
ফাতেহ ডেস্ক:
ঊনপঞ্চাশ বছরে শুধু বেড়েছে মূল বাজেটের আকার। বাড়েনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতের বরাদ্দ।
বাংলাদেশের ৪৯ বছরে বাজেটের আকার বাড়ছে ৭২৩ গুণ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন- মূল বাজেটের আকার বাড়লেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ সেভাবে বাড়েনি। আর গবেষণা সংস্থা সানেমের হিসাবে- গেল এক দশকের প্রস্তাবিত বাজেটের বাস্তবায়ন হয়েছে গড়ে ৭৫ থেকে ৭৮ শতাংশ।
৭৮৬ কোটি টাকায় শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট। ১৯৭২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ।
পরবর্তী দুটি বাজেটও তিনিই ঘোষণা করেন। তৃতীয় অর্থবছর বাজেটের আকার ছাড়ায় হাজার কোটি টাকার ঘর। নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও প্রতিবছরই বাজেটের আকার বেড়েছে। ১৯৭২-৭৩ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের এসে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার দাঁড়ায় আকার ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। আর এবারে বাংলাদেশের ৪৯তম বাজেটে এসে আকার ঠেকেছে ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকায়।
মূল বাজেটের আকার বাড়লেও গুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ নিয়ে এখনো সন্তুষ্ট নন দেশের অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান বলেন, বাজেটের আকার আরও বড় হওয়া উচিত। কারণ আমাদের অর্থনীতির যেমন প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং তার আকারও বেড়েছে। এছাড়া বাজেটে আমাদের কিছু গুরুত্বপুর্ন খাতে অনেক কম খরচ করা হয়, এগুলোর বরাদ্দ আরও বাড়ানো উচিত।
গেল এক দশকে প্রস্তাবিত সব বাজেটেরই ২২-২৫ শতাংশ কম বাস্তবায়ন হয়েছে। গতানুগতিক সক্ষমতার এই অভাব কাটিয়ে ওঠা খুব জরুরি।
ড. সেলিম রায়হান বলেন, আমাদের বাজেটের ৭৫ থেকে ৭৮ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়। বাজেট বাস্তবায়নটাও কিন্তু বড় ধরনের একটা চ্যালেঞ্জ।এখন আমরা যে একটা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি সেখানে বেশ কয়েকটি খাতের বাস্তবায়ন খুবই জরুরি। সুতরাং গতানুগতিকভাবে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতার যে একটি অভাব আছে, এ বছরের এই সময়ে আমাদের কিন্তু সেই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসা খুবই জরুরি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষৎ পথ পরিক্রমা’ শিরোনামের নতুন বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি বর্তমান সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট ও বর্তমান অর্থমন্ত্রীরও দ্বিতীয় বাজেট।
-এ
