
মুহাম্মাদ হেদায়াতুল্লাহ:
Prison বা Jail বাংলায় কারাগার, বন্দিশালা, জেলখানা ও কয়েদখানা নামে পরিচিত। কারাগার বলতে সবার মনে দুঃখ-কষ্টে ভরা পরাধীনতার এক করুণ দৃশ্য ভেসে ওঠে। সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অপরাধীদের আটকে রাখতে কারাগারের উৎপত্তি।
ধারণা করা হয়, প্রাচীন মিসর থেকে কারাগারের উদ্ভব ঘটেছিল। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ইউসুফ আ. মিসরের কারাগারেই বন্দি ছিলেন। অপরাধীদের নানা রকম শাস্তি দেওয়া হতো কারাগারে। তবে অনেক সময় নিরপরাধ লোকও নানা কারণে জেলখানায় গেছে। আল্লাহর নবি ইউসুফ আ.-ও নিরপরাধ হয়ে কারাগারে দীর্ঘ সাত বছর ছিলেন। পবিত্র কোরআনে তাঁর কথা এভাবে এসেছে, ‘হে আমার প্রতিপালক! তাদের আহৃত কাজ থেকে কারাগার আমার কাছে অনেক প্রিয়।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৩৩)
তা ছাড়া মুসা আ.-কেও মিসরের তৎকালীন শাসক ফেরাউন কারাগারের ভয় দেখিয়ে বলেছিল, ‘তুমি আমাকে ছাড়া অন্য কোনো উপাসক গ্রহণ করলে আমি তোমাকে কারাবন্দিদের অন্তর্ভুক্ত করব।’ (সুরা : শুআরা, আয়াত : ২৯)
ইসলাম-পূর্ব আরবে কারাগার
ইসলাম-পূর্ব জাহেলি যুগেও আরব সমাজেও কারাগারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তাই হিরার শাসকরা মুনাজিরাদের সময় ইরাকে বেশ কয়েকটি কারাগার তৈরি করে। ইসলাম আগমনের পর কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে অপরাধের শাস্তির বিধান করা হয়। অনেক অপরাধের শাস্তির কথা শরিয়তে বর্ণিত নয়। কোরআন ও হাদিসে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত নয় এমন শাস্তিকে ‘তাজির’ বলা হয়। অপরাধের মাত্রা বুঝে বিচারকরা তাজির নির্ধারণ করেন। ইসলামী শাস্তির বিধান মতে, কারাগার কাউকে লাঞ্ছিত বা অপদস্থ করার জন্য নয়; বরং তা ব্যক্তির নিজস্ব কার্যকলাপে বাধা দেওয়ার একটি মাধ্যম। এটি মসজিদ কিংবা ঘরের মধ্যে রেখেও করা যায়। (ইবনে তাইমিয়া, মাজমুউল ফাতওয়া)
রাসুল সা.-এর যুগে অপরাধীদের জন্য প্রচলিত অর্থে নির্দিষ্ট কোনো কারাগার ছিল না; বরং প্রয়োজনের মুহূর্তে একটি স্থানে বন্দিদের রাখা হতো। আল্লামা আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাজম রহ. বর্ণনা করেন, ‘রাসুল সা.-এর কখনো কোনো কারাগার না থাকার বিষয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই।’ (আল মাহাল্লি : ৩৮৩/৯)
রাসূলের যুগের কারাগার
রাসূল সা.-এর যুগে সাধারণত অপরাধী ও যুদ্ধবন্দিদের মসজিদের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হতো। যেমন—সুমামা বিন উসাল রা.-কে তিন দিন মসজিদের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। সাহাবিদের প্রাত্যহিক কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। মসজিদে বন্দি করার কারণে মুসলিমদের সঙ্গে সরাসরি মেলামেশার সুযোগ হয় অনেকের। ফলে বহু অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৩৪৯)
