আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে কর্ণাটক রাজ্যের একটি স্কুলে একটি নাটক হয়েছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে বেশ কিছু সংলাপ ছিল, যেগুলিকে দেশদ্রোহ বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন এক ব্যক্তি। এরই জের কর্ণাটক রাজ্যের পুলিশ গত ছদিন ধরে একটি স্কুলের ছাত্রদের টানা জেরা করছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা এবং একটি ছাত্রের মাকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে দেশদ্রোহের অভিযোগে।
কর্ণাটকের বিদারের শাহিন স্কুলের ছাত্ররা কিছুদিন আগে মঞ্চস্থ হওয়া নাগরিকত্ব আইন বিরোধী ওই নাটকটি অভিনয় করে।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়া নাটকের কিছু অংশে শোনা যাচ্ছে যে ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী ছাত্ররা বলছে যে কীভাবে মৃত পূর্বপুরুষদের জন্মের সার্টিফিকেট যোগাড় হবে! প্রশ্ন তুলেছিল তারা, যে প্রবীন চা বিক্রেতা সবাইকে জন্মের সার্টিফিকেট দেখাতে বলছেন, তাঁর নিজের সেইসব নথি আছে তো?
এছাড়া মি. মোদীকে উদ্দেশ্য করে কিছু খারাপ কথাও আছে নাটকের সংলাপে।
ওই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পরে এখন স্কুলটি এবং অভিভাবকদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করছে, তদন্তের নামে গত ছদিন ধরে পুলিশ রোজ স্কুলে এসে ছাত্রদের জেরা করছে। দুপুর একটা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শাহিন স্কুলের মুখ্য পরিচালক তৌসিফ মাদিকেরির কথায়, “গত পাঁচদিনের মতো মঙ্গলবারও পুলিশ এসে ছাত্রদের জেরা করেছে। আজ প্রায় আড়াই ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তারা বার বার জানতে চাইছে যে কে ওই নাটক লিখেছিল, ওইসব কথা বলতে কে শেখাল — এই সব।”
জেরার সময়ে অভিভাবকরা কেউ থাকতে পারছেন না, তবে শিক্ষিকারা থাকছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০ জনকে জেরা করেছে তারা।
“ওইটুকু ছাত্রদের যদি পুলিশের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে এটা ওদের ওপরে একটা মানসিক চাপ তৈরি করবে,” বলছিলেন মি. মাদিকেরি।
মঙ্গলবার দুপুরে যে ছাত্রদের জেরা করা হচ্ছে, সেই ছবিও বিবিসিকে পাঠিয়েছেন মি. মাদিকেরি।
কিন্তু কেন ছাত্রদের রোজ জেরা করা হচ্ছে, সে ব্যাপারে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া নতুন পুলিশ সুপারিন্টেডেন্টের সঙ্গে অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায় নি।
একটি নাটকের সংলাপের কারণে দেশদ্রোহের মামলা দায়ের কতটা যুক্তিযুক্ত?
কর্ণাটকের প্রাক্তন সরকারি কৌঁশুলি বি টি ভেঙ্কটেশ বিবিসিকে বলছিলেন, “ওই ভিডিয়োতে যা আছে, তা হল কুকথা। এটা যদি দেশদ্রোহ হয়, তাহলে তো সারা দেশে যত মানুষ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন সবার বিরুদ্ধেই দেশদ্রোহের মামলা করতে হয়। রাজনৈতিক নেতারাও তো এর থেকে আরও বেশি কুকথা বলছেন। দেশদ্রোহের মামলা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে?”
শাহিন স্কুলের তরফে মি. মাদিকেরি আরও জানাচ্ছিলেন যে বিতর্কিত সংলাপটি মূল নাটকে ছিল না। ছাত্রদের অভিভাবকদের মধ্যে কেউ হয়তো এরকম বলতে শিখিয়েছিলেন।
স্কুলের শিক্ষিকাদের ভুল হয়েছিল যে তারা এটা খেয়াল করেন নি যে সংলাপে বদল করছে ছাত্ররা। তবে এর জন্য স্কুল যেমন ক্ষমা চেয়েছে, তেমনই অভিভাবকরাও লিখিত ভাবে ক্ষমা চেয়েছেন।কিন্তু তারপরেও রোজ স্কুলে এসে ছাত্রদের জেরা করছে পুলিশ।
সূত্র : বিবিসি
