মিয়ানমার নির্বাচন: যেভাবে অবহেলিত রোহিঙ্গা মুসলিমরা

আন্তর্জতিক ডেস্ক:

দীর্ঘ ৫০ বছরের সামরিক শাসনের পর মিয়ানমারে কার্যত দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচন চলছে, তবে নির্বাচনটি নিয়ে ইতোমধ্যেই সংশয় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক নানা সংস্থা।

দেশটির ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) নেতা উ থান থে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমারের দুঃখিত হওয়ার কিছু নেই।

অং সান সু চি’র ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) বিপরীতে প্রধান বিরোধী দল হলো এই ইউএসডিপি, যারা দেশটির সেনাবাহিনীর ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়। ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত ব্যাপক একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলো ইউএসডিপি – যে নির্বাচনে অংশ নেয়নি সু চি’র দল।

এবারের নির্বাচনের প্রচারণায় ইউএসডিপি তাদের প্রতিপক্ষ এনএলডি’র বিরুদ্ধে যেসব কথা জোরেসোরে বলছে তার মধ্যে একটি হলো যে ‘এনএলডি বাঙালি মুসলিমদের স্বাগত জানিয়েছে’। মিয়ানমারে সাধারণত রোহিঙ্গাদের বোঝাতে ‘বাঙালি মুসলমান’ এই শব্দ যুগল ব্যবহার করা হয়।

ফরাসী বার্তা সংস্থা এএফপি’র একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমার ডট নেটে, যেখানে ইয়াঙ্গুন ভিত্তিক বিশ্লেষক খিন ঝ উইন বলেছেন যে রোহিঙ্গা বা মুসলিমদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাধারণত মিয়ানমারে কোনো সমস্যা হয় না।

দেশটির সাড়ে পাঁচ কোটি জনসংখ্যার মাত্র চার শতাংশ মুসলমান এবং তাদের কোন মূলধারার রাজনৈতিক দল নেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ নানা খাতে তাদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ করে থাকেন দেশটির মুসলমান জনগোষ্ঠী।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ নির্বাচনকে যেসব কারণে অস্বচ্ছ বলছে তার মধ্যে একটি হলো, উত্তর রাখাইনের লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা।

ফ্রন্টিয়ার টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনএলডি-ই রবিবারের ভোটে জিতে ক্ষমতায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরেকটি সংবাদ মাধ্যম ‘দি ডিপ্লোম্যাট’ বলছে যে এনএলডিকে ভোট দেয়া মানে সু চি-কে দেয়া, কারণ আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণে তার জনপ্রিয়তা বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতার কারণেই দেশটিতে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াবে, সে সম্পর্কে কেউ স্পষ্ট ধারণা করতে পারছে না। ২০১৫ সালে রাখাইনের ভোটাররা রাখাইন জাতীয়তাবাদী আরাকান ন্যাশনাল পার্টিকে নির্বাচিত করেছিল রাখাইন স্টেট পার্লামেন্টে।

কিন্তু এনএলডি প্রেসিডেন্ট এটিকে আমলে না নিয়ে নিজ দলের একজনকে চীফ মিনিস্টার করেছিলেন রাখাইন রাজ্যে।

দ্যা কনভারসেশন ডট কম এক প্রতিবেদনে একটি অংশের শিরোনাম করেছে ‘অধিকারহীন গণতন্ত্র’। এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে রোহিঙ্গা ইস্যুকে আড়ালেই রাখা হয়েছে, বরং আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার পক্ষে সাফাই গেয়ে অং সান সু চি প্রমাণ করেছেন যে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তিনি (সেনাবাহিনীর প্রতি) তার সহযোগিতার হাতই বাড়িয়ে রেখেছেন।

তবে নির্বাচনকে যতই অবাধ ও নিরপেক্ষ বলা হোক না কেন, যতদিন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের নিধন অব্যাহত থাকবে ততদিন গণতন্ত্রের পথে যাত্রা দুর্বলতর হবে-এমন মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।

নিউইয়র্ক-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আগেই বলেছে যে আসন্ন এই নির্বাচন ত্রুটিতে ভরা। তারা বলছে, সেনাবাহিনীর জন্য আসন সংরক্ষিত রেখে এবং গণমাধ্যমে অবাধ চলাচলের সুযোগ না দিয়ে যে নির্বাচন করা হচ্ছে, তা অবাধ ও সুষ্ঠু হতে পারে না।

সংস্থাটি আরও অভিযোগ করেছে যে দেশটির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোকেও তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

আগের সংবাদক্ষমতা ছাড়ার পর জেল হতে পারে ট্রাম্পের!
পরবর্তি সংবাদমুসলিম নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: বাইডেন কথা রাখবেন?