ওমর রা.-এর যুগে ইসলামী সাম্রাজ্য বিস্তৃত হওয়ায় অপরাধী দমনে কারাগার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তখন মক্কায় অবস্থিত সফওয়ান বিন উমাইয়ার ঘর চার হাজার দিরহামে কিনে তা কারাগার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটাই ছিল ইসলামের ইতিহাসে প্রথম কারাগার। ওমর রা.-কে মুসলিম ইতিহাসে কারাগারের মূল প্রতিষ্ঠাতা অভিহিত করা হয়। চতুর্থ খলিফা আলী রা.-এর সময়ে কারাগারের অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা আরো বিস্তৃত হয়। সামগ্রিকভাবে ইসলামের ইতিহাসে আলী বিন আবু তালেব রা. কারাগারের সূচনাকারী হিসেবে পরিচিত।
আধুনিক কারাগারের সূচনা
উমাইয়া যুগে কারাগারের পরিধি আরো বিস্তার লাভ করে। মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান রা.-এর সময়ে দামেস্কের ‘আদ দারুল খাজরা’ প্রাসাদ প্রশাসনিক কাজের জন্য ব্যবহৃত হতো। এই প্রাসাদের অভ্যন্তরে কারাগারও স্থাপনা করা হয়। কেউ রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করলে তাকে সেখানে বন্দি করে রাখা হতো। (আত তানবিহ ওয়াল ইশরাফ, মাসউদি)
আব্বাসীয় যুগে কারাগারের ব্যবস্থাপনা আরো আধুনিক হয়। ‘মুতবিক’ নামে আব্বাসীয় খেলাফতের রাজধানীতে একটি কেন্দ্রীয় কারাগার স্থাপন করা হয়। মদিনার গভর্নর সায়িদ বিন আসের সময়ে মদিনায়ও এমন একটি কারাগার স্থাপন করা হয়েছিল। কুফার কারাগারটি ছিল সবচেয়ে সুরক্ষিত ও বিস্তৃত। ইরাকের শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সময়ে অনেক কারাগার তৈরি হয়। ওয়াসেত নগরীর দিময়াসে অবস্থিত কারাগারটি ছিল সবচেয়ে ভয়ানক কারাগার। (আল মুনতাজাম, ইবনুল জওজি)
কারা প্রশাসনের যাত্রা শুরু
ওমর বিন আবদুল আজিজ রহ.-এর সময়ে কারাগারের সার্বিক পরিস্থিতি সুবিন্যস্ত করা হয়। বন্দিদের নাম ও অবস্থা নথিপত্রে লেখার ব্যবস্থা করেন তিনি। তাদের শ্রেণিবিন্যাসও করা হয় সে সময়। (আত তাবাকাতুল কুবরা, আল ওয়াকিদি)। হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ ইমাম আবু ইউসুফ রহ. পরবর্তী সময়ে ওমর বিন আবদুল আজিজ রহ.-এর নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে সচেষ্ট হন।
কারাবিধি রচনা
উমাইয়া যুগের শেষে ও আব্বাসি যুগের শুরুতে কারাগার ও কারাবন্দিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ফলে খলিফা হারুনুর রশিদ তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ইমাম আবু ইউসুফ রহ.-এর কাছে কারাবন্দিদের আচরণবিধি নিয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে বলেন, যা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আল খারাজ’-এ যুক্ত করা হয়।
ইমাম আবু ইউসুফ রহ. ‘আল খারাজ’ গ্রন্থে কারাবন্দিদের অধিকার বিষয়ে ওমর বিন আবদুল আজিজ রহ.-এর নির্দেশনা উল্লেখ করে বলেন, ‘কারাবন্দিদের প্রতি সদয় হও, যেন তাদের জীবনাবসান না হয়। তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করো। তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, কারাবন্দিদের মধ্যে নিরপরাধ কেউ যেন না থাকে। অপরাধ নিশ্চিত না হয়ে কাউকে বন্দি করবে না। কারো ব্যাপারে সন্দিহান হলে আমাকে জানাবে। আর অশ্লীল কাজে লিপ্ত লোকদেরও বন্দি করার আগে নিশ্চিত হও। শাস্তি প্রয়োগের সময় বাড়াবাড়ি করবে না। বন্দিদের কেউ অসুস্থ হলে তার দেখাশোনা করো। ঋণ পরিশোধে অপারগ বন্দিদের ব্যভিচারকারী বন্দিদের সঙ্গে রাখবে না। বন্দিশালায় নারীদের জন্য পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা করবে। বন্দিদের দেখাশোনার দায়িত্বে তোমার আস্থাবান ও উৎকাচ গ্রহণ করে না এমন নীতিবান ব্যক্তিকে নিযুক্ত করো। উৎকোচ গ্রহণকারী যেকোনো অন্যায় কাজে লিপ্ত হতে পারে।’ (ইমাম আবু ইউসুফ, আল খারাজ, পৃষ্ঠা ১৫০)
