‘নতজানু চুক্তি’: প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল আর্মেনিয়া

ফাতেহ ডেস্ক:

নাগর্নো-কারাবাখ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যকার বিরোধের অবসান ঘটাতে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। এতে সম্মতি দিয়েছে উভয় পক্ষই। তবে প্রকৃতপক্ষে এই চুক্তির ফলে লাভবান হয়েছে আজারবাইজান। যা মেনে নিতে পারেনি আর্মেনিয়ার জনগণ।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তি চুক্তির প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নিকোল প্যাসিনিয়ানের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী ইয়েরেভেনের রাস্তায় হাজার হাজার আর্মেনীয় বিক্ষোভ করছেন। তাদের সকলের একটাই স্লোগান, ‘নিকোল বিশ্বাসঘাতক’।

ঘটনাস্থল থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হোদা আবদেল হামিদ জানিয়েছেন, অধিকাংশ জায়গাতেই বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে কয়েকটি স্থানে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সেখান থেকে কমপক্ষে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, দেশের জনগণের সঙ্গে পরামর্শ না করে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের অধিকার নিকোল প্যাসিনিয়ানের নেই। এটি গণতন্ত্র নয়। তিনি আমাদের জমি বিক্রি করে দিয়েছেন।

দেশটির বিরোধী দলের এক নেতা বলেন, এই জাতীয় নেতাকে (নিকোল প্যাসিনিয়ান) জাতীয় সুরক্ষা দ্বারা জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।

এদিকে, বিরোধী দলগুলো একজোট হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা করতে সংসদে প্রবেশ করেছেন। তবে সংসদে সংখ্যালঘু হওয়ায় তাদের এই উদ্যোগে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এর আগে চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মতি দেয়ার পর আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল প্যাসিনিয়ান ফেসবুক পোস্টে জানান, তার সরকার যুদ্ধ বন্ধের জন্য আজারবাইজান ও রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। চুক্তিটি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমাদের জনগণের জন্য অবর্ণনীয় বেদনাদায়ক। আমি সামরিক পরিস্থিতি গভীরভাবে বিশ্লেষণ এবং পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালো জানেন এমন লোকদের মূল্যায়নের ফলস্বরূপ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাছাড়া চলমান পরিস্থিতির সর্বোত্তম সম্ভাব্য সমাধান এটিই।

এই চুক্তি কারো বিজয় নয়। যতক্ষণ না আপনি নিজেকে পরাজিত হিসেবে স্বীকৃতি দেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো পরাজয় হয় না। আমরা কখনোই নিজেদের পরাজিত হিসেবে স্বীকৃতি দেবো না এবং এটি আমাদের জাতীয় ঐক্য ও পুনর্জন্মের যুগের সূচনা হওয়া উচিত। আমাদের স্বাধীন ভবিষ্যতের পরিকল্পনা এবং অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার জন্য আসছে সময়গুলো বিশ্লেষণ করতে হবে, যোগ করেন তিনি।

নতুন শান্তি চুক্তি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধে আজারবাইজান নাগর্নো-কারাবাখের যেসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সেগুলো তাদেরই থাকবে। সেইসঙ্গে আর্মেনিয়াকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংলগ্ন আরো কিছু এলাকা থেকে সরে যেতে হবে। আর অত্র অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে অন্তত ২ হাজার রুশ সেনা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর সঙ্গে তুরস্কও পর্যবেক্ষণে থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান।

আগের সংবাদপদ্মা সেতুর সাড়ে ৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান
পরবর্তি সংবাদবিয়ের শর্তে ‘ধর্ষক’কে জামিন দেবে হাইকোর্ট