যে কারণে একজোট পাকিস্তান-চীন

ফাতেহ ডেস্ক:

সাম্প্রতিককালে জোটবদ্ধ না হলেও একজোট হয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও চীন। দেশ দুটির ঘনিষ্ঠতা ও দ্বি-পাক্ষিক সহযোগিতা এতটাই বেড়েছে, যাকে অঘোষিত জোট বলে বর্ণনা করছেন বিশ্লেষকরা।

মাইক্রোসফটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত বছরগুলোতে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আরো বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে চীন। এ অঞ্চলে বেইজিং তার পররাষ্ট্র, অর্থনৈতিক ও সামরিক নীতির প্রচার ও প্রসারে ক্রমশ ইসলামাবাদের দিকে ঝুঁকছে।

দেশ দুটির দ্বি-পাক্ষিক কৌশলগত সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হওয়ার নেপথ্য কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন মিশেল বার্কলে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলফার সেন্টারের এই বিশেষজ্ঞ এ ক্ষেত্রে প্রধানত তিনটি কারণ শনাক্ত করেছেন। সেটিকে এক ঢিলে তিন পাখি মারা বলা চলে।

এর প্রথমটি হলো- অভিন্ন শত্রু হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ট মিত্র হয়ে উঠা ভারতের কার্যকর সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হাতে রাখতে চায় চীন। এ জন্য ইসলাবাদকে আরো শক্তিশালী হতে সহায়তা করে চলেছে বেইজিং। এর ফলে সীমান্তের দুই ফ্রন্টে লড়তে হচ্ছে নয়াদিল্লিকে।

দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, সম্মতি নিয়েই পাকিস্তানের রাস্তাকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করে বহির্বিশ্বে বাণিজ্য সম্প্রসারণ অব্যাহত রাখতে চায় চীন। এতে পণ্য পরিবহন দূরত্ব ও খরচ কমছে, সময়ও বাঁচছে বিশ্বের অর্থনৈতিক পরাশক্তি এ দেশটির।

সর্বশেষ ও তৃতীয় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের ওপর চীনা কমিউনিস্ট সরকারের দমন-পীড়নকে। কেননা, সেখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাকিস্তানের ইসলামপন্থী গোষ্ঠেীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছে। এই নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করতে ইসলামাবাদের সহযোগিতা চায় বেইজিং।

মিশেল বার্কলে বলছেন, এসব ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে সমর্থক, জাতীয় স্বার্থের সহায়ক ও প্রচারক হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে চীন। এটিকে কাজে লাগিয়ে চিরশত্রু ভারতের মোকাবেলায় শক্তিধর চীনকে হাতে রেখেই সম্ভব সকল সুযোগ-সুবিধা ভাগিয়ে নিচ্ছে পাকিস্তানও।

দেশ দুটির সম্পর্কের সূত্রপাত ১৯৫১ সালে হলেও তা গতি পায় ১৯৬০-৭০’র মাঝামাঝি। যা সাম্প্রতিক সময়ে এসে কