খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

ফাতেহ ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। আবারও অঙ্গীকার করলেন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার। জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বানও জানান তিনি। আজ (শুক্রবার) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বিশ্ব খাদ্য দিবসের আলোচনায় যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার যৌথ আয়োজক কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। দিনব্যাপী এই সভার উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলোচনার শুরুতেই দেশে খাদ্য ও পুষ্টি ঘাটতি নিরসনে তাঁর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে গবেষণা আরও জোরদার করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষিকে গুরুত্ব দিয়েই যাবতীয় পরিকল্পনা প্রনয়ন করে সরকার। এছাড়াও অনাবাদি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা।

দেশের ভৌগলিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিশ্রুতি দেন জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের। কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব খাদ্য উৎপাদনে জোর দিতে কৃষকদের প্রতি আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা যাতে নিশ্চিত থাকে সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। প্রতিটি মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র যারা আমরা তাদের মাঝে বিনা পয়সায় খাবার বিতরণ করে যাচ্ছি, এটা আমরা অব্যাহত রাখবো। বাংলাদেশ সম্পর্কে আমাদের একটাই চিন্তা- জাতির পিতা চেয়েছেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে, আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আমরা তা অর্জন করতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সাহসী, তারা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করার ক্ষমতা রাখে। আমরা করোনার সাথে সাথে ঝড়-বন্যা সবই মোকাবিলা করে যাচ্ছি। এভাবেই আমাদের বাঁচতে হবে। এক ইঞ্চি জমিও কেউ ফেলে রাখবেন না, গাছ লাগান, ফল লাগান, তরিতরকারি লাগান যে যা পারেন কিছু লাগিয়ে নিজের উৎপাদন বাড়ান।

তিনি বলেন, আজকে আপনারা জানেন করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। যখনই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে তখনই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি খাদ্য উৎপাদনে। আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে, খাদ্যের নিশ্চয়তাটা থাকতে হবে। কারণ, করোনা ভাইরাসের কারণে সমগ্র বিশ্বে স্থবির একটা দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশে যেন তার প্রভাব না হয়, আমাদের দেশের মানুষ যেন কোনোরকম কষ্ট ভোগ না করে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছি। কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

আগের সংবাদ৩০০ বছর আগের ক্ষুদ্র কোরআন শরিফের সন্ধান
পরবর্তি সংবাদবাংলাদেশসহ ৫ দেশের বিমানযাত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু দুবাইয়ের