‘যৌন পরিচয় নিয়ে সংশয়’ : যে কারণে পশ্চিমা চিন্তায় বিপর্যয়

মুনশী নাঈম:

সমকামীদের সমকাম জায়েয করার পেছনে অন্যতম যুক্তি হলো–এটা তাদের প্রাকৃতিক অধিকার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা। মানুষ তার দেহের একচ্ছত্র অধিপতি। তার দেহের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সে নিজেই। অন্য কারো এতে নাক গলানোর অধিকার নেই। আরব নাস্তিক শরীফ জাবের বলেন, সমকামিতা একটি প্রাকৃতিক আচরণ। এটাকে ভয় পাওয়া বা দূরীভূত করা উচিত নয়, বরং এটি সমর্থন করা উচিত এবং এর সাথে পুনর্মিলন করা উচিত।

২০১৫ সালে যখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৫০ টি রাজ্যের মধ্যে ৩৬টিতে সমকামী বিবাহের অনুমতি দিয়েছিল, তখন ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল এবং অন্য অনেক দেশ সমকামী বিবাহের অনুমতি দেয়।

সমকামিতার পক্ষে তিনটি যুক্তি

সমকামিতার প্রবক্তারা তিনটি অক্ষের উপর ভিত্তি করে স্বাভাবিক সমকামিতার ধারণা প্রচার করে। এক. প্রাণী আচরণের সাথে মানুষের আচরণের তুলনা। কারণ বহু প্রাণী সমকামী আচরণে জড়িত থাকতে দেখা গেছে। দুই. মানব ডিএনএতে সমকামিতা এবং সাধারণভাবে যৌন আচরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট জিনগত কোড রয়েছে। তিন. পরিবর্তনশীল পরিবেশ এবং সামাজিক কারণগুলির যৌন অভিমুখীকরণ এবং পরিচয় নির্ধারণের সাথে কোনও সম্পর্ক নেই।

তবে তাদের এই অক্ষগুলো বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রচুর সন্দেহের মুখোমুখি হয়েছে। বৈজ্ঞানিক লেখক নীল হোয়াইটহেড এবং প্রিয়ার হোয়াইটহেড তাদের বই ‘মাই জিনস মেড মি ডু ইট!’ গ্রন্থের সূচনায় বলেছেন, “পশ্চিমা বিশ্ব বিশ বা ত্রিশ বছরে প্রতারণার প্রচারের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনবিদ থেকে বিচারক এবং গীর্জা থেকে শুরু করে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারদের সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করে যে, সমকামিতা যৌগিকভাবে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত এবং তাই পরিবর্তন করা যায় না।’ মিডিয়া বিশ্লেষক মার্ক ডাইস তাদের সাথে একমত হয়ে বলেছিলেন যে, ‘উদার মিডিয়া আমেরিকানদের সমকামিতায় আগ্রহী করতে সমকামিতা প্রচারের মাধ্যমে মস্তিষ্ক ধোয়া অপারেশন চালিয়েছিল।’

পশুর মধ্যে সমকামী আচরণ

অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, প্রাণীর সমকামী আচরণের স্বাস্থ্য এবং প্রবৃত্তির উপর মানুষের সমকামী আচরণের তুলনা করা দুটি কারণে ভুল। এক. প্রাণী এবং মানুষের প্রবৃত্তি এবং আচরণ এক নয়। একটির আচরণ আরেকটির ওপর পরিমাপ করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ, কিছু বিড়াল বিড়ালছানাকে হত্যা করে, যদিও সে তার সন্তান হয়। তবে কিছু মনস্তাত্ত্বিক এবং জৈব পরিবর্তনের কারণে বিড়ালদের মধ্যে এটি একটি স্বভাবজাত কাজ। এর ওপর ভিত্তি করে একজন ব্যক্তির পক্ষে আরেকজনকে হত্যা করা করা কিন্তু সহজাত বলে ধরা হবে না। দুই. বেশিরভাগ সমকামী প্রাণীই সমকামী লিঙ্গের প্রতি লালসা ও যৌন আকাঙ্ক্ষার উদ্দেশ্যে প্রবৃত্ত হয় না। বরং পশুর রাজ্যে সমকামিতার অর্থ হলো–পুরুষ অন্যান্য পুরুষদের উপর নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা করে, প্রভাবশালী পুরুষ একটি নির্দিষ্ট জমির উপর তার আধিপত্য প্রদর্শন করে। সবচেয়ে শক্তিশালী খুঁজছে এমন নারীদের সামনে তার পুরুষত্ব প্রমাণ করে সেই পুরুষ। সুতরাং প্রাণীর সমকামিতাকে মানুষের সমকামিতার সমর্থনে ব্যবহার করা যাবে না।

একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় একদল বিজ্ঞানী একদল পুরুষ বানরকে তাদের মায়েদের কাছ থেকে আলাদা করেছিলেন এবং মায়ের উপস্থিতি ছাড়াই তাদের প্রতিপালন করেছিলেন। যখন এই বানরগুলি বড় হলো, তাদের কাছে যৌন আবেদনময়ী মহিলা বানরদের উপস্থাপন করা হলো। কিন্তু বানরগুলি বিভ্রান্ত এবং বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। কিছু পুরুষ বানর মহিলা বানরগুলির সাথে মিলনের চেষ্টা করে, তবে তারা ব্যর্থ হয়। এই সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছিল যে, বানরের যৌন প্রবৃত্তি প্রাকৃতিক নয়, এটা লালন পালনের মধ্য দিয়েই বৃদ্ধি পায়, গ্রো করে।

মিডিয়া এবং সমকামী জিনের বিশ্বাসযোগ্যতা

সমকামী প্রবক্তরা বলেন, মানব ডিএনএতে সমকামিতা এবং সাধারণভাবে যৌন আচরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট জিনগত কোড রয়েছে। পশ্চিমা সংবাদপত্র এবং ওয়েবসাইটগুলো প্রায়শই এই নিয়ে হুটহাট কিছু শিরোনাম করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনায়, বিখ্যাত আমেরিকান জিনতত্ত্ববিদ এবং সমকামী সমর্থক ডিন হ্যামার জেনেটিক্স এবং সমকামের মধ্যে যোগসূত্র নিয়ে গবেষণা চালিয়েছিলেন। আমেরিকান সংবাদপত্রগুলি একটি স্পষ্ট শিরোনামে খুব দ্রুত সংবাদটি ছেপেছিল: ‘গবেষক সমকামিতার জিন আবিষ্কার করেছেন’। এই শিরোনামটির আকর্ষণীয়তা এবং গড় পাঠকের কাছে এর সুস্পষ্ট অভিব্যক্তি সত্ত্বেও, ডিন হ্যামার নিজেই এটি অস্বীকার করেছেন। সংবাদ প্রকাশের পর তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা যৌন প্রবণতার জন্য জিনকে দায়ী করিনি। বরং আমরা বিশ্বাস করি, জিনে এর অস্তিত্বও নেই।

২০১৫ সালের অনুরূপ ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি দল কিছু এপিজেনেটিক মার্কার উপস্থিত থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এটি সরাসরি পুরুষ সমকামিতাকে প্রভাবিত করে। জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘নেচার খুব ভালভাবে খবরটি ছেপেছিল এবং বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক ওয়েবসাইট দ্রুত খবরটি কাভার করেছিল। কিন্তু এর পরপরই কয়েকটি তদন্তকারী দল গবেষণাটি পর্যালোচনা করেছেন এবং বেশ কয়েকটি ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন, যা পুরোপুরি গবেষণার নির্ভরযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করে বসে। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী লেখক এড ইয়ং এই ত্রুটিগুলির কয়েকটি চিহ্নিত করেছেন এবং জেনেটিক্সের অধ্যাপক জন গ্রিলি সমীক্ষায় বৈজ্ঞানিক ও পরিসংখ্যানগতভাবে ঘাটতির সমালোচনা করেছেন।

যৌন আচরণের জেনেটিক স্টাডিজ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ-ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের একটি দল ২০১৪ সালে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়েছিল। এই গবেষণায় ৪০০ পুরুষ সমকামীর ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু গবেষকরা তাদের সমকামী যৌন দৃষ্টিভঙ্গির জন্য কোনও একক জিনকে দায়ী করতে পারেননি। তারা বলেছিলেন, ‘জিনগুলো পুরুষদের মধ্যে কাউকে সমকামী করার জন্য যথেষ্ট নয়।’ আমেরিকান জেনেটিক্সের অধ্যাপক অ্যালান স্যান্ডার্স এই সমীক্ষায় মন্তব্য করেছিলেন: ‘জিন পুরো গল্প নয়, বরং কিছুই নয়।

নেব্রাস্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যামিলি স্টাডিজের অধ্যাপক ডাবলাস অ্যাবট এই সমস্যাটি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ‘অনেক লোক মনে করেন যে, জিনগুলো সরাসরি আচরণের কারণ হয়। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবেশগত কারণ এবং মানুষের ইচ্ছাশক্তির স্বাধীনতার যৌথ ক্রিয়ায় প্রভাবিত হয়ে জিন কাজ করে।

