
মূল: খালিদ বেগ
ভাষান্তর: উম্মে মারিয়াম
সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা: দুই বিশ্বের মিলন/বৈপরীত্যের সমন্বয়:
পরস্পর বিরোধী এই দুই শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে সামাজিক টানাপোড়নের যে চিত্র তা প্রত্যেক মুসলিম দেশেই দেখা যায়।শতাব্দীরও বেশি সময় থেকে সবার মনেই এই প্রশ্ন যে কিভাবে এই দুয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা পূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করা যায়?!কেননা কোন একটিকে বাদ দিয়ে যেভাবে আগানো যাচ্ছিল না ঠিক তেমনি দুটি বিপরীতমুখী শিক্ষাব্যবস্থাকে একত্রে নিয়েও চলা যাচ্ছিল না।
আর এর সমাধানেই (অর্থাৎ ধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাকে একত্রিত করা) সমাজ ও সচেতন অভিভাবকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে হাইব্রিড সিস্টেম অর্থাৎ সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা। এই ধরণের স্কুলগুলো গণিত বিজ্ঞান সমাজ ইংরেজির পাশাপাশি কুরআন শিক্ষা, হিফজ প্রশিক্ষণ, ইসলামী পড়াশোনা এবং আরবিও শিখিয়ে থাকে। পাকিস্তানের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো যারা A লেভেল O লেভেল এর জন্য শিক্ষার্থী প্রস্তুত করে সেগুলোই এর বর্তমান উদাহরণ। আশা করা হয় এই শিক্ষাব্যবস্থার ফলে এমন চিকিৎসক, প্রকৌশলী, পরিচালক এবং বিভিন্ন স্তরের যোগ্যনেতা তৈরি হবে যারা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসলামী শিক্ষার সাথে দুনিয়াবী শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে সক্ষম হবে।
কিন্তু আসলেই কি তাই?
যদিও এসব স্কুলগুলো সাধারণ স্কুল থেকে ভালো কিন্তু তা আমাদের সমস্যার সমাধান হিসেবে যথেষ্ট নয়। যে শিক্ষাব্যবস্থাগুলোর মৌলিক বিষয়গুলো বিপরীতধর্মী এবং পরস্পরবিরোধী সেগুলোকে এক ছাদের নিচে আনার ফলেই সমঝোতা হয়ে যায় না। হাইব্রিড স্কুলের শেখানো বিজ্ঞান, সমাজ, চিকিৎসাবিদ্যা, প্রকৌশলবিদ্যা, আইন, সাংবাদিকতা বা অন্য যেকোন বিষয়ের মধ্যে ইসলামিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে দিলেই তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হবে না। সেকুলারদের তৈরি বই দিয়ে কখনও ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে না।
আমরা যদি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো একইভাবে ব্যবহার করি তাহলে সমস্যা থেকেই যাবে। কেননা সে সকল বই মহাবিশ্বকে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে চিনিয়েছে। যে দৃষ্টি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করে।
(“আসমান ও জমিনে অনেক নিদর্শন আছে তারা এ সমস্ত নিদর্শন এর প্রতি উদাসীন” -সূরা ইউসুফ, আয়াত 105)
বিজ্ঞানের যথাযথ শিক্ষা তো আল্লাহকে চিনতে, তার বড়ত্ব, মহত্ত্ব, বিশালতা ও তার স্বকীয়তাকে জানতে সহায়ক হওয়ার কথা ছিল। আর তার সাথে মানুষের অসহায়ত্ব ও তাদের জ্ঞান বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা অনুধাবনে সক্ষম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান বিজ্ঞান-শিক্ষা এর একেবারেই বিপরীত। শুধু কুরআন মুখস্ত বা আরবি ভাষা শিক্ষা এই মৌলিক সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়।
বিজ্ঞান বাচ্চাদেরকে শিখাচ্ছে “ভর ও শক্তি সংরক্ষণের সূত্র” যার মূল বিষয় হলো, এই মহাবিশ্ব অনন্ত। তাহলে সেই ছাত্র তার শেখা বিজ্ঞানের সাথে সেই মহাবিশ্বকে কিভাবে মেলাবে যা আল্লাহ তাআলা আপন কুদরতে সৃষ্টি করেছেন এবং একদিন তা ধ্বংস হয়ে যাবে?? কিভাবে তারা কুরআনের আলোকে মানব সৃষ্টির ইতিহাসের সাথে ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্ব মেলাবে? সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ আল্লাহর সৃষ্টির দিকে লক্ষ্য করেই আল্লাহকে খুঁজে নিয়েছে, বুঝেছে তার মহিমা, তার বিশালতা। যে বিজ্ঞান মহাবিশ্বকে চেনায় সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বকে স্বীকার না করেই, তার মাধ্যমে কিভাবে তারা আল্লাহকে চিনবে?
