যৌতুকের পুরো টাকা না দেওয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যা

ফাতেহ ডেস্ক :

গাজীপুরের টঙ্গীতে যৌতুকের টাকা বাকি রাখায় এক গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরের বিরদ্ধে। এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি সারোয়ার হোসেন বাবুসহ (৩০) তিনজনকে আশুলিয়ার জামগড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১।

আজ শনিবার র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল এসব কথা জনিয়েছেন। তিনি জানান, গত ১৬ জানুয়ারি রাতে টঙ্গীর শিলমুন পূর্ব পাড়ার একটি ফ্ল্যাটে যৌতুকের দাবিতে সাথী (২৫) নামের এক গৃহবধূকে তার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরসহ শারীরিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।ওই মামলার সূত্র ধরেই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গতকাল ২৫ জানুয়ারি একটি অভিযান পরিচালনা করে সরোয়ার হোসেন বাবু (৩০), সালেহা বেগম (৪৫) ও সালাহ উদ্দিন (৩৫) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

র‍্যাব ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে সারোয়ার হোসেন বাবুর সঙ্গে পারিবারিকভাবে নিহত সাথীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সরোয়ার হোসেন বাবু ও তার পরিবারের লোকজন সাথীর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে এবং যৌতুকের টাকা না পেয়ে তারা ভিকটিমকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। তখন সাথীর বাবা সন্তানের সুখের কথা চিন্তা করে সারোয়ার হোসেন বাবুকে ২ লাখ দিলেও তারা বাকি টাকার জন্য সাথীকে নির্যাতন করতেই থাকে।

র‍্যাব ও পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সাথীর স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর তাকে যৌতুকের অবশিষ্ট টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিতে থাকে। তখন সাথী অবশিষ্ট টাকা আনতে পারবে না বলে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা সাথীকে ব্যাপক মারধর করে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে সাথীর স্বামী তার মা-বাবা ও ভাইয়ের সহযোগিতায় গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

আগের সংবাদকাশ্মীর নিয়ে সর্বাত্মক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইমরান খানের
পরবর্তি সংবাদছয় বছরে রাজনৈতিক সংঘাতে নিহত ৬৩৫