হজের বিমান ভাড়া কমাতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুক্তি আমলে নেয়নি সরকার

ফাতেহ ডেস্ক

বিমান ভাড়া বাড়তি রেখেই চলতি বছরের হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এবার হজে গমনেচ্ছুদের জন্য রিটার্ন টিকেটসহ বিমানের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা যা আগের বছরের তুলনায়ও ১০ হাজার টাকা বেশি। এয়ারলাইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছর হজ ফ্লাইটের ভাড়া কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা কমানো সম্ভব।

এদিকে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী বলছেন, বিমান ভাড়া কমানোর জন্য অনেক চেষ্টার পরও তিনি বিমান মন্ত্রণালয়কে রাজি করাতে পারেননি। আক্ষেপের সুরে মন্ত্রীর এমন মন্তব্যকে তার অক্ষমতা না বলে সরকারের অক্ষমতা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে ভাড়া কমানো সম্ভব বলেও মত তাদের।

জেট ফুয়েলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিগত কয়েক বছরের মধ্যে হজ ফ্লাইটে সবচেয়ে বেশি ভাড়া নেয়া হয়েছিল ২০১৮ সালে। ওই বছর ফ্লাইটের ভাড়া ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৯১ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তার পেছনের অন্যতম যুক্তি ছিল জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়া।

ওই বছর জ্বালানির দাম বাংলাদেশে এতটাই বেশি ছিল যে অনেক বিমানই ভারত কিংবা অন্যদেশ থেকে জ্বালানি নিয়েছে। তবে জ্বালানির দাম কমায় গত বছর ফ্লাইটের ভাড়া কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

তবে এবার আবার ফ্লাইটের খরচ বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। বর্তমানে সৌদি আরবে রিটার্ন টিকেটসহ ভাড়া ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা। তবে স্বাভাবিকের চেয়ে হজ ফ্লাইটের ভাড়া বেশি হওয়ার কারণ সম্পর্কে বিমানের দাবি, হজ ফ্লাইটে যাত্রীদের সৌদি নামিয়ে খালি ফিরতে হয়, অন্যদিকে আনতে যাওয়ার সময়ও যেতে হয় খালি। তাদের হিসেবে যেহেতু যাত্রীপ্রতি চারবার বিমান উড্ডয়ন করা হচ্ছে সেহেতু ভাড়া সর্বোচ্চ দ্বিগুণ হতে পারে। সেক্ষেত্রে তা হতে পারে ১ লাখ ১০ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

ভাড়া কমানোর জন্য বিমানকে অনুরোধ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, তারা তাদের অনেক যুক্তি উপস্থাপন করেছে। নানা কারণ দেখিয়ে তারা কোনোভাবেই ভাড়া কমাতে রাজি হয়নি। আমরা চেষ্টা করেছি। আমরা এখনও ইচ্ছা রয়েছে। বিমান ভাড়াটা কমানো হলে সাধারণ হাজিদের উপকার হত।

চেষ্টার পরও মন্ত্রীর বিফল হওয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে বিমানের কর্মকর্তাদের দুষছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. সাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বিমানের টেকনিক্যাল লোকজন নানা যুক্তি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কনভিন্স করে। তারা নানা যুক্তি দেখিয়ে অসহায় করে ফেলে। যারা সিদ্ধান্ত নেয়ার জায়গায় থাকেন তাদের অসহায় করে ফেলেন।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ মনে করেন, এই বিষয়ে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপেরই দরকার নাই। দুই মন্ত্রণালয়ের সচিবরা বসেই ঠিক করতে পারেন হজ যাত্রীদের বিমানের ভাড়া।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিবিদ মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, হজে সৌদি আরব যেই খরচ নেয় সেটা তাদের রোজগারের ব্যাপার। তারা এটাকে আয় হিসেবে নেয়। এটা নিয়ে কোনো নেগোসিয়েশনের সুযোগ আছে কিংবা আলোচনা হয় বলে আমার মনে হয় না।

তিনি আরও বলেন, খরচটা কমাতে হবে আমাদের দেশ থেকে। বিমান কর্তৃপক্ষকে নির্ধারণ করতে হবে ভাড়ার বিষয়টি। সাধারণ হাজিদের কথা মাথায় রেখেই ভাড়া নির্ধারণ করা উচিত।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধ বিমান মন্ত্রণালয়ে পাত্তা না পেলেও মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে সরব হলেই বিমান ভাড়া কমানো সম্ভব বলে মনে করেন ড. সাদাত হোসেন।

-এ

আগের সংবাদকরোনা: দ. কোরিয়ায় অবরুদ্ধ ১৭ হাজার বাংলাদেশি!
পরবর্তি সংবাদহিন্দু-মুসলিম পার্থক্যে দিল্লির বাড়িতে-বাড়িতে গেরুয়া পতাকা