শিক্ষিতদের মধ্যে ডিভোর্সের প্রবণতা বেশি : হাইকোর্ট

ফাতেহ ডেস্ক:

শিক্ষিতদের মধ্যে ডিভোর্সের প্রবণতা বেশি বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। আজ সোমবার (৩০ নভেম্বর) ফেনীর কারাগারে ভুক্তভোগীকে বিয়ে করা ধর্ষণ মামলার আসামি জহিরুল ইসলাম জিয়ার জামিন শুনানিকালে এ মন্তব্য করে আদালত।

শুনানির একপর্যায়ে আদালত বলেন, ‘আমরা তো নানাভাবে সমালোচিত হচ্ছি। আসলে ব্যক্তিগতভাবে দুই-একটি পত্রিকার রিপোর্ট দেখে খুব অফেন্ডেড (অপরাধ বোধ) হয়েছি। যেখানে লেখা হয়েছে ‘ধর্ষকের সাথে ধর্ষিতার বিয়ে’ এভাবে তো রিপোর্ট হওয়া উচিত না। আবার নারীবাদী সংগঠনগুলো বলছে এ ধরনের বিয়েতে ধর্ষকরা উৎসাহিত হবে।’

‘যে যা-ই সমালোচনা করুক, আমরা এটাকে উৎসাহিত করবো’ এমনটি উল্লেখ করে বিচারক বলেন, ‘প্রযুক্তির কারণে এখন সমাজে মানুষের সম্পর্ক গড়তেও সময় লাগে না, ভাঙতেও সময় লাগে না। দেখবেন আমাদের দেশে ডিভোর্সের সংখ্যা অনেকাংশে বেড়ে গেছে। শিক্ষিত লোকদের মধ্যে বেশি হচ্ছে বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রবণতাটা কম।’

উল্লেখ্য, মামলার আসামি জহিরুল ইসলাম ওরফে জিয়া উদ্দিনের বাড়ি ফেনীর সোনাগাজীর ৮ নম্বর চরদরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম চরদরবেশ গ্রামে। গত ২৭ মে ভোরে একই ঘরে অবস্থান করা অবস্থায় গ্রামবাসী জিয়া ও অভিযোগকারী মেয়েটিকে আটক করে। স্থানীয়রা দুজনকে বিয়ে দিতে চাইলে ছেলের বাবা আবু সুফিয়ান মেম্বার রাজি হননি। সেদিন মেয়েটি সোনাগাজী থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। পুলিশ একইদিন গ্রেফতার করে জিয়াকে।

এদিকে উভয়পক্ষের সম্মতি থাকলে বিয়ের ব্যবস্থা করতে কারা কর্তৃপক্ষকে গত ১ নভেম্বর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১৯ নভেম্বর ফেনী কারাগারে আসামি জিয়া উদ্দিনের সঙ্গে বিয়ে হয় ওই নারীর। এরপর ২৯ নভেম্বর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন জিয়া। শুনানি শেষে আজ আসামি জিয়াকে এক বছরের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন হাইকোর্ট।

আগের সংবাদ‘মাধ্যমিক থেকে ইসলাম শিক্ষা বাদ দেয়ার কথা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কেউ বলেনি’
পরবর্তি সংবাদবাবুনগরী-মামুনুল হকের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন করবে ৬০ সংগঠন!