পুলিশ হেফাজতে রায়হান হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল সিলেট

ফাতেহ ডেস্ক:

বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিন আহমদের (৩৩) হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেট। তিন দিন ধরে নগরী থেকে শুরু করে জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি উঠেছে।

লাগাতার ফাঁড়ি ঘেরাও, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, প্রতিবাদী গান ও অবস্থান কর্মসূচি থেকে দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করানোর দাবি করছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। ধারাবাহিক এই আন্দোলনের ঢেউ গিয়ে লেগেছে ‘সিলেটি’ অধ্যুষিত লন্ডনেও। বিচারের দাবিতে সেখানেও মানববন্ধন করেছে প্রবাসী বাঙালিরা।

আন্দোলনকারীরা বলছে, রায়হান হত্যার বিচারের দাবিতে তিন দিনে শুধু সিলেট নগরীতে ৩০টির বেশি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে অন্তত তিনবার বন্দর বাজার ফাঁড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনতা। তারা এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে এবং বিচারের দাবি তুলেছে। এই হত্যাকাণ্ডকে দুঃশাসনের জ্বলন্ত প্রমাণ বলে আখ্যায়িত করেছে আন্দোলনের নেতারা।

বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাজের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম বলেন, ‘সিলেট নিকট অতীতেও এমন ছিল না। গত কয়েক বছরে পুলিশ প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা প্রকাশ্যে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। এর চূড়ান্ত ফল হচ্ছে রায়হান হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।’ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান নাগরিক সমাজের এই নেতা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী রায়হান হত্যাকাণ্ডকে ‘পুলিশি বর্বরতার চরম চিত্র’ বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এই মর্মান্তিক ও জঘন্য ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত বলেন, ‘এমন একটি হত্যাকাণ্ড চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আমরা কতটা অনিরাপদ। দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। কিন্তু এই ঘটনা মনে প্রশ্ন তুলে দেয়, আসলেই আমরা কতটা নিরাপদ? রাষ্ট্রকে অবশ্যই এর বিচার করে প্রমাণ করতে হবে যে, নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে রাষ্ট্র আন্তরিক।’

আগের সংবাদআর্মেনিয়ার ৮ এলাকা পুনরুদ্ধার করলো আজেরি বাহিনী
পরবর্তি সংবাদক্যাট নয় ‘গুচ্ছ’ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় আগ্রহ ইউজিসির