কারাগারের ব্যয়ভার
কারাবন্দিদের ব্যয়ভার সম্পর্কে ‘আল খারাজ’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রত্যেকের ব্যয়ভার বাইতুল মাল থেকে বহন করাই আমার কাছে অধিক উপযুক্ত মনে হয়। মুশরিক তথা অমুসলিম বন্দিদের সঙ্গে সদাচার করা হবে এবং কারাগার থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। মুসলিম অপরাধী বন্দির ক্ষুধার কারণে মারা যাওয়া কল্পনাতীত ব্যাপার। ইমাম আবু ইউসুফ রহ. খলিফা হারুনুর রশিদকে অনুরোধ করেন, যেন বন্দিদের কাছে সরাসরি অর্থকড়ি দেওয়া হয়; নতুবা জেলারের কাছে দেওয়া হলে তা বন্দির কাছে পৌঁছাবে না। হারুনুর রশিদকে তিনি বলেন, এ কাজে আপনি একজন নীতিবান ব্যক্তিকে নিয়োগ দেবেন। প্রতি মাসের অর্থপ্রাপ্তদের নামে নথি থাকবে তার কাছে।
পরিবারের সঙ্গে অপরাধীর সাক্ষাৎ
এ ছাড়া ইমাম মুহাম্মাদ রহ. বলেছেন, পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়দের বন্দির সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। বন্দিদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা ইসলামী আইনজ্ঞদের মতে অন্যায়। নির্যাতনের কারণে কোনো বন্দির মৃত্যু হলে তা ইচ্ছাকৃত হত্যা বলে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেও ‘কিসাস’-এর ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। নানা কারণে নারীরাও বন্দি হয়েছে। তাই ইসলামী ইতিহাসের সূচনাকাল থেকেই কারাগারে নারীদের জন্য পৃথক থাকার ব্যবস্থা ছিল। নারীদের পৃথক ব্যবস্থার প্রতি মুসলিম আইনবিদরা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। নারী বন্দিদের দায়িত্বেও একজন নারী দায়িত্বশীল নিয়োগের নির্দেশনা দিয়েছেন তাঁরা। (আত-তাজ ওয়াল ইকলিল, ইবনুল মাওয়াক)
মুসলিম মনীষীদের কারাজীবন
রাসূলুল্লাহ সা.-এর যুগ থেকে ইসলামের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। খোলাফায়ে রাশেদার শাসনামলে তা আরো বিস্তৃতি লাভ করে। বিশাল বিস্তৃত মুসলিম বিশ্বে উম্মাহর কাছে ইসলামের বিধি-বিধান ও চিন্তাচেতনা সঠিকভাবে পৌঁছে দেন আত্মনিবেদিত একনিষ্ঠ আলেমরা। যুগে যুগে এ কাজ আঞ্জাম দিতে গিয়ে অন্যায়ভাবে কারাগারে নিপতিত হয়েছেন তাঁদের অনেকে। সহ্য করেছেন নানা রকম নির্যাতন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ কি মনে করে, আমরা ঈমান এনেছি এ কথা বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, তাদের কোনো পরীক্ষা করা হবে না? আমি তাদের পূর্ববর্তীদের পরীক্ষা করেছি, আল্লাহ তাআলা অবশ্যই প্রকাশ করবেন কারা সত্যবাদী এবং তিনি অবশ্যই প্রকাশ করবেন কারা মিথ্যাবাদী।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৩-২)
সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রা. বর্ণনা করেন, আমি রাসূল সা.-কে জিজ্ঞেস করি, কোন ধরনের মানুষ সবচেয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়? রাসুল সা. বলেছেন, ‘(সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার সম্মুখীন হয়) নবীরা। অতঃপর যাঁরা তাঁদের সর্বাপেক্ষা বেশি অনুগামী। এরপর যাঁরা তাঁদের সর্বাপেক্ষা বেশি অনুগামী। তারপর মানুষ দ্বিনের আনুগত্যের ধরণ হিসেবে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। তার দ্বীন মজবুত হলে পরীক্ষাও কঠিন হয়। আর তার দ্বীনের আনুগত্য দুর্বল হলে পরীক্ষাও তেমনি হয়। কোনো বান্দা পরীক্ষায় নিপতিত হয়ে তা থেকে মুক্ত হলে সে এমনভাবে জমিনে বিচরণ করে যে তাঁর কোনো পাপ বহন করতে হয় না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৩৯৮)
একসময় যখন কারাগার অপরাধ নির্মূলের চেয়ে ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। শাসকদের অপরাধের প্রতিবাদ করলে তাদের বন্দি করা হয়। মুসলিম নামধারী শাসকদের অনেকের সঙ্গে আলেম ও মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের নানা বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় এবং তাঁদের অনেককেই কারাগারে বন্দি করা হয়। ইসলামের ইতিহাসে কারাবন্দি আলেমদের অন্যতম হলেন, ‘সাইয়িদুত তাবেয়িন’ বা তাবেয়িদের সর্দার হিসেবে খ্যাত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব রহ.। তিনি মদিনার সাত ফকিহের অন্যতম ও প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ছিলেন। ৮৪ হিজরিতে খলিফা আবদুল মালিক নিজের দুই পুত্র ওয়ালিদ ও সুলাইমানকে পরবর্তী খলিফা হিসেবে নিযুক্ত করেন। উভয়ের জন্য সবার কাছ থেকে বাইয়াত আহ্বান করেন। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব উভয়ের জন্য বাইয়াত করতে অস্বীকৃতি জানান। কেননা একই সঙ্গে দুজনের হাতে আনুগত্যের শপথ নেওয়ার কোনো বিধান ইসলামে নেই। তাঁর সিদ্ধান্তের ফলে শাসকগোষ্ঠী ক্ষুব্ধ হয়। মদিনার তৎকালীন গভর্নর হিশাম বিন ইসমাইল তাঁকে ৬০টি বেত্রাঘাত করেন এবং কারাগারে বন্দি করে রাখেন। এ ছাড়া সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের কন্যার জন্য খলিফা আবদুল মালিক নিজের পুত্রের বিয়ের প্রস্তাব দেন। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং কুরাইশ বংশের একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেন। খলিফা এতে তাঁর ওপর আরো ক্রুদ্ধ হন এবং কারারুদ্ধ করার নির্দেশ দেন। (সিয়ারু আলা মিন নুবালা : ৪/২৩০)
হানাফি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আবু হানিফা রহ. জীবনের নানা সময়ে কারাগারে বন্দি ছিলেন। মুহাম্মাদ নাফস জাকিয়্যার নেতৃত্বে আলাবিদের বিদ্রোহে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আব্বাসি খলিফা আবু জাফর মানসুর তাঁকে বন্দি করেন। এর কিছুদিন পর ‘প্রধান বিচারক’ পদ প্রত্যাখ্যান করায় আবু হানিফাকে প্রচণ্ডভাবে প্রহার করা হয়। পাঁচ বছর বন্দি জীবন কাটানোর পর কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। (সিয়ারু আলা মিন নুবালা : ৪০১/৬)