পশ্চিমা বিশ্বে সমকামিতার হার

ওয়ান এন টেন ফাউন্ডেশন আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং প্ল্যাটফর্মের সাথে মিলে এই ধারণাটি জনপ্রিয় করে তোলে যে, জনসংখ্যার ১০% প্রাকৃতিকভাবে সমকামী। কিন্তু এই শতাংশ কি বাস্তব? ২০১০ সাল নাগাদ পশ্চিমা দেশগুলিতে সমকামীদের অনুপাত নির্ধারণের জন্য ত্রিশেরও বেশি জরিপ চালানো হয়েছিল। একটি গবেষণায়ও ১০% হারের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েনি। সবগুলো গবেষণার হার ২-৩% এর মধ্যে ছিলো।

মজার একটি তথ্য হল, পাশ্চাত্য গীর্জার মধ্যে সমকামিতার হার লক্ষ্যণীয়ভাবে বেশি এবং এই হার কখনও কখনও রেকর্ড করা হয়। আমেরিকান পুরোহিত ম্যালকম বয়ড বলেছেন, তিনি হলিউডের চেয়ে গীর্জার মধ্যে বেশি সমকামীর দেখা পেয়েছিলেন। ২০০০ সালে, ব্রিটিশ সংবাদপত্র টাইমস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, আমেরিকান খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের মধ্যে এইডসের মৃত্যু সম্পূর্ণ জনসংখ্যার মৃত্যুর তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। এছাড়াও এমন কিছু প্রতিবেদন রয়েছে, যেগুলো আমেরিকান গির্জায় সমকামিতার হার অসাধারণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত করে। কখনও কখনও সেটা ৩০ শতাংশে পৌঁছে যায়।

সমকামিতার সামাজিক কারণ

পরিবেশগত ও সামাজিক কারণগুলো উপেক্ষা করে একা একা জিনগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করে না। কারণ জিনের কাজের প্রকৃতি হল, তারা নির্দিষ্ট পরিবেশে কার্যকারিতা অর্জন করেই অব্যাহতভাবে সামাজিক পরিবেশে হস্তক্ষেপ করে। আমেরিকান বৈজ্ঞানিক লেখক ডেভিড শ্যাঙ্ক এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ‘সম্পূর্ণ ব্লুপ্রিন্টের পরিবর্তে জিনগুলো রেকর্ডিং স্টুডিওগুলোতে ভলিউম নিয়ন্ত্রণের জন্য বোতাম এবং স্যুইচের মতো হয়। আমরা আমাদের জিন থেকে সরাসরি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হই না। বরং আমরা জিন এবং পরিবেশের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার গতিশীল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্য বিকাশ করি।’

সমকামীতার প্রবণতাকে প্রভাবিত করে এমন সামাজিক কারণগুলির মধ্যে অন্যতম একটি হলো–পিতা বা মায়ের অনুপস্থিতি। একটি গবেষণায় দেখা যায়, পিতা বা মাতার অনুপস্থিতি সমকামিতার শতাংশকে ২০% এরও বেশি করে তোলে। তরুণদের সাহচর্য সম্পর্কিত গবেষণায় দেখা গেছে, সমকামীদের প্রায়শই একই লিঙ্গের কয়েকজন বন্ধু ছিল এবং একই লিঙ্গের বৃহত্তর গ্রুপ থেকে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। পারিবারিক কর্মহীনতা বা তাদের সামাজিক পরিবেশ প্রত্যাখ্যানের ফলস্বরূপ কিছু বাচ্চাদের মধ্যে লিঙ্গহীনতার অনুভূতির একটি অবস্থা উপস্থিত হয়, যা তাদের সমকামিতার প্রবণতায় ১৫% অবদান রাখে। বিশেষত যদি তারা এই বয়সে শিশুদের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।

সমকামিতা: দেহের স্বাধীনতা এবং প্রাকৃতিক অধিকার

সমকামীরা দেহের স্বাধীনতার কথা বলে। বলে এটা তাদের প্রাকৃতিক অধিকার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতা। কিন্তু এই অধিকার ও স্বাধীনতা কি কোনো প্রশ্ন ছাড়াই অনুমোদিত?

