
ফাতেহ ডেস্ক
লঘু অপরাধে দণ্ডিত ও বয়স্ক বন্দিদের কারাগার থেকে মুক্তির নির্দেশ দেয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে বলেছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া পার্সোনাল প্রটেকশান ইক্যুইপমেন্ট বা পিপিই ও মাস্ক উৎপাদনকারী কারখানা ছাড়া দেশের সব গার্মেন্টস কারখানা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাইবান্ধা লকডাউন ঘোষণা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে এমন এলাকাসহ আশেপাশের এলাকা লকডাউন করার নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সাধারণ ছুটির মধ্যেই মন্ত্রিপরিষদের সীমিত আকারের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজ (সোমবার) সকালে গণভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে গার্মেন্টস মালিকদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গার্মেন্টস মালিকরা নিজেদের লাভের দিকটা চিন্তা করে সরকারের সাথে সমন্বয় না করে কারাখানা খোলা রখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ফলে শ্রমিকরা ঢাকা এসে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে সংক্রমণের হুমকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব গার্মেন্টস মালিকদের সাথে বসে গার্মেন্টসসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট একটি নীতিমালা করে দেবেন। ঢাকায় যেন কেউ ঢুকতে না পারে এবং কেউ যাতে বের হতে না পারে সে ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরো কঠোর হতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ আরো ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যান্য দেশের যে পরিস্থিতি তাতে করে বাংলাদেশও ঝুঁকিমুক্ত নয়। এজন্য সরকারের নিয়ম-কানুন মানাতে আরো কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশেষ এই বৈঠকে শুধুমাত্র এজেন্ডা থাকা মন্ত্রণালয় ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে করোনা মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে করোনা মোকাবেলায় কাজ করার জন্য নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এছাড়া বাকি যে ছয়জন মন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।
-এ