পবিত্র কোরআন আল্লাহর সৃষ্ট বস্তু, নাকি তা স্বয়ং আল্লাহর অন্যান্য গুণাবলির মতো তাঁর সত্তাগত বিষয়। এ বিষয়ে চরম বিতর্ক তৈরি হয় আব্বাসি যুগে। সে সময় ‘মুতাজিলা’ সম্প্রদায়ের প্ররোচনায় আব্বাসি খলিফা মামুন, মুতাসিম ও ওয়াসিক কোরআনকে ‘মাখলুক’ তথা সৃষ্ট বস্তু—এই মতবাদের পক্ষ অবলম্বন করেন। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. এই ভ্রান্ত মতবাদের জোরালো প্রতিবাদ করেন। ফলে তাঁকে জীবনের দীর্ঘ একটি সময় কারাগারে কাটাতে হয়। চাবুকের আঘাতে রক্তাক্ত করা হয় তাঁকে। (সিয়ারু আলা মিন নুবালা : ১১/১৯৬)
বর্তমান উজবেকিস্তানের ফারাগানার শাসক এক দাসীকে মুক্ত করেন। কিন্তু দাসীর ইদ্দত (নিষিদ্ধ সময়) শেষ না হতেই শাসক তাকে বিয়ে করেন। হানাফি মাজহাবের প্রখ্যাত ইমাম শামসুল আইম্মাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ সারাখসি রহ. ওই শাসকের বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম ঘোষণা করেন। এ খবর শুনে শাসক তাঁকে ১৫ বছর কারাগারের অন্ধকার কূপে বন্দি করে রাখেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই দীর্ঘ সময় তিনি ইসলামী আইনের ওপর ৩০ খণ্ডের ‘আল মাবসুত’ গ্রন্থ রচনা করেন। এ ছাড়া ‘আস সিয়ারুল কাবির’ গ্রন্থের ব্যাখ্যা গ্রন্থও রচনা করেন। এই দীর্ঘ সময় তাঁকে কারাগারের একটি কূপের ভেতর রাখা হয়, যেখানে কোনো কালি-কলম ও বই বলতে কোনো কিছুই ছিল না। কিন্তু প্রতিদিনই এই মনীষীর কাছে ইলম শিখতে কূপের মুখে এসে ভিড় করত শিক্ষার্থীরা। তিনি মুখস্থ পাঠদান করতেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া তাঁর বক্তৃতা পরবর্তী সময়ে বিশাল গ্রন্থসম্ভারে পরিণত হয়। ‘আল মাবসুত’-এর বিভিন্ন অধ্যায়ের শেষে লেখা আছে ‘এ অধ্যায়টি জুমা ও জামাতে নামাজ আদায়ে বাধাপ্রাপ্ত বন্দি লিখিয়েছেন।’ (মাহমুদ হানাফি কাফাবি, কাতাইবু আলামিল আখবার)
হিজরি সপ্তম শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আলেম শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. শাম ও মিসরে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট সাতবার কারাবন্দি হন। বিভিন্ন ফতোয়া ও মাসয়ালার কারণে হিংসা ও বিদ্বেষের শিকার হয়ে তাঁকে বন্দি করা হয়। জীবনের পাঁচ বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। এ সময় তিনি রচনা করেছেন ‘আস সারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রাসুল’-এর মতো অসংখ্য অনবদ্য গ্রন্থ। মূলত ইসলামী বিশ্বাস ও বিধি-বিধানের ওপর গুরুত্বপূর্ণ লেখনী ও বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মানুষকে সজাগ করতে থাকেন। তাই জীবনে বারবার কারাবন্দি হতে হয়। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া : ১৪/৪১)
এ ছাড়া সাঈদ বিন জুবায়ের, ইমাম সুফিয়ান সাওরি, ইমাম মালিক বিন আনাস, ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল বুখারি (রহ.)-সহ যুগে যুগে অসংখ্য আলেম, মুহাদ্দিস, ফকিহ, কবি, সাহিত্যিক ও দার্শনিকরা নানা কারণে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
ইসলামে কারাবন্দিদের অধিকার
