে নেননি তাবলিগের বিতর্কিত ও একাংশের আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা। আলমি শুরার এবারের ইজতেমার জনস্রোত ও সফলতা নিয়ে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অনেকগুলো আপত্তি তুলেছেন।

আগত মুসল্লিদের ৭০ ভাগ মাদরাসাছাত্র!

সাদপন্থীরা দাবি করছেন ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের অধিকাংশই মাদরাসার ছাত্র। সাদপন্থীদের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত তাবলিগ নিউজ বিডি ডটকম নামে একটি পোর্টালে এমনটাই দাবি করেছেন সাদপন্থীদের একাধিক সাথি। ১০ জানুয়ারি শুক্রবার প্রকাশিত পোর্টালটির একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এবারের ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীদের ৭০ ভাগ মাদরাসার ছাত্র। কিন্তু নির্ভরযোগ্য কোনো জরিপের ভিত্তিতে তারা এ পরিসংখ্যান উল্লেখ করতে পারেননি। বরং অপরিচিত এক জিম্মাদার সাথির অনুমানের ওপর নির্ভর করে এই দাবি করা হয়েছে। ডা. শাহাদত হোসেন নামক ওই ব্যক্তি তাবলিগের কেন দায়িত্বের জিম্মাদার, তাও উল্লেখ নেই। ডা. শাহাদাত ওই প্রতিবেদনে দাবি করেন, মাঠের ভেতরের বড় অংশ মাদরাসার ছাত্র। তাদের সংখ্যা ৬০/৭০ ভাগ হবে। সাধারণ মানুষের সংখ্যা ২০ ভাগ। আর তাবলিগ জামাতের কর্মী ১০ ভাগ।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মাদরাসার ছাত্ররা প্রতি বছরই ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেন। এটা অনেকদিন ধরে চলে আসছে। তাবলিগের বিবাদের আগেও মাদরাসার ছাত্ররা ব্যাপকভাবে অংশ নিতেন। নিয়মমাফিক এবারের ইজতেমায়ও মাদরাসাছাত্ররা যেমন অংশগ্রহণ করেছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাবলিগের সাথি ও সাধারণ মুসল্লিরাও ব্যাপকভাবে উপস্থিত হয়েছেন।

৪৫০ বিদেশি নিয়ে আন্তর্জাতিক মান হারিয়েছে ইজতেমা!

সাদপন্থীদের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত ওই পোর্টালটিতে ১১ জানুয়ারি শনিবার আরও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ইজতেমা শুরুর আগের দিন যুগান্তরে প্রকাশিত একটি নিউজের সূত্রে বলা হয়েছে আলমি শুরার ইজতেমায় মাত্র ৪৫০ বিদেশি মেহমান এসেছেন! অথচ এটা ছিল ৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবারের হিসাব। ইজতেমার শুরুর দিন এবং তারপরে আরও সহস্রাধিক বিদেশি ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেছেন বলে গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে।

তবে প্রতিবেদনটিতে ‘আশাবাদ’ ব্যক্ত করে বলা হয়, আসন্ন সাদপন্থীদের ইজতেমায় ১০ হাজারেরও বেশি বিদেশি মেহমানের সমাগম ঘটবে।

এদিকে আলমি শুরার বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের বাঁধভাঙা স্রোত প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সাদপন্থী আলেম মুআজ বিন নূরের দাবি করেছেন এই আধিক্যের কারণ মাদরাসাছাত্র। তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে অনেক লোক হয়েছে, এটা সত্য। বাংলাদেশে ২০ হাজার কওমি মাদরাসা আছে, সে হিসেবে প্রতি মাদরাসা থেকে গড়ে ২০ জন ছাত্র এলেও উপস্থিতি ৪ লক্ষে গিয়ে পৌঁছে। অথচ মাঠের ধারণ ক্ষমতা ৩ লক্ষ। তাই ভিড় হওয়াই স্বাভাবিক।

আলমি শুরার সাথিদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ইজতেমা কোনো ভিড়ের নাম নয়, ইজতেমা হলো ‘ইত্তেহাদে কালিমা, ইজতেমায়ে ফিকির ও নগদ খুরুজে’র নাম। নাবালেগ বাবুরা এসবের কী বুঝে?

এ ছাড়া ইজতেমা শুরু হওয়ার আগে ও ইজতেমা চলাকালীন অব্যাহতভাবে তাবলিগ নিউজ বিডি ডটকম নামের ওই পোর্টালটিতে পরিকল্পিতভাবে প্রোপাগাণ্ডা চালানো হয় ওলামায়ে কেরাম ও ইজতেমাকে নিয়ে। নানাভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয় যে, আলমি শুরায় কেবল আলেম ও মাদরাসাছাত্রই আছেন, তাবলিগি সাথি ও সাধারণ মুসল্লিদের উপস্থিতি নেই।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চেয়ে সাদপন্থী একাধিক নেতার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

আগের সংবাদ‘দৈনিক বিশ্ব ইজতেমা’: দেশজুড়ে ইজতেমার ধ্বনি
পরবর্তি সংবাদসীমান্তে হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বেগ প্রকাশ