অযোধ্যায় এবার মসজিদ নির্মাণের কার্যক্রম শুরু

ফাতেহ ডেস্ক:

ভারতের উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের পর এবার মসজিদ নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অযোধ্যার ধন্নিপুরে মসজিদটি নির্মাণ করা হবে। এর ক্ষেত্রফল হবে ১৪০০ বর্গ মিটার। বাবরি মসজিদের ক্ষেত্রফলও তাই ছিল। এর আগে গত ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

ভারতীয় গণমাধ্যম জিনিউজি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন নামক ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে মসজিদটি নির্মাণ করা হবে। উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডের প্রেসিডেন্ট জুফর আহমেদ ফারুকিকে ওই ট্রাস্টের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, বাবরি মসজিদের পরিবর্তে এই মসজিদ নির্মাণ করা হলেও এখনো নাম ঠিক করা হয়নি। আলোচনার পরই এই মসজিদের নাম চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে মসজিদটির নাম ‘ধন্নিপুর মসজিদ’ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা গেছে, মসজিদের জন্য বরাদ্দ করা জমিতে রোববার ট্রোপোগ্রাফি নকশা তৈরি করা হয়েছে। এখন সেই নকশা মসজিদ সংক্রান্ত উল্লিখিত ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ধন্নিপুরের যে স্থানে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হবে, তার আশপাশে কোনো হাসপাতাল নেই। তাই সাধারণ মানুষ সেখানে একটি হাসপাতাল করার দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি মেনে মসজিদের পাশাপাশি একটি হাসপাতালও করা হবে।

উল্লেখ্য, ষোড়শ শতকে মোগল সম্রাট বাবরের শাসনামলে অযোধ্যায় ওই মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সম্রাট বাবরের নাম অনুসারে এর নাম দেওয়া হয় বাবরি মসজিদ। কিন্তু মোগল শাসনের অবসানের পর হিন্দুরা মসজিদের জায়গাটিকে রামের জনর্মস্থান বলে দাবি করে। এ নিয়ে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বিবাদ চলে আসছিল।

অবশেষে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে। এ নিয়ে দেশটিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। যাতে অন্তত দুই হাজার লোক নিহত হন। এর পর দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি ভারতের আদালত রায় ঘোষণা করে। রায়ে বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়। আর অযোধ্যারই অন্য কোনো স্থানে মসজিদ নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আগের সংবাদআশুরায় তাজিয়া মিছিল নিষদ্ধ
পরবর্তি সংবাদআলজেরিয়ার স্বাধীনতার বার্ষিকীতে আফ্রিকার বৃহত্তম মসজিদ উদ্বোধন