ভারতে গরু জবাই প্রতিরোধ আইন: কারাগারে পাঠানো হচ্ছে নিরপরাধদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যেকোনও ধরণের গোশত উদ্ধারের পরে তাকে ফরেনসিক পরীক্ষা না করেই গরুর গোশত বলে নিরপরাধকে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। গরু জবাই প্রতিরোধ আইনের আওতায় রহিমউদ্দিন নামে এক অভিযুক্তকে জামিন দেওয়ার সময়ে গতকাল (সোমবার) এলাহাবাদ হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ওই মন্তব্য করেছে। খবর পার্সটুডে।

হাইকোর্টের বিচারপতি সিদ্ধার্থ বলেন, মানুষকে এমন অপরাধের জন্য কারাগারে প্রেরণ করা হচ্ছে, যা তারা মোটেই করেন না।

এলাহাবাদ হাইকোর্ট আজ রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে জানায়, উত্তর প্রদেশে গরু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই এবং গো-শালাগুলোতে উন্নত সুযোগ-সুবিধা নেই। গো-শালাগুলো কেবল দুগ্ধবতী গাভী রাখার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। লোকেরা বৃদ্ধ এবং অসুস্থের পাশাপাশি দুধ না দেওয়া গরুকে রাস্তায় ছেড়ে দেয় এবং গো-শালায় তাদের রাখা হয় না।

আদালত বলেছে, গো-শালার বাইরে ঘুরে বেড়ানো গরুরা মানুষের ফসল নষ্ট করছে। কৃষকদের আগে কেবল নীলগাইয়ের দ্বারা ফসলের ক্ষয়ক্ষতির বিপদ ছিল। কিন্তু এখন বেওয়ারিশ গরুতেও বিপদ দেখা দিয়েছে। বাইরে সড়কে ঘোরাঘুরি করা গরু ট্র্যাফিক এবং মানুষের জীবনকেও হুমকির সম্মুখীন করছে। প্রতিদিনই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের ভয়ের কারণে অন্য লোকেরাও এদেরকে তাদের কাছে রাখে না বা তাদের রাজ্য থেকে বাইরে পাঠানোর সাহস করতে পারে না।

এলাহাবাদ হাইকোর্ট আরও বলেছে গরুকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় সমাজে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। গরুদের তাদের মালিকদের সাথে থাকার বা গো-শালায় রাখার নিয়ম থাকা উচিত।

আগের সংবাদকাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত হচ্ছেন ইরফান সেলিম
পরবর্তি সংবাদএনআইডি সংশোধনে কঠোর নির্দেশনা ইসির