
আন্তর্জতিক ডেস্ক:
হায়দারাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল ‘অল ইন্ডিয়া ইত্তেহাদুল মুসলিমিন’ (এআইএমআইএম) বিহারে ৫ আসন জিতেছে। এই আসন জেতার আগে ও পরে অনেকেই তাকে বিজেপির বি-টিম হিসেবে অভিহিত করছেন। কারণ এখনও ভারতীয় মুসলিম সমাজের বেশির ভাগ ভোট কংগ্রেস বা তাদের জোটের দলগুলোই পায়। কিন্তু ওয়াইসি সেই ভোট কেটে বিজেপিরই সুবিধা করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।
কিন্তু এসব অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি বিজয়ের পর এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ওরা ওদের হতাশা লুকোচ্ছে। ওরা হেরে গেলে ওয়াইসিকে দোষ দেবে। অথচ বিহারে আমাদের জার্নি শুরু হয়েছে মাত্র পাঁচ বছর আগেই। আমার ইতিহাস মানুষ জানে না। বারো-তেরো বছর বয়স থেকে শুনছি আমাদের বাড়ির সামনে এসে আরএসএস গুন্ডারা নোংরা স্লোগান দিচ্ছে, ওয়াইসি কবরে যাও কিংবা পাকিস্তানে। ভেতর থেকে এটা আমায় আরও শক্ত করে তুলেছে, প্রতিবাদ করে জেলে গিয়ে পুলিশের মারও খেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, কোনও শিসমহল থেকে আমি রাজনীতিতে আসিনি, কেউ আমার জন্য মখমলের কার্পেটও বিছিয়ে রাখেনি। ফলে কে কী বলল আমার কিচ্ছু যায় আসে না, আর ভোট-কাটুয়া বা বি-টিম পুরনো হয়ে গেছে; অক্সফোর্ড অভিধান ঘেঁটে বরং নতুন গালাগালি খুঁজতে বলব।
মহারাষ্ট্র ও বিহারের পর তার পরবর্তী নিশানা যে পশ্চিমবঙ্গ, সেটাও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
বস্তুত প্রায় ৯৩ বছরের পুরনো রাজনৈতিক দল মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের প্রভাব মাত্র বছরকয়েক আগেও হায়দ্রাবাদ শহরের গন্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন মহারাষ্ট্র থেকেও তাদের নির্বাচিত এমপি ও এমএলএ-রা আছেন, এবার বিহার বিধানসভাতেও তাদের নতুন পাঁচজন বিধায়ক যুক্ত হলেন। দলনেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি যেভাবে দেশের নতুন নতুন প্রান্তে জমি খুঁজে পাচ্ছেন তাতে তাকে ভারতীয় মুসলিম সমাজের উদীয়মান মুখ হিসেবে অনেকে।
বিহারে যেমন এই প্রথমবারের মতো ভোটে লড়ল মি. ওয়াইসির দল। আর মুসলিম-অধ্যুষিত সীমাঞ্চল ও আশেপাশে কুড়িটি আসনে প্রার্থী দিয়ে পাঁচটিই জিতে নিয়েছে তারা। সেই সঙ্গে তারা আরজেডি-কংগ্রেসের জোট ”মহাগঠবন্ধন”কে হারিয়ে দিয়েছে আরও বহু আসনে।
বিহারের পূর্ণিয়া-কাটিহার অঞ্চলে মুসলিম তরুণ-তরুণীরাও বিবিসিকে বলছিলেন, ওয়াইসির মতো বলিষ্ঠ একজন নেতা, যার কোনও অপরাধের ইতিহাসও নেই, তাদেরকে আকৃষ্ট করেছেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
