ধর্ষককে ক্রসফায়ারে হত্যার দাবি জানিয়ে উত্তাল সংসদ

ধর্ষককে ক্রসফায়ারে হত্যার দাবি জানিয়ে উত্তাল সংসদ

ফাতেহ ডেস্ক :

ধর্ষককে সরাসরি ক্রসফায়ারে হত্যার দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এমন দাবি জানান।

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আমি মানবাধিকার কর্মীদের বলবো, আপনারা যদি ধর্ষণের শিকার হতেন, আপনার স্ত্রী, আপনার মা, আপনার বোন, কিংবা আপনার স্বজনদের কেউ যদি ধর্ষণের শিকার হতেন, তাহলে কী হতো? আমরা চাই অপরাধীদের দ্রুত বিচার। এতে কোনও আইন হবে না। এক মাসের মধ্যে বিচার করা যাবে না। রূপাকে মারলো। ভাই বগুড়া থেকে বাসে তুলে দিল, তাকে ধর্ষণ করে ঘাড় মটকে মেরে ফেলা হলো। পুলিশ সবাইকে গ্রেফতার করলো। সেদিন পুলিশ যদি এই পাঁচ জনকে গুলি করে মধুপুরে নিয়ে মারতো তাহলে পরে বাসে টাঙ্গাইলের পথে কেউ ধর্ষিত হতো না।’

একই দলের সংসদ সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, যে হারে ধর্ষণ বেড়েছে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েও নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলবো- মাদকের জন্য এত ক্রসফায়ার হচ্ছে, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে কেন একজনও বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়নি। সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, এই বিষয়টা সরকার যদি গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে কোনোক্রমেই এটা নিয়ন্ত্রণ হবে না।’

বক্তব্যের জন্য মুজিবুল হক চুন্নু এমপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সরকারি দলের সিনিয়র সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘তিনি একটা সুন্দর প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। কাজী ফিরোজ রশীদও সুন্দরভাবে বলেছেন। শিশুদের ওপর নির্যাতনের কথা বলেছেন। আমরা কি দয়া-মায়াহীন হয়ে গেলাম? মাদকের ব্যাপারে যদি সঙ্গে সঙ্গে ক্রসফায়ারে শেষ করে দেওয়া হয়, তাহলে মাদকের থেকেও জঘন্য ধর্ষণ। যে এই কাজ (ধর্ষণ) করেছে তার আর এই পৃথিবীতে থাকার কোনও অধিকার নেই।’

নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘আমি টুপি, দাড়ি মাথায় নিয়ে আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে বলছি, এদের ক্রসফায়ার করলে বেহেস্তে যাওয়া যাবে, কোনও অসুবিধা নাই।’

আগের সংবাদনির্ভয়ার দুই ধর্ষকের প্রাণভিক্ষার আর্জি খারিজ, ফাঁসি ২২ জানুয়ারি
পরবর্তি সংবাদমিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা, আইসিজে’র অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ২৩ জানুয়ারি