স্বীকৃতিতে প্রশাসনিক বাধা: কওমি সনদের কার্যকারিতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

মুসান্না মেহবুব :

কওমি মাদরাসা শিক্ষাধারার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি মাস্টার্স ডিগ্রি সমমানের সরকারি স্বীকৃতি প্রদানের প্রায় তিন বছর হতে চলেছে, কিন্তু এখনো স্বীকৃত সনদের কার্যকারিতা বিষয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। দাওরায়ে হাদিসের এই শিক্ষাসনদ দিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্দিষ্ট দু-একটি পদ ছাড়া সরকারি অন্যকোনো পদে এখন পর্যন্ত নিয়োগ পাবার সুযোগ পাচ্ছেন না নতুন সনদধারী আলেমরা।

স্বীকৃতি প্রদানের পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দারুল আরকাম মাদরাসায় নির্দিষ্ট সংখ্যক কিছু কওমি আলেমের নিয়োগ ছাড়া খোদ ফাউন্ডেশনের অন্যকোনো বিভাগেও তাদের চাকরির আবেদনের সুযোগ দৃশ্যমান হয়নি এ পর্যন্ত।

এদিকে স্বীকৃতি প্রদানের প্রাক্কালে এমন একটি আলোচনা বেশ জোর পেয়েছিল যে, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মসজিদে এবং বিভিন্ন বাহিনীর আরটি পদে আলিয়া মাদরাসার সনদধারীদের মতো কওমি সনদধারীরাও আবেদনের সুযোগ পাবেন। তাছাড়া সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ধর্মীয় শিক্ষকপদে আবেদনের সুযোগও থাকার কথা ছিল তাদের। কিন্তু তিন বছর পার হয়ে গেলেও এমন কোনো সুযোগ তৈরি হতে দেখা যায়নি।

গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি’র রিলিজিয়াস টিচার (আরটি) পদে কয়েকজন আলেমকে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা আসে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ২য় শ্রেণিতে ফাজিল উল্লেখ করা হয়। দাওরায়ে হাদিসের সনদধারীদের আবেদনের কোনো সুযোগ পরিলক্ষিত হয়নি সেখানে।

তারপরও দাওরায়ে হাদিসের নতুন সনদধারী বেশ কয়েকজন আলেম এ পদে আবেদন করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ফাজিলের সনদ না থাকায় তারা আবেদন করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরকে। তাঁরা বলছেন, বিজ্ঞপ্তির শর্ত মোতাবেক দুবছরের ইমামতির অভিজ্ঞতা তাঁদের ছিল, কিন্তু ফাজিলের সার্টিফিকেট না থাকবার কারণে তাঁরা আবেদনের সুযোগ পাননি।

হবিগঞ্জের একটি মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুল বাতেন ২০১৭ সালের দাওরায়ে হাদিস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয়েছেন। হাইআতুল উলয়ার দাওরায়ে হাদিসের সনদপত্রও তাঁর আছে। বিজিবির আরটি পদে তিনি আবেদন করতে গিয়ে জানতে পারেন, ফাজিলের সার্টিফিকেট ছাড়া আবেদন করা যাবে না। তিনি বলেন, দাওরায়ে হাদিসের শিক্ষাসনদকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি মাস্টার্স সমমানের সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু খোদ সরকারি চাকরিতেই আমাদের এ শিক্ষাসনদ কাজে আসছে না, তাহলে স্বীকৃতির কার্যকারিতা থাকল কোথায়?

একই প্রশ্ন তুলছেন টাঙ্গাইলের মধপুরের একটি মসজিদের ইমাম মাওলানা আশিকুর রহমান। দাওরায়ে হাদিসের সনদ দিয়ে তিনিও বিজিবির আরটি পদে আবেদনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি বলেন, স্বীকৃতি প্রদানের সময় আমরা শুনেছিলাম সরকারি চাকরিতে আলিয়া মাদরাসার পাশাপাশি কওমি শিক্ষাসনদধারীদের সমান সুযোগ থাকবে, কিন্তু স্বীকৃতি প্রদানের তিন বছর পার হয়ে গেলেও সেই সুযোগ এখনো তৈরি করা হয়নি। তাহলে স্বীকৃতির বিশেষত্ব কোথায় থাকল?

আরও পড়ুন : কওমি সনদের কার্যকারিতা : শিক্ষাবোর্ড যা বলছে

আগের সংবাদমুসলিম দেশ থেকে ইমাম প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করার ঘোষণা ফ্রান্সের
পরবর্তি সংবাদসিরিয়া সংকট: ব্যর্থ তুরস্ক-রাশিয়ার আলোচনা