করোনার শঙ্কায় ইরানে ৫৪ হাজার বন্দির জামিন

ফাতেহ ডেস্ক

প্রাণঘাতী কভিড-১৯ এর সংক্রমণ ও বিস্তৃতি ঠেকাতে বিভিন্ন কারাগারে বন্দি ৫৪ হাজারেরও বেশি কয়েদিকে সাময়িক সময়ের জন্য মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান।

দেশটির বিচার বিভাগের মুখপাত্র গোলামহোসেইন ইসমাইলি জানান, যে কয়েদিদের দেহে কভিড-১৯ এর উপস্থিতি পাওয়া যাবে না, শুধুমাত্র তাদেরই জামিন দেয়া হবে। কিন্তু যেসব বন্দির সাজার মেয়াদ ৫ বছরের বেশি, তাদের মুক্তি দেয়া হচ্ছে না।

দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইরানের ৭৭ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে কভডি-১৯। মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশটিতে দুই হাজার ৩৩৬ জনের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি মিলেছে। দেশটির জরুরি চিকিৎসা সেবা বিভাগের প্রধান পীরহোসেন কলিভান্দসহ অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দেহেও কভিড-১৯ এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়াও পার্লামেন্টের ২৯০ সদস্যের মধ্যে ২৩ জনের দেহেও প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে।

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির এক উপদেষ্টা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সোমবার তেহরানে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো।

আফগানিস্তান, কানাডা, লেবানন, পাকিস্তান, কুয়েত, বাহরাইন, ইরাক, ওমান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে শনাক্ত হওয়া আক্রান্ত অনেক ব্যক্তির সঙ্গেও ইরানের যোগ মিলেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এদিকে গোটা ইউরোপে কভিড-১৯ সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে ইতোমধ্যে ২৫০২ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার দেশটির নাগরিক সুরক্ষা সংস্থা এ খবর জানায়।

কভিড-১৯-এ এক দিনেই ইতালিতে মারা গেছে ২৭ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৯ জনে। ইরানকে পেছনে ফেলে চীনের বাইরে সব চেয়ে বেশি মৃত্যু এখন এই দেশটিতে।

ভাইরাসটি মোকাবিলায় ইতালি সরকার বিভিন্ন জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। সোমবার থেকে ইতালির লোম্বারদিয়া, ভেনেতো, পিওমন্তে ও ভেনেসিয়া অঞ্চলে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ইতালির ভেনিস উৎসবও। এছাড়া বন্ধ রয়েছে ফুটবল লীগ, নাইট ক্লাব ও জাদুঘর।

ইতালিতে কভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব বেশি উত্তরাঞ্চলে। এই এলাকা দিয়েই ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, জার্মান, সুইজারল্যান্ড, স্লোভেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সড়ক পথে যাতায়াত করতে হয়। তবে, আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে ইতালির সরকার। এছাড়া আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে চলাচল করতে নিষেধ করা হয়েছে।

ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মৃতের মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২০২ জনে, আর আক্রান্ত প্রায় ৯৩ হাজার।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, সোমবার দেশটির মূল ভূখণ্ডে আরো ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাতে চীনের মূল ভূখণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৮১ জনে।

সাম্প্রতিক সময়ে কভিড-১৯ এর উপস্থিতি চীনের বাইরেই বেশি দেখা যাচ্ছে। ইরান-ইতালির পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ায় ভাইরাসটির সংক্রমণ বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। দেশটিতে নতুন করে আরো ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ জন।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জন। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি স্টেটে ৫৮ জনের কভিড-১৯ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ওয়াশিংটনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৮ জনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে। রোগটিতে মারা যাওয়া ছয়জনই এই স্টেটের। এর পরে আক্রান্তের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া, এখানে ২০ জন আক্রান্ত হয়েছে।

এছাড়া জাপানে ১২ জন, ফ্রান্সে ৪ জন, হংকংয়ে ২ জন এবং ফিলিপিন্স, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া ও থাইল্যান্ডে একজন করে মারা গেছেন এ ভাইরাসে।

-এ

আগের সংবাদমোল্লা ও ট্রাম্পের ফোনালাপ: ‘আপনার সাথে কথা বলে আমি খুবই খুশী’ মোল্লাকে ট্রাম্প
পরবর্তি সংবাদ‘মোদির বিরোধিতা মানে মুজিববর্ষের বিরোধিতা’