বন্দির প্রতি সদয় হওয়া : মানুষ হিসেবে সবার সম্মানবোধ থাকা চাই। স্বাধীন হোক কিংবা বন্দি হোক, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবার প্রতি অনুগ্রহ-অনুকম্পা থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি আদমের সন্তানদের সম্মান দান করেছি, স্থলে ও সমুদ্রে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি, তাদের উত্তম রিজিক দিয়েছি, আমার অনেক সৃষ্টির ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭০)
বদর যুদ্ধে অনেক কাফের বন্দি হলে সাহাবিদের উদ্দেশে রাসূল সা. বলেন, ‘তোমরা বন্দিদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করো।’ (আল মাগাজি, ১/১১৯)।
অসুস্থ বন্দির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা : বন্দি অসুস্থ হলে তার প্রতি সদয় হওয়া আবশ্যক। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যেকোনো অসুস্থের শুশ্রূষা করা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। ইমরান বিন হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, ‘জুহাইনা গোত্রের এক গর্ভবতী নারী রাসূল সা.-এর কাছে এসে বলে, হে আল্লাহর রাসুল, আমি ‘হদ’-এর উপযুক্ত। আমার ওপর তা প্রয়োগ করুন। রাসুল সা. তার আত্মীয়কে ডেকে বলেন, ‘এই নারীর প্রতি সদাচার করবে। সন্তান প্রসব করলে তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৬৯৬)
প্রয়োজন হলে বন্দিকে চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসকের ব্যবস্থা করবে। ইসলামের প্রত্যেক যুগেই সব বন্দির সুস্থতা নিশ্চিতের জন্য চিকিৎসক নিযুক্ত ছিল। ইমাম আবু ইউসুফ রহ. কারাগারেই বন্দির প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেছেন। খলিফা মুকতাদির বিল্লাহর (মৃত্যু ৩২০ হি.) সময়ে কারাবন্দিদের জন্য চিকিৎসক নির্ধারিত ছিল। বন্দি রোগীদের চিকিৎসার জন্য তাঁরা প্রতিদিন প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে আসতেন। (উয়ুনুল আনবা, পৃষ্ঠা : ৩০২)
বন্দির জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা : বন্দি যেই হোক না কেন, তার জন্য উত্তম খাদ্যের ব্যবস্থা করা ইসলামের নির্দেশনা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তারা খাবারের প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিদের আহার করায়।’ (সুরা দাহর, আয়াত : ৮)।
সুমামা বিন উসাল রা.-কে মসজিদে তিন দিন বন্দি করে রাখা হয়। তখন রাসূল সা. সাহাবিদের বলেন, ‘তোমরা তার সঙ্গে সদাচার করো। তোমাদের খাবার একত্র করে তার কাছে পাঠাও।’ সাহাবারা রাসূল সা.-এর উটের দুধও তার কাছে পাঠাত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৩৭২)
প্রখ্যাত সাহাবি মুসআব বিন উমাইর রা.-এর ভাই আবু আজিজ বিন উমাইর রা. বদর যুদ্ধে বন্দি হন। তিনি বর্ণনা করেন, ‘আমি বদর যুদ্ধে বন্দি ছিলাম। রাসূল সা. বলেন, ‘তোমরা বন্দিদের প্রতি সদাচার কোরো।’ আমি আনসারিদের একটি দলে বদর প্রান্তর থেকে ফিরছিলাম। তারা সকাল-বিকাল খেজুর খেত। আর রাসুলের নির্দেশের কারণে আমাকে বিশেষভাবে রুটি দিত। তাদের কারো হাতে রুটির টুকরা থাকত না। ফলে আমার খেতে লজ্জা লাগত। আর কাউকে দিতে চাইলেও সে নিত না।’ (মাজমাউজ জাওয়ায়িদ : ৬/৮২)
বন্দির জন্য বস্ত্রের ব্যবস্থা করা : বন্দির অনেক সময় পরিধানের কাপড় থাকে না। তখন বন্দির জন্য মানসম্মত কাপড়ের ব্যবস্থা করা আবশ্যক। জাবের রা. বর্ণনা করেন, বদরের যুদ্ধের পর বন্দিদের আনা হয়। তাদের মধ্যে আব্বাস রা.-ও ছিলেন। তাঁর গায়ে কোনো কাপড় ছিল না। রাসূল সা. তাঁর জন্য একটি জামা খুঁজতে লাগলেন। আবদুল্লাহ বিন উবাইয়ের কাপড় তাঁর বরাবর হয়। রাসূল সা. আব্বাস রা.-কে তা পরিধান করান।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৯১০)
বন্দিদের খোঁজখবর রাখা : রাসূল সা.-এর সময়ে এমন অনেক বন্দি সরাসরি সাহাবাদের কথা শুনে ও তাঁদের চলাফেরা দেখে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। প্রায় যুদ্ধের পর বন্দিদের মদিনায় আনা হতো। রাসূল সা. ও সাহাবাদের সাহচর্যে তারা ইসলাম গ্রহণ করত। তাই কারাগার স্থাপনের পর আলী রা. বন্দিদের দেখতে যেতেন। তাদের খোঁজখবর নিতেন। ওমর বিন আবদুল আজিজ রহ. প্রতি সপ্তাহে একটি দিন বন্দিদের দেখতে যেতেন। তাদের নানা দিকনির্দেশনা দিতেন। সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি রহ. মিসরের শাসক হওয়ার পর সপ্তাহে দুই দিন তিনি সাধারণ মানুষের অভিযোগ-অনুযোগের কথা শুনতেন। কায়রোর একটি কারাগারের দুরবস্থা জানতে পেরে তা সমূলে ভেঙে সেখানে একটি মাদরাসা স্থাপন করেন। (আল মুকাদ্দিমা, পৃষ্ঠা : ৪/৭৯)
অপরাধীর সংশোধনে ইসলামের কর্মসূচি
অপরাধের আর্থ-সামাজিক প্রভাব : সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজন অপরাধ দমন। আর অপরাধীর গতি রোধ ও সংশোধনের জন্যই মূলত কারাগারের ব্যবস্থাপনা। তাই প্রথমে অপরাধের মূলোৎপাটন প্রয়োজন, যেন অন্যরাও সতর্ক হয়ে যায়। মানুষের অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠার পেছনে আর্থ-সামাজিক পরিবেশ ও শিক্ষা-দীক্ষার প্রভাবই অনেক বেশি। অপরাধ বিস্তারে আর্থিক সচ্ছলতা বড় ভূমিকা পালন করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি কোনো জনপদ ধ্বংসের ইচ্ছা করলে এর বিত্তবানদের সৎকাজের নির্দেশ দিই, তারা পাপাচারে লিপ্ত হয়, ফলে এর ওপর শাস্তির আদেশ অবধারিত হয়, আমি তা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করি।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১৬)
প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুন রহ. বলেছেন, ‘সামাজিক বন্ধন ও শহর-নগরের নিত্যনতুন ধারায় জীবনকে রঙিন করতে থাকলে মানুষ একসময় লজ্জা ও শালীনতাবোধ হারিয়ে ফেলে এবং নানা রকম অপরাধে লিপ্ত হতে থাকে। অতঃপর অন্যরাও তাদের অনুকরণ করে। এ ক্ষেত্রে নগরপতিদের অন্যদের চেয়ে অগ্রগামী দেখা যায়। কেননা ধনী পরিবারগুলোয় অপরাধ থেকে বিরত রাখার মতো পারিবারিক বন্ধন খুবই দুর্বল হয়। তা ছাড়া অর্থের সয়লাব থাকে সবার মধ্যে।’ (আল মুকাদ্দিমা, পৃষ্ঠা : ১০৩-১০৪)
আল্লাহর প্রতি ঈমান সুদৃঢ় করা : অপরাধ থেকে মানুষকে ফেরাতে হলে অন্তরে আল্লাহর প্রতি সুদৃঢ় ঈমান অর্জন করতে হবে। ঈমানের প্রতিফলন অন্তরের বিশ্বাস, মুখের কথা ও হাতের কাজকর্মে প্রকাশ পাবে। অন্যথায় পরিপূর্ণ ঈমান অর্জিত হবে না। ঈমানের কারণে মুমিনের মনে আমলের আগ্রহ তৈরি হবে। আল্লাহ বলেন, ‘মুমিন পুরুষ ও নারী যে সৎকর্ম করবে আমি তাকে উত্তম জীবন দেব এবং তাদের কৃতকর্মের চেয়েও সর্বোত্তম বিনিময় দেব।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৭)
জ্ঞানার্জনের সুযোগ তৈরি করা : জ্ঞানার্জন ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দিক। রাসূল সা. সাহাবাদের সব সময় ইলম অর্জনের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। প্রত্যেকের প্রতিবেশী থেকে জ্ঞানার্জনের জন্য গুরুত্বারোপ করেছেন। কোরআন ও হাদিসে সব মুসলিমকে জ্ঞানার্জনে উৎসাহিত করা হয়েছে। আর কারাগারের বেশির ভাগ বন্দি ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার কারণে অপরাধে সম্পৃক্ত হয়। তাদের সংশোধনের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা আবশ্যক। খোলাফায়ে রাশেদা ও পরবর্তী যুগের খলিফারা প্রত্যেক কারাগারের বন্দিদের ইলম শেখার ব্যবস্থা করতেন। মূর্খ, উদাসীন ও অপরাধীরা যোগ্য আলেমের কাছ থেকে ইলম অর্জনের সুযোগ পেলে একসময় তাদের ভুলভ্রান্তি দূর হবে।
অপরাধীদের সংশোধনে ইউসুফ আ.-এর প্রচেষ্টা : আল্লাহর নবী ইউসুফ আ. কারাগারে বন্দি থাকার সময় বন্দিদের মধ্যে তাওহিদ ও রিসালাতের দাওয়াত দেন। আল্লাহ তাআলা ইউসুফ আ.-এর কথা বর্ণনা করে বলেন, ‘হে আমার কারাসঙ্গীদ্বয়, ভিন্ন ভিন্ন বহু প্রতিপালক উত্তম, নাকি পরাক্রমশালী এক আল্লাহ? তোমরা তাঁকে ছেড়ে শুধু কিছু নামের ইবাদত করছ, যা তোমাদের পূর্বপুরুষ ও তোমরা রেখেছ, এগুলোর কোনো প্রমাণ আল্লাহ অবতীর্ণ করেননি, বিধান দেওয়ার অধিকার শুধু আল্লাহর, তিনি আদেশ করেছেন একমাত্র তাঁরই ইবাদত করতে, এটাই শাশ্বত দ্বীন, কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ তা অবগত নয়।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৩৯-৪০)
ইসলামের ইতিহাসে কারাগারে জ্ঞানচর্চা : ইসলামের ইতিহাসে বহু বড় আলেম ও জ্ঞানী ব্যক্তি তাঁদের কারাগারজীবনে জ্ঞানচর্চা করে সময় কাটিয়েছেন। অন্য সুবিধার পরিবর্তে তাঁরা বই-পুস্তক, কাগজ-কলমের ব্যবস্থা করার আবেদন করেছেন। আব্বাসী যুগের প্রখ্যাত কবি আবুল আতাহিয়াকে খলিফা হারুনুর রশিদ বন্দি করেন। কারাগারে তার জন্য কাগজ-কলম ও বইয়ের ব্যবস্থা করেন। আল্লামা সারাখসি বন্দি থাকাকালে ১৫ খণ্ডের বিশাল গ্রন্থ লিখিয়েছেন। আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রহ. কারাগারে দামেস্কে বন্দি থাকাকালে একটি রুমে তিনি লিখতেন। তিনি কারাগারে অন্যায় কোনো কাজ দেখলে তার প্রতিবাদ করতেন। তাঁর প্রচেষ্টায় কারাগারটি ইলম চর্চার একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়। (আল উকুদ আদ দুররিয়্যাহ, পৃষ্ঠা : ২৬৯)
আহমদ সেরহিন্দ মুজাদ্দিদ আলফে সানি রহ. কারাগারে বন্দি থাকাকালে সেখানে অনুরূপ জ্ঞানচর্চা ও আমলের পরিবেশ তৈরি করেন। ভারতবর্ষের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বই কারাগারে বসে লেখেন।
উত্তম চরিত্র ধারণে উদ্বুদ্ধ করা : সুন্দর চরিত্র মানুষকে বদলে দেয়। তাই অপরাধীর মনোভাব সুন্দর করতে উত্তম চরিত্রের বীজ রোপণ করতে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সুন্দর চরিত্রের অধিকারী।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৭৫৯)
রাসুল (সা.) আরো বলেছেন, ‘আল্লাহ কোমলতাকে পছন্দ করেন। আল্লাহ কোমলতার বদলায় যা দেন, কঠোরতার কারণে তা দেন না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫৯৩)