বিজ্ঞান এটাই শিক্ষা দেয় যে নিশ্চিত জ্ঞান তাই যা উপলব্ধি যোগ্য বা অনুভূতির সাথে সম্পর্কিত বাকি সবকিছুই সন্দেহযুক্ত অথবা কুসংস্কার! যেখানে কুরআনে শুরুতেই আছে তারাই কামিয়াব যারা গায়েবের বা অদৃশ্যের উপর ঈমান রাখে বা বিশ্বাস রাখে। কিভাবে এই পুঁজিবাদী বস্তুবাদী দর্শনের সাথে ইসলামী দর্শনকে সমন্বয় করা সম্ভব যখন তাদের মৌলিক বিষয়ে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী?
এক কথায় বলতে গেলে এটা কখনোই সম্ভব না। যদি তারা এ বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করে তাহলে তারা বিভ্রান্তি ও হতাশার মধ্যে পড়ে যাবে। এর ফলে এমনও হতে পারে যে তারা সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থাকেই নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বানাবে আর ধর্মকে ট্র্যাডিশন বানিয়ে সমাজের এক কোনায় ফেলে রাখবে। তারা হয়তো আচার-আচরণে শিক্ষাদীক্ষায় সাধারণ স্কুলে পড়ুয়া বাচ্চাদের চেয়ে অনেক ভালো হবে তবে সেই প্রত্যাশিত মুসলিম বৈজ্ঞানিক প্রকৌশলী ব্যবস্থাপক বা অন্যান্য পেশার যোগ্য লোক হয়ে উঠতে পারবে না। তারা প্রকৃতপক্ষে এটাই শিখবে যে ইসলাম একটি চমৎকার ধর্ম যা আমাদের হৃদয়ের সাথে সম্পৃক্ত কিন্তু তা বর্তমান বিশ্বের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক। হাইব্রিড সিস্টেমে ইসলামী ব্যবস্থার সাথে দুনিয়াবী বিষয়গুলো পড়ানোর ফলে তাদের মধ্যে অন্য এক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে যার মূল বিষয় হবে- জীবনের ক্ষেত্রে ইসলাম অপ্রয়োজনীয়’।
সমস্যাটি শুধুমাত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এটা পুরো সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত। আমাদের এমবিএরা শিখছে যে কোন ব্যবসার লক্ষ্য হল সর্বাধিক মুনাফা অর্জন আর মার্কেটিংয়ের লক্ষ্য হলো সেই মুনাফা অর্জনের জন্য পণ্যগুলোকে আকর্ষণীয় করে তোলা। যারা যে বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে তারা সেখানে আরও বেশি শানদার হওয়ার চেষ্টা করে আর এটাই স্বাভাবিক। আমাদের সাংবাদিকতার সেরা গ্র্যাজুয়েটরা পশ্চিমাদের উপস্থাপিত সাংবাদিকতার মডেল অনুসরণ করে। খবর সংগ্রহ ও তা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব কোন উদ্দেশ্য ও নৈতিকতা নেই যা তাদেরকে কোন স্বকীয়তা দিতে পারে। অর্থনীতি আমাদের শিখিয়েছে মানুষ উপযোগ ক্রমবৃদ্ধি-সম্পন্ন প্রাণী। অর্থাৎ মানুষের উপযোগিতা দিন দিন বাড়বে। ইতিহাসের শিক্ষা থেকে আমরা দেখি জাতির উত্থান-পতনে নেই কোন নৈতিকতার উদাহরণ। দেখা যায় না কোথাও আল্লাহর আইনের প্রয়োগ। মনোবিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞান, মেডিসিন ইঞ্জিনিয়ারিং, নাগরিক বিদ্যা বা ভূগোল সব ক্ষেত্রে একই চিত্র। প্রকৃতপক্ষে আমাদের স্কুল কলেজগুলো ইসলামী সমাজকে ধর্মনিরপেক্ষ করার মূল হোতা হিসেবে কাজ করছে।
