ফাতেহ ডেস্ক :
গত ছয় বছরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংঘাতে ৬৩৫ জন নিহত হয়েছেন৷ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব বিস্তারের অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে এসব ঘটনা ঘটে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা৷ যার শিকার হন সাধারণ কর্মী আর নাগরিকেরা৷
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে গত ছয় বছরে দেশে মোট তিন হাজার ৭১০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে৷ তাতে নিহত হয়েছেন ৬৩৫ জন, আহত ৪১ হাজার ৩৪৫ জন৷
আসক-এর হিসাবে, শুধু ২০১৯ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩৯ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন দুই হাজার ৬৮৯ জন৷ সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে মোট ২০৯টি৷ ২০১৮ সালে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল ৭০১টি৷ এতে ৬৭ জন নিহতের পাশাপাশি আহত হয়েছেন সাত হাজার ২৮৭ জন৷ ২০১৭ সালে নিহত হয়েছেন ৫২ জন আর আহত চার হাজার ৮১৬ জন৷ সে বছর রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে ৩৬৪টি৷ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক সংঘাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ২০১৬ সালে৷ মোট ১৭৭ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৪৬২ জন৷ সংঘাতের ঘটনা ছিল ৯০৭টি৷ ২০১৫ সালে ১৫৩ জন আর ২০১৪ সালে ১৪৭ জন মারা গেছে এমন সহিংসতার কারণে৷
এইসব ঘটনা প্রধানত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জড়িত ছিল৷ এর বাইরে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও সংঘাতের জন্ম দিয়েছে৷ নির্বাচন, নির্বাচন প্রতিরোধ এবং মাঠ দখলে রাখার চেষ্টা ছিল সহিংসতার প্রধান কারণ৷
২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে-পরে বাংলাদেশে ব্যাপক সহিংসতা হয়৷ ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের নামে যানবাহন ও স্থাপনায় সবচেয়ে বেশি আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে৷ ২০১৩ সালে ৯৭ জন দগ্ধ হয়েছেন, তাদের মধ্যে ২৫ জন মারা যান৷
মানবাধিকার কর্মী এবং আসকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান বলেন, ‘‘রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতা আমাদের নীতিহীন রাজনীতির প্রকাশ৷ আর দুঃখজনক হলেও সত্য এর শিকার হন রাজনৈতিক দলের সাধারণ কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ৷ রাজনৈতিক দলগুলো তাদের শক্তি দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে সংঘাত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে৷ তারা সহিষ্ণু নয়, তারা অসহিষ্ণুতার প্রকাশ ঘটায়৷”
