
ফাতেহ ডেস্ক
এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়ার আরেক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কোটি কোটি টাকা ভর্তি সিন্ধুক, ট্রাংক এবং গয়না উদ্ধার করেছে র্যাব। সোমবার মধ্যরাত থেকে পুরান ঢাকার লালমোহন স্ট্রিটের ওই ছয়তলা বাড়ির নিচতলায় র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলমের নেতৃত্বে এ অভিযান চলে।
র্যাব-৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম ফয়জুল ইসলাম জানান, নিচতলার ওই বাসায় কেউ থাকত না। বেশ সুরক্ষিত অবস্থায় রাখা ছিল সবকিছু। এনু-রুপনের দুই ডজন বাড়ির বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে আমরা এ বাসার সন্ধান পাই।
তিনি বলেন, অভিযানে ওই বাড়িতে টাকা ভর্তি পাঁচটি সিন্ধুক পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে পাওয়া গেছে পাঁচ কোটি টাকার এফডিআর এবং বিপুল স্বর্ণালংকার। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে টাকার অংক ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকাও হতে পারে।
ওই বাড়িতে বেশ কিছু ক্যাসিনো সরঞ্জামও পাওয়া গেছে, যেগুলোতে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সিল লাগানো ছিল বলে জানান ফয়জুল ইসলাম।
ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের পরিচালক এনু ছিলেন গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। আর তার ভাই রুপন ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সোমবার সন্ধ্যায় লালমোহন সাহা স্ট্রীটে ক্যাসিনো কাণ্ডে আটক যুবলীগ নেতা এনামুল হক এনু ও তার ছোট ভাই রুপন ভুঁইয়ার বাড়িতে অভিযান শুরু করে র্যাব। প্রথমে কয়েক ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর মধ্যরাতে ভেতরে ঢোকেন র্যাব সদস্যরা।
জব্দ করা টাকা ৫টি সিন্দুক ও ৫টি লকারে গোছানো ছিল। সেখানে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে জুয়ার আসরে ব্যবহৃত চিপসও পাওয়া গেছে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় এই বাড়িতে টাকা এনে লুকিয়ে রাখা হয় বলে ধারণা করছে র্যাব।
ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের শুরুর দিকে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর এনু-রুপন এবং তাদের দুই সহযোগীর বাসা থেকে ৫ কোটির বেশি টাকা, ৮ কেজি স্বর্ণ ও ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গেণ্ডারিয়া, সূত্রাপুর ও ওয়ারী থানায় সাতটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে মানি লন্ডারিং আইনের চারটি মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।
ব্যাংকে গচ্ছিত বিপুল অঙ্কের টাকা ছাড়াও এখন পর্যন্ত এনু ও রুপনের নামে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১৯টি বহু মূল্যবান বাড়ির সন্ধান মিলেছে। এগুলো হলো ৪০ গুরুদাস সরদার লেনে ২০তলা নির্মাণাধীন বাড়ি, ১ নম্বর নারিন্দা লেনে ৪ তলা বাড়ি, ৬/২ গুরুদাস সরদার লেনে একটি নির্মাণাধীন বাড়ি, ৩৯ নম্বর শরৎগুপ্ত রোড (দাদা ভাই বাড়ি) ১৬ কাঠা জায়গা, ৬৯ শাহ সাহেব লেনে ১০তলা বাড়ি, ৭৩ নম্বর শাহ সাহেব লেনে আরেকটি বাড়ি, ১২৪/৫ ডিস্টিলারি রোড মুরগিটোলায় ৭ তলা বাড়ি, ৩৯ ডিস্টিলারি রোডে আরেকটি পুরনো বিল্ডিং, ওয়ারী এলাকার লালমোহন শাহ স্ট্রিটে ৪টি বাড়ি আছে।
এগুলো হলো ১০৬ নম্বর হোল্ডিংয়ে ১০তলা বাড়ি (মমতাজ ভিলা), ১২২/এ ১২১ এবং ১০৩ নম্বর হোল্ডিংয়ে আরও দুটি বাড়ি, ৪৪/বি ভজহরি সাহা স্ট্রিটে ৪ তলা বাড়ি, ৭১/১ দক্ষিণ মৈসুন্দি এলাকায় আরেকটি বাড়ি, ধোলাইখাল হানিফ গার্মেন্টের সঙ্গে বাঁধন এন্টারপ্রাইজ নামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মুরগিটোলা মোড়ে এনু-রুপন স্টিল হাউস, কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া এবং মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে দুটি বিশাল বাংলোবাড়ি। যা কিছু সম্পদ তার মালিক এনু, রুপন, রশিদুল, দুলু, আমিনুল, শিপলু, তাঁদের মা মমতাজ বেগম ও বোন চম্পা এবং মৃত এক ভাইয়ের সন্তানেরা।
এসব অবৈধ সম্পদ লুকিয়ে রাখার সাথে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে র্যাব। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আবারো অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. ক. রাকিবুল হাসান।
ক্যাসিনো কাণ্ডের অন্যতম হোতা, গেণ্ডারিয়া থানা যুবলীগের সাবেক নেতা এনামুল হক এনু ও রুপন ভুঁইয়া অস্ত্র ও অর্থপাচার মামলায় হাজতবাস করছেন।
১০ বছর আগেও এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার সম্পদ বলতে ছিল ২৯ বানিয়ানগরে লোহালক্কড় বিক্রির একটি দোকান। তাঁরা থাকতেন দোকানের পেছনে একটি টিনশেড বাড়িতে।
-এ
