
ফাতেহ ডেস্ক:
জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করার আহ্বান জানিয়েছে সমমনা ইসলামী দলগুলো। পাশাপাশি অবিলম্বে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে সরকারীভাবে রাসূলের অবমাননার প্রতিবাদ জানানো এবং রাসূলের ইজ্জত ও সম্মান রক্ষার্থে ফ্রান্সের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন ও অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করারও আহ্বান জানিয়েছে।
আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে সমমনা ইসলামী দল সমুহ আয়োজিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশ থেকে এ দাবি জাানানো হয়।
সমাবেশে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর মহাসচিব আল্লামা নূর হোছাইন কাসেমী বলেন, বাংলাদেশের তাওহিদী জনতার ঈমানের দাবীর সাথে একাত্বতা প্রদর্শন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাবেন; এটা দেশের মানুষের প্রত্যাশা। জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করতে হবে। নক ঘটনায় এখনো চুপ হয়ে আছে। সরকার জনগণের মনের ভাষা বুঝতে পারছে না। বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ, এটা সরকারকে বুঝতে হবে। অবিলম্বে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে সরকারীভাবে রাসূলের অবমাননার প্রতিবাদ জানাতে হবে। ফ্রান্সের পণ্য ঐক্যবদ্ধভাবে বর্জন করতে হবে। কোনো ব্যবসায়ী ফ্রান্সের কোনো পণ্য আমদানী করবেন না।
আল্লামা কাসেমী আরও বলেন, ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় মদদে নবীজিকে অপমান করায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ চরমভাবে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ। অবিলম্বে ব্যাঙ্গচিত্র মুছে ফেলে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে ফ্রান্সের ক্ষমা চাইতে হবে। ‘ফ্রিডম অব স্পিচ’ এর কথা বলে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ম্যাক্রো যে ইসলামবিরোধী কার্জকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন তার পরিণাম শুভ হবে না।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি আল্লামা আবদুর রব ইউসূফী বলেছেন, ফ্রান্সে আল্লাহর নবী (সা.)কে বার বার অপমান করা হচ্ছে। নবীর কার্টুন বানিয়ে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ নেতৃত্ব ও উস্কানী দিয়ে এই জঘন্য কাজকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। আমাদের ঈমান থাকতে এটা বরদাশত করতে পারি না। বাংলাদেশের জনগণের কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি যেমন অবাঞ্ছিত হয়ে আছে, আগামীতে আসতে চাইলেও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে, তেমনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের বিষয়েও একই ঘোষণার জন্য আমাদের কাছে জনগণের কাছ থেকে দাবি আসছে।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, ইসলামের নবী সা. এর অবমাননা বাক স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে না। তিনি এই উসকানিমূলক বক্তব্য প্রত্যাহার করে বিশ্ব মুসলিমের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য ম্যাকরনের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত, শান্তির প্রতীক প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইজ্জত রক্ষায় প্রয়োজনে মুসলমানরা শহীদ হব, তারপরও আল্লাহর রাসূলের বিরুদ্ধে অবমাননাকর কোন বিষয় সহ্য করা হবেনা। মুসলমানেরা প্রিয় নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজেদের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালবাসেন।
আল্লামা মামুন আরো বলেন, ফ্রান্সের দুটি শহরের দুটি সরকারি ভবনে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যঙ্গ কার্টুন প্রদর্শন করে পুরো বিশ্বের পৌনে দুইশত কোটি মুসলমানের হৃদয়ে চরমভাবে আঘাত করেছে ফ্রান্স। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের এই গর্হিত কাজের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় মুসলিম বিশ্ব তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হাফিজ্জী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর সহসভাপতি আল্লামা আব্দুর রব ইউসূফী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির মাওলানা ড. মোহাম্মদ ঈসা শাহেদী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক, মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, বাংলাদেশ ফরায়েজি আন্দোলনের আমির মাওলানা আব্দুল্লাহ হাসান, পীর সাহেব বাহাদুরপুর, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মুফতি মুনির হোছাইন কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, সহকারী প্রচার সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমদ, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শফিক উদ্দীন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের মাওলানা শওকত হোসেন, মুসলিম লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব খান আসাদ প্রমুখ।