প্রাকৃতিক এবং আইনগত অধিকার হল দুই ধরনের অধিকার। প্রাকৃতিক আইন কোনো ধরনের কোনো বিশেষ ধরনের সংস্কৃতি বা সরকারী আইন বা প্রথার ওপর নির্ভর করে না। এবং এই আইনগুলো সার্বজনীন এবং অবিচ্ছেদ্য। এই আইনগুলি কোনোদিনই কোনো আইন এর দ্বারা পরিবর্তিত হতে পারবে না। আইনি অধিকার একটি আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে যে কারো ওপর অর্পিত হয়। এগুলো মানুষের আইনের দ্বারা পরিবর্তিত, পরিবর্ধিত ও বাতিল হতে পারে। মানবাধিকারের ধারণা অনেকটা প্রাকৃতিক আইনের সাথে সম্পর্কিত।

ইংরেজ দার্শনিক থমাস হব‌সের মতে, মানুষের জীবন সম্পূর্ণরূপে স্বাধীনতা দিয়ে গড়া। প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক (মানবীয়) অধিকার হল, নিজের প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিজের শক্তি নিজ থেকে ব্যবহার করা। এটি একটি অনিশ্চিতকর পরিস্থিতি; এখানে সবার বিরুদ্ধে সবার যুদ্ধ। নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে ও নিজেদের প্রাকৃতিক লালসা পূরণ, নিরাপত্তা ও সম্মান অর্জন করতে দরকার হলে সকল মানুষ সকলকে মেরে ফেলবে। তাই হবস বলেছেন, সীমাহীন অধিকারের দ্বারা তৈরি বিশৃঙ্খলার এই পৃথিবীটি অত্যন্ত অযৌক্তিক, কারণ এখানে মানুষের জীবন হতে পারে “একা, দরিদ্র, কদর্য, নির্দয়, এবং সংক্ষিপ্ত”। মানুষ যদি শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চায়, তবে তাদের অধিকাংশ প্রাকৃতিক অধিকার ছেড়ে দিতে হবে এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নৈতিক বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে।

হবসের মতো পশ্চিমা দার্শনিক জন লকও জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির প্রাকৃতিক অধিকারে বিশ্বাস করতেন। লকের মতে তিন ধরনের প্রাকৃতিক আইন বিদ্যমান: এক. জীবন; সবাই বাঁচতে চায়। দুই. স্বাধীনতা; সবাই জীবনে স্বাধীন থাকতে চায় যদি তা প্রথম অধিকারকে হরণ না করে। তিন. সম্পদ; যা সবাই জীবন ধারণের জন্য অর্জন বা কামাই করতে চায় যদি তা উল্লিখিত অধিকারগুলোকে হরণ না করে। লক দাবি করেন যে, আদর্শ সরকার তার নাগরিকদের প্রত্যেকের জন্য এই তিনটি অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব নিবে।

এরিস্টটলও ব্যক্তি স্বাধীনতার কথা বলেন। তবে ব্যক্তি স্বাধীনতা পালন করতে গিয়ে যদি সামাজিক অবক্ষয় ঘটে, সমাজের ভিত্তি ভেঙে পড়ে, এটাকে স্বাধীনতা বলে না, বলে ব্যক্তিগত স্বেচ্ছাচারিতা। আন্দ্রে স্পনভিলি বলেন, স্বাধীন হবার জন্য কাজ এবং চিন্তার স্বাধীনতা প্রয়োজন। তবে এই স্বাধীনতা একদম শর্তহীন এবং নিয়মহীন হওয়া উচিত নয়।

সমকামিতা এবং সামাজিক অবক্ষয়

সমকামিতা মূলত প্রাকৃতিক অধিকার নয়। বরং সমকামিতা উলটো প্রাকৃতিক স্বাধীনতায় ব্যাঘাত ঘটায়। এইডস এবং সিফিলিসের মতো মারাত্মক রোগের জন্ম দিয়ে বিনষ্ট করে দেয় শারীরিক এবং মানসিক শান্তি। সৃষ্টি করে উদ্বেগ, হতাশা, হীনমন্যতা। এই হতাশা এবং হীনমন্যতা একসময় তাকে নিয়ে যায় হত্যা বা আত্মহত্যার দিকে।

এটা গেলো ব্যক্তির কথা। সমকামিতা সামাজিক অবক্ষয়ও ঘটায়। সমকামিতার প্রভাবে ভেঙে যায় পারিবারিক বন্ধন। সামাজিক গবেষক হিন্দ আকিল বলেন, ‘সমাজিক বন্ধন সমকামিতার সঙ্গে খাপ খায় না। এটা পারিবারিক ধাঁচকে বদলে দেয়; তালাক, কুফরি এবং পুরুষত্বহীনতার গভীর অন্ধকারে ঠেলে দেয়। তখন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবক্ষয় ঘটে। এর ক্ষতি কেবল ব্যক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ব্যক্তির বাইরে সমাজের আরও অনেক ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে।’

আগের সংবাদখুনছা ও মুখান্নাছ : ইসলামের দৃষ্টিতে যৌন বিকার ও ব্যতিক্রম
পরবর্তি সংবাদ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ : প্রচলিত যৌন বিকার ও ব্যতিক্রম ব্যাখ্যা কেন সমস্যাজনক?