আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
সিএএ-এনআরসি নিয়ে আতঙ্কের বাতাবরণে ভোটার তালিকায় নিজের নাম সুনিশ্চিত করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ভারতে বিভিন্ন রাজ্যের অধিবাসীরা। ১৬ ডিসেম্বর শুরু হওয়া ভোটার তালিকা সংশোধনে অংশগ্রহণকারী নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৩ লক্ষ, যা সর্বকালীন রেকর্ড।
নাগরিকত্ব নিয়ে আতঙ্ক থেকেই ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের হিড়িক পড়ে গিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যাদের ভোটার তালিকায় বা ভোটার কার্ডে কোনও ভুল রয়েছে, তারা সংশোধনের জন্য আবেদন করেছেন। সেই সংখ্যাও অতীতের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে। তবে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন প্রায় তিন লক্ষ জমা পড়লেও, প্রতিটি ক্ষেত্রে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও)-কে বারংবার যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ হবে, তাঁরাই ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ছ’নম্বর ফর্মে আবেদন করতে পারবেন। সেই আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ লক্ষের বেশি। যা অতীতে কখনও হয়নি। একইরকমভাবে রেকর্ড হয়েছে নাম সংশোধনের জন্য আট নম্বর ফর্ম জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও। ২৩টি জেলা থেকে আসা হিসেব অনুযায়ী, সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ লক্ষের বেশি।
আবার নাম বাদ দেওয়ার আবেদন, সাত নম্বর ফর্ম জমা পড়েছে প্রায় তিন লক্ষ। নাম পরিবর্তন করার আবেদন জমা পড়ার সংখ্যাও কম নয়। এনআরসি আতঙ্কে অনেক নাগরিক তাঁর পরিচয়পত্র পরিবর্তনের আবেদন করেছেন। এপিক ০০১ ফর্ম পূরণ করে সেই আবেদন করতে হয়। সব মিলিয়ে ভোটার তালিকায় সংশোধনের জন্য আবেদনপত্র জমা পড়েছে প্রায় ৭৩ লক্ষ।
এর আগে আবেদনের সর্বাধিক সংখ্যা ছিল ৪০ লক্ষ। সাধারণত বিধানসভা ভোটের বছরে ফর্ম জমা দেওয়ার সংখ্যা বেশি পড়ে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এখনও দু’দিন বাকি। ফলে আবেদনপত্রের সংখ্যা বেড়ে ৭৫ লক্ষ হতে পারে বলে কমিশনের কর্তারা অনুমান করছেন। প্রতিটি আবেদনের শুনানি হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা বাদে বাকি সব জেলায় আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে সেই শুনানি পর্ব শেষ করতে হবে। ৭ ফেব্রুয়ারি নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। একমাত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি। নতুন নাম তোলার ক্ষেত্রে এবং ভোটার কার্ড পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন রঙিন, স্মার্ট ভোটার কার্ড পাবেন। নাগরিকত্ব আইন চালু হওয়ার আগে ভোটার তালিকায় নাম থাকাটা অন্যতম হাতিয়ার বলে মনে করছেন রাজ্যবাসী। সে কারণেই সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে সংশোধনের আবেদন।