এই সমস্যা শুধু হাইব্রিড সিস্টেমেই সীমাবদ্ধ নয়। হাইব্রিড স্কুলে দেওয়া বাচ্চাদের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ এটাই আশা করতে পারি যে তারা অন্তত প্র্যাকটিসিং মুসলিম হয়ে উঠবে। তবে তাদেরকে যদি সেকুলারদের বাতিল দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে স্বশিক্ষিত ও সুশিক্ষিত না করে তোলা হয়, তাহলে তারা সমাজের অন্যান্য সাধারণ স্কুলে পড়া বাচ্চাদের মত একই পথে যাবে। অর্থাৎ ইসলামকে শুধু ধর্ম মনে করবে, কোন পরিপূর্ণ জীবন-বিধান নয়।
পাকিস্তানের হাইব্রিড স্কুলগুলোতে আরো কিছু গুরুতর সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। স্কুলগুলো মাদ্রাসা দ্বারা পরিচালিত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে মাদ্রাসার সাথেই স্কুলগুলো তৈরি হয় কিন্তু তাদের পৃথক ব্যবস্থাপনায় বলে দেয় যে তারা দুটি পৃথক বিশ্বের অন্তর্ভুক্ত। হাইব্রিড স্কুলের চড়া ফি, অক্সফোর্ড থেকে আনা ইংরেজি বই, আরবি বা উর্দু ভাষার থেকে ইংরেজিকে অধিক প্রাধান্য দেওয়ার ফলে তৈরি হয়েছে এক বিরাট বৈষম্য। হাইব্রিড স্কুলের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ব্যবস্থাকে প্রথম স্তরের আর মাদ্রাসা ব্যবস্থাকে তৃতীয় স্তরের মনে করে। তারা মনে করে তাদের শিক্ষায় দুনিয়াতে কাজে আসে আর মাদ্রাসা শিক্ষা সম্পূর্ণ বেকার। কিন্তু তারা নিজেদের শিক্ষাব্যবস্থার বিকৃতি এবং দুর্নীতি জানে না বা জানতে পারেনা। এসব দেখে মনে হয় স্বয়ং লর্ড ম্যাকলও এ ধরনের স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে পারত না।
সমাধান : সমন্বিত পাঠ্যক্রম
আসল সমাধানের জন্য আমাদের মনের দাসত্ব প্রবৃত্তির মুক্তির প্রয়োজন। ইংরেজরা আমাদের অন্তরকে তাদের ছাঁচে গড়েছে, লালন করেছে এবং জোরদার করেছে, ফলে তা থেকে বের হয়ে আসা সহজ কথা নয়। তবে মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া এর সমাধান সম্ভব নয়।
আসুন কল্পনা করি সেই সময়ের কথা, যখন ইউরোপের দেশ গুলি জ্ঞান-গরিমায় অগ্রসর হচ্ছিল। অপরদিকে আমরা মুসলিমরা ছিলাম তখন মুক্ত ও স্বাধীন। তখন আমাদের করণীয় কি ছিল?? নতুন কিছু না বরং ইতিহাসের অন্যান্য সময় যা করেছি তাই করা উচিত ছিল। আর সেটা হলো আমাদের বিশ্বদর্শন, উদ্দেশ্য নীতি-নৈতিকতার ধারণা ও মূল্যের সাথে তাদের উপকারী জ্ঞান বা জ্ঞানের উপকারী অংশের সমন্বয় করা। আমরা সবসময় হিন্দু, ইহুদী ও খ্রিস্টানদের কাছ থেকে পার্থিব জ্ঞান গ্রহণ করেছিলাম যেগুলো স্বাভাবিকভাবে আমাদের সমাজে স্থান করে নিয়েছিল। বিষয়টা এত বেশি স্বাভাবিক ছিল যে সে সবের কোন স্বকীয়তা ছিলনা। তা ছিল সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে, কোন বিদেশী শক্তির পক্ষ থেকে চাপানো অংশ নয়।
