এবারো জামিন পেলেন না খালেদা জিয়া

ফাতেহ ডেস্ক

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের পক্ষে নতুন কোনো কারণ না পাওয়ায় আবেদন আবারো খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্টে।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বিএসএমএমইউ-এর প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণের করে আদালত জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাসপাতালেই খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা সম্ভব।

তবে খালেদা জিয়া মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী ‘অ্যাডভানসড ট্রিটমেন্ট’ নিতে সম্মতি দিলে, দ্রুত তার উন্নত চিকিৎসা শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। হাইকোর্ট বলেছে, উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে বোর্ড চাইলে নতুন কোনো বিশেষজ্ঞকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আদেশে বলেন, মনে রাখতে হবে, তিনি একজন বন্দি, সাধারণ অন্য রোগীদের মতো সুবিধা তিনি পাবেন না। জেল কোড এবং নিয়ম নীতি মেনেই তাকে চিকিৎসা নিতে হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। রোববার শুনানিতে আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী খালেদা জিয়া শারীরিক অবস্থা জানতে চেয়ে বুধবারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেয় হাইকোর্ট। সে নির্দেশনা অনুযায়ী আদালতে জমা দেয়া হয় মেডিকেল রিপোর্ট।

আদালতে দেয়া বিএসএমএমইউ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, খালেদা জিয়া উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা ও আর্থরাইটিস ভুগছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) উন্নত চিকিৎসা (অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট) নিতে সম্মতি দেননি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। হাইকোর্টে দেয়া প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান।

অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যান তিনি। যদিও ওই মামলায় এক পর্যায়ে ৩ মাসের জামিনও পেয়েছিলেন তিনি। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে ৫ বছরের সাজা হয়ে যায় ১০ বছর। এরইমধ্যে চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়ও ৭ বছরের সাজা হয় তার। এখন ১৭ বছরের দণ্ড নিয়ে হাসপাতালের প্রিজন সেলে বিএনপি প্রধান।

৩৬ মামলার মধ্যে এক এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের ৪টি ও আওয়ামী লীগ সরকারের গত দশ বছরে ৩২টি। এরমধ্যে দুদকের মামলা ৫টি, নাশকতার ১৬টি, মানহানির ৪টি, ৩টি হত্যা মামলা এবং মানহানিকর বক্তব্য দেয়ার আসামি হন ২ মামলায়। এছাড়া বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের মালিকানা নিয়ে একটি দেওয়ানী মামলা রয়েছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে।

-এ

আগের সংবাদআবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ালো সরকার
পরবর্তি সংবাদকরোনাভাইরাস: সৌদির আকস্মিক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশিদের ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা