সৌদিতে ধরপাকড় অব্যাহত, ২০ প্রিন্স আটক

ফাতেহ ডেস্ক

সৌদি আরবের ক্ষমতাসীন রাজপরিবারে নতুন করে শুরু হওয়া ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশটির বর্তমান রাজা সালমানের ভাইসহ মোট ২০ জন প্রিন্সকে আটক করা হয়েছে। খবর মিডল ইস্ট আই’র।

লন্ডনভিত্তিক গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সৌদি রাজপরিবারের যে ২০ জন প্রিন্সকে আটক করা হয়েছে, তার মধ্যে প্রভাবশালী চার জনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। ধরপাকড় এখনো অব্যাহত রয়েছে।

পরিচয় জানা আটককৃত চার প্রিন্স হলেন সৌদি বাদশাহ সালমানের একমাত্র জীবিত ভাই প্রিন্স আহমেদ বিন আবদুল আজিজ ও তার ছেলে ল্যান্ড ফোর্সেস ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি অথরিটির প্রধান প্রিন্স নায়েফ বিন আহমেদ এবং সাবেক ক্রাউন প্রিন্স ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন নায়েফ ও তার সৎ ভাই নাওয়াফ বিন নায়েফ। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ বিন নায়েফকে ২০১৭ সালে গৃহবন্দী করা হয়েছিল।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু বিদেশী শক্তির সহায়তায় অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সৌদির বর্তমান রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রিন্সদের আটক করা হয়েছে। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের আনা এমন অভিযোগে রাজা সালমান নিজেই তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এছাড়া ৬৫ বছর বয়সী প্রভাবশালী আরেক প্রিন্স মিতেব বিন আবদুল্লাহকে আবারো আটক করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাবেক রাজা আবদুল্লাহর এ ছেলেকে একসময় সিংহাসনের উত্তরাধিকার ভাবা হতো। ২০১৭ সালের আটকাভিযানে তাকেও ধরা হয়েছিল। পরে ১০০ কোটি ডলার জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান দেশটির অভিজাত ন্যাশনাল গার্ডের সাবেক এ প্রধান।

এদিকে ধরপাকড়ের মধ্যেই ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান একটি টুইট করে রাজপরিবারের সকল প্রিন্সদের তার প্রতি আনুগত্য ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সৌদি বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা মুখোশ ও কালো পোশাক পরে রাজকীয় ব্যক্তিদের আটক করেন এবং তাদের বাড়িঘরে তল্লাশি চালায়। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সৌদি সরকারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে ২০১৭ সালে যুবরাজের নির্দেশে এক ডজনের বেশি রাজ পরিবারের সদস্য, মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীকে আটক করে রিয়াদের রিজ-কার্লটন হোটেলে রাখা হয়। তাদের মধ্যেও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। পরে সরকারের সঙ্গে ‘দফারফা’ হওয়ার পর আটককৃতদের মুক্তি দেয়া হয় বলে জানা যায়।

-এ

আগের সংবাদদুই শিশু হত্যায় মায়ের বিরুদ্ধে বাবার মামলা
পরবর্তি সংবাদবাংলাদেশে ৩ জন করোনায় আক্রান্ত: স্কুল-কলেজ বন্ধের পরিস্থিতি হয়নি