পূর্বের সেই সম্মানজনক পদ্ধতিকে অনুসরণ করে একটি সমন্বিত কারিকুলাম পাওয়া সম্ভব। কেবল তখনই প্রতিটি বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিতে আবদ্ধ হবে আর আমাদের পুরো শিক্ষাব্যবস্থা হবে ইসলামের আদর্শে অঙ্কিত।
আল খাওয়ারিজমীর বীজগণিত:
আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু কি সেটা বুঝতে মোহাম্মদ বিন মুসা আল খাওয়ারিজমীর কথা চলে আসে। তিনি আধুনিক বিশ্ববাসীকে বীজগণিতের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আল-মামুনের সময়ের লোক এবং বায়তুল হিকমার প্রধান। চলুন তার জ্ঞানগর্ভ বই থেকে আমরাও কিছু জ্ঞান অর্জন করি। তিনি বইটি শুরু করেছেন এভাবে-
“সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি নেক বান্দাদের উপর নেয়ামত বর্ষণ করেন এবং তা প্রেরণ করেন যোগ্য অধিকারীদেরকেও। সকল কৃতজ্ঞতা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য এবং কৃতজ্ঞতা তার নেয়ামতের প্রাচুর্যতা ও দানশীলতার জন্য। আমরা তার নেয়ামতের মুখাপেক্ষী। আমাদের প্রার্থনা এই যে তিনি যেন আমাদেরকে হেফাজত করেন। আমরা তার একত্ববাদকে স্বীকার করি, তার শক্তির সামনে নতজানু হই এবং তাঁরই গুণের প্রশংসা করি।”
এ ধরণের ভূমিকা নিঃসন্দেহে এ ধারণা নষ্ট করে দেয় যে আমরা ধর্মনিরপেক্ষ কিছু শুরু করতে যাচ্ছি। সাম্রাজ্যবাদী শাসনের পূর্বের যুগে রসায়ন, চিকিৎসা, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান বা অন্য যেকোন বিষয়ের বই এভাবে শুরু হতো। তখন ধর্মহীনতা বা ধর্মনিরপেক্ষতার কোন ধারনাই ছিল না। প্রথমত এই ভূমিকা আমাদের এই বিষয়ে তো সতর্ক করে যে আমরা কথা বা কাজ দিয়ে যদি এমন কিছু করি যা আল্লাহ তাআলার আদেশের বিপরীত তবে অবশ্যই আমাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। দ্বিতীয়তঃ প্রশংসাসূচক শব্দগুলো লেখকের অন্তরের কথা, আবেগের কথা। তিনি কোন নিয়ম মেনে প্রচলিত সমাজের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কথাগুলো লিখছেন না। এরপরই তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দরুদ ও সালাম পেশ করে এভাবে বলেছেন যে-
“তিনিই সে, যিনি দীর্ঘবিরতির পর মুহাম্মদ সাল্লাহু সাল্লাম (তার উপর তার পরিবারের উপর ও তাঁর বংশধরদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)কে প্রেরণ করেছেন নবুওয়াতী দায়িত্ব দিয়ে, যখন ন্যায়বিচার ছিল উপেক্ষিত, অবহেলিত। আর মানুষ জানত না আসল দ্বীনের খোঁজ।
এরপরই তিনি বইটি কেন লিখেছেন সেই উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন তিনি বলেছেন-
