
ফাতেহ ডেস্ক:
ডাকনাম স্বপন। বাংলাদেশের নাগরিক হলেও বিজেপির কর্মী হিসেবে কাজ করেন পশ্চিমবঙ্গে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে থাকা তার ভাই-বোন, আত্মীয় মিলিয়ে মোট ১৫ জনের নামে সেখানে তিনি রেশন কার্ড তৈরী করে নিয়মিত রেশন তুলেও যাচ্ছিলেন। কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো ৪ জুন, বুধবার। একসঙ্গে ১৯ জনের রেশন তুলতে গিয়ে গ্রেফতার হন পুলিশের হাতে।
বুদবুদ থানা এলাকার সুকান্ত নগরের বাসিন্দা স্বপন সরকার। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাংলাদেশে থাকা তার ভাই-বোন, আত্মীয় মিলিয়ে মোট ১৫ জনের নামে সেখানে তিনি রেশন কার্ড তৈরি করিয়েছেন। তার নিজের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪। স্বপন তার রাজনৈতিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এই ১৯টি রেশন কার্ড তৈরি করেন। এর মধ্যে ১১টি আরকেএসওয়াই-২ কার্ড। বাকি ৮টি পিএইচএইচ কার্ড। প্রথম কার্ডগুলি রাজ্যের, দ্বিতীয় কার্ডগুলি কেন্দ্রের। কার্ডগুলো বুদবুদ অ্যামুনিশন ডিপো রাস্তায় ৫ নম্বর রেশন ডিলারের অধীন। বহুদিন ধরে এই কার্ডগুলো দিয়ে খাদ্যসামগ্রী তোলা হয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। আসলেই কি স্বপনের পরিবারে ১৯ জন সদস্য? এতগুলো কার্ডের বিনিময়ে প্রচুর পরিমাণে চাল-গম তোলার সময় সন্দেহের বশেই স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে হাতেনাতে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। বুদবুদ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য দোলন দত্ত বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই আমাদের সন্দেহ হয়েছিল। আজ স্বপন সরকারকে আমরা হাতেনাতে ধরেছি। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই স্বপন স্বীকার করেন তার বাড়ির সদস্য সংখ্যা চার। বাংলাদেশে থাকা তাঁর ভাই-বোন সমেত আত্মীয়স্বজন মিলিয়ে মোট ১৯ জনের নামে রেশন কার্ড তৈরি করিয়েছেন। এই কার্ড দিয়ে অনেকদিন ধরে তিনি রেশন তুলেছেন। রেশন কার্ড ছাড়াও প্রত্যেকের এ দেশের ভোটার কার্ডও তৈরি করে রেখেছেন স্বপন।’
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বিড়ম্বনায় পড়েছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। দলের পূর্ব বর্ধমান জেলা সহ–সভাপতি রমণ শর্মা বলেন, ‘দেখতে হবে স্বপনের পরিবারের লোকেরা এখানে বাস করছে নাকি তারা আদতে বাংলাদেশের বাসিন্দা। আমরা খোঁজ নিচ্ছি।’ একই সঙ্গে রমণের পাল্টা প্রশ্ন, স্বপন যদি ভুয়ো কার্ডেই রেশন তোলে তাহলে খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা এতদিন চুপ করে বসেছিলেন কেন ?
অভিযোগ আসার পরই তদন্ত শুরু করেছেন খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা। বুদবুদের বিডিও বিনয় মণ্ডল বলেন, ‘খাদ্য দপ্তরের রিপোর্ট পাওয়ার পর সেটা থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। যদি দেখা যায়, কার্ড হোল্ডাররা এখানকার বাসিন্দা নন, তাহলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা বলেন, ‘স্বপন সরকার নামে ওই ব্যাক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুদবুদ থানায় আটক করে নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত স্বপন সরকারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস, এই সময়
