
ফাতেহ ডেস্ক
ভারতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য মুসলিমরাই দায়ী— শনিবার এমন মন্তব্য করছেন যোগি আদিত্যনাথ। উত্তর প্রদেশের এই বিজেপি নেতা একজন মুসলিবিদ্বেষি রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
দেশটির উত্তর প্রদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, অঞ্চলটিতে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৪৮৭ জন লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৪৩ জন।
আদিত্যনাথ বলেছেন, তাবলিগি জামাতের মুসলিমরা যদি “করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর গোপন না করতেন” তাহলে সরকার এই মারণ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোদ করতে পারতো। অথচ যখন দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলিগ জামাতের জমায়েতটি হয়েছে, তখনো ভারতে সেভাবে ভাইরাস ঠেকাতে কোনো নজরদারি শুরু হয়নি। এমন কি তাবলিগের ওই জমায়েতের সময় ভারতে লকডাউনও আরোপ করা হয়নি।
নিজামুদ্দিনের ওই জমায়েতে অংশগ্রহণ করা অনেকেই পরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং অনেকে সুস্থ হয়ে গবেষণার জন্য নিজেদের রক্ত ও প্লাজমা দান করেছেন। কিন্তু তাদের জমায়েতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতে মুসলিম বিদ্বেষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
আদিত্যনাথ বলেছেন, “তারা (তাবলিগি জামাদের মুসুল্লিরা) যে অপরাধ করেছেন, তার জন্য তাদের শাস্তি হবে।
ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়েছে, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানিও ভারতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পেছনে ধর্মীয় সমাবেশকে দায়ী করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাবলিগের মুসুল্লিরা জমায়েতে অংশগ্রহণ করার খবরটি গোপন করেছিলেন।
তিনি দাবি করেছেন, আহমেদাবাদ অঞ্চলটি দুইভাগে বিভক্ত। একভাগে অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ থাকে, অন্যটিতে ১০ শতাংশ। যে অঞ্চলে ১০ শতাংশ লোকের বাস, সেখানকার ৯০ শতাংশ লোকই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি এর জন্য মুসলিমদের দায় দিয়েছেন।
গুজরাটে এখন পর্যন্ত ৫০৫৪ জনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার নিশ্চিত খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্য মারা গেছেন ২৬২ জন। সুরাত অঞ্চলে ৬৬১ জনের করোনাভাইরাস চিহ্নিত হয়েছে।
বিজয় রুপানি বলেন, “আমহেদাবাদ ও সুরাতের তাবলিগি মুসুল্লিরা দেশজুড়ে সফর করেছেন এবং তাদের সফরের কথা গোপন করেছেন। তারা অনেক লোকে করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার জন্য দায়ী।”
করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরও দেশটিতে বেশ কয়েকটি ধর্মীয় সমাবেশ হয়েছে, যেখানকার অংশগ্রহণকারিরা মুসলিম ছিলেন না। কিন্তু দেশটির কোনো রাজনীতিক এই বিষয়ে কথা বলেননি। এমন কি আদিত্যনাথ নিজেও একটি সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
পুরো বিষয়টিকে মুসলিম বিদ্বেষ বলে অভিহিত করেছেন অনেকেই। ওয়াশিংটন পোস্টে “ভারতের মুসলিম বিদ্বেষ করোনাভাইরাসে ঠেকানোর চেষ্টাকে ব্যাহত করেছে” শিরোনামে একজন ভারতীয় লেখকের কলাম প্রকাশিত হয়েছে। গার্ডিয়ানেও এই ধরনের খবর ও মতামত প্রকাশিত হয়েছে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিচ্ছে। আরব আমিরাতসহ একাধিক গালফ অঞ্চলীয় দেশ ভারতকে মুসলিম বিদ্বেষ ও মুসলিম নির্যাতন বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে। এরই মধ্যে অরগাইনেজশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন ভারতকে মুসলিম নির্যাতন বন্ধ করার আহবান জানিয়েছে।
-এ