“এটা সম্পূর্ণকরণ বা আল জাবর ও হ্রাসকরণ নিয়ম নিয়ে বর্ণিত গণনার একটি সংক্ষিপ্ত বই। দৈনন্দিন জীবনে মানুষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গণনার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে।যেমন উত্তরাধিকার বণ্টনে বিভক্তিকরণের মামলা-মোকদ্দমা ব্যবসা একে অন্যের সাথে লেনদেনে খাল খনন বা জ্যামিতিক হিসাব করণে। এই বইয়ের দ্বারা এসব অনেক বেশি সহজ হয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করি।”
উদ্দেশ্যটির মধ্যে যে স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে, তা হলো, মানুষের ফায়দা পৌঁছানো বা উপকার করা। তাছাড়া এটি ছিল ইসলামী ঐতিহ্যের গৌরবময় সময় রচিত বইগুলোর মধ্যে অন্যতম। তৎকালীন সময়ে তাদের শিক্ষার উদ্দেশ্য ছিল পরিষ্কার। তারা শুধু শিক্ষা গ্রহণ করত না বরং তাদের সামনে সবসময়ই কোনো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থাকত। যা এখনকার সময়ের বিপরীত চিত্র। এখন তো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বড় সংখ্যক শিক্ষার্থীদের মাথায় শুধু ডিগ্রী-চিন্তা। তাদের কোন ধারণাই নেই যে, তারা কেনই বা পড়ছে আর কিবা পড়ছে!!
এরপরে আল খাওয়ারিজমী আরও একটি মহৎ উদ্দেশ্যের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, “আমার একান্ত আশা, বিদ্বান ব্যক্তিরা এই কর্মের জন্য আমাকে পুরস্কৃত করবেন আর সেই পুরস্কার হলো আমার জন্য আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া যার ফলে আল্লাহর রহমত লাভ আমার জন্য সহজ হয়।”
এই উদ্দেশ্যের মহত্ব দর্শন ও সামগ্রিক বুদ্ধিমত্তা আমাদের ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে প্রবেশ করাতে হবে। আর তার জন্য দরকার শিক্ষা বিষয়ে আমাদের চিন্তা ভাবনার সংস্কার। ছোট থেকে বড় সর্বস্তরের পাঠ্যপুস্তক নতুন করে লিখতে হবে। পরিকল্পনা এমন হবে যাতে পাঠ্যক্রমগুলো হয় ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি, ইসলামী দর্শনের আলোকে। অবশ্যই এর জন্য বিশাল সংস্থান দরকার। তবে আরো বড় সমস্যা হল আমরা এখনো বুঝতে পারিনি যে হাইব্রিড সিস্টেম আমাদের সমাধান নয় বরং এটা নতুন সমস্যা। নতুন পুনর্গঠিত মডেলের দিকে আমাদের মেহনত করতে হবে। আর তা শুরু করতে হবে শিক্ষক তৈরি ও প্রশিক্ষণ দিয়ে। নিষ্ঠাবান শিক্ষকরা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারবেন। ক্লাসরুমের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয়তার উপর ভিত্তি করে তারা নতুন পাঠ্যপুস্তক লিখতে পারবেন। আর এভাবেই তারা শিক্ষাব্যবস্থার বিপ্লবে কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিতে পারবেন।
তাই এখন থেকেই শুরু হোক আমাদের মনের সংস্কার। মুক্তি পাক আমাদের মানসিক দাসত্ববোধ।
