
ফাতেহ ডেস্ক
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহ হলেই মরদেহের পরীক্ষা করছে ডিএমসিএইচ, পরীক্ষার ফল তৈরিতে দেরি।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে মৃত্যু হলে মরদেহ হস্তান্তরে এক থেকে দুইদিন সময় লাগছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। তারা বলছেন, শোকের মধ্যেই মরদেহ বুঝে পেতে নামতে হচ্ছে অসহনীয় এক যুদ্ধে। ছুটতে হচ্ছে এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে। চিকিৎসকরা জানান, প্রতিদিন পরীক্ষা করার সামর্থ্যের চেয়ে বেশি নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে। এতে ফলাফল তৈরি করতে দেরি হচ্ছে। তাই কখনও কখনও মরদেহ হস্তান্তরে জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে দৈনিক গড়ে চারটি মরদেহের ঠাঁই হচ্ছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। সতর্কতা হিসেবে এ ধরনের মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাই মরদেহ বুঝে পেতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে স্বজনদের।
মৃত স্বজনের করোনা পরীক্ষার ফলাফল সংগ্রহ করতে জরুরি বিভাগ, পরীক্ষাকেন্দ্র কিংবা হাসপাতাল প্রশাসকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভীষণ ক্ষুব্ধ নারায়ণগঞ্জের এক বাসিন্দা। তিনি বলেন, দশ বছর ধরে শ্বাসকষ্টের রোগী তার পিতার ভাগ্যে জীবিত অবস্থায় চিকিৎসা জোটেনি। আর এখন মরদেহের পরীক্ষা চলছে।
মরদেহ বুঝে পেতে তার মত অনেকেরই গুণতে হচ্ছে অপক্ষোর প্রহর।
মর্গের সামনে দেখা যায়, অন্তত দুটি মরদেহ সংরক্ষণের জন্য অপেক্ষমাণ। সম্প্রতি জরুরি বিভাগ ও অন্যান্য ওয়ার্ডে দুই দিনে পনেরো জন মারা যান, তারা সবাই করোনা আক্রান্ত ছিলেন সন্দেহে পরীক্ষার পর মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ একশ আটাশি জনের করোনা পরীক্ষা করার সামর্থ্য রয়েছে ঢাকা মেডিক্যালের ভাইরোলজি বিভাগের। কিন্তু প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহ হচ্ছে আড়াইশ থেকে তিনশ জনের। অতিরিক্ত এই চাপের কারণে মরদেহগুলোর পরীক্ষার ফলাফল প্রস্তুতেও সময় লাগছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের সমন্বয়ক ডা. খায়রুল ইসলাম বলেন, টেকনিক্যাল কারণে কোন লাশ যদি রাতে আসে তাহলে কিন্তু তার স্যাম্পল পরদিন দুপুরে আসে। এই স্যাম্পল রান করে শেষ করতে করতে রাত নয়টা দশটা বাজে। এই নিয়ম সবার জন্যই প্রযোজ্য। এখানে আমাদের করার কিছু নেই, যা হচ্ছে টেকনিক্যাল কারণেই হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, হস্তান্তরে জটিলতা কাটাতে এখন মৃতদেহের করোনা পরীক্ষায় অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
-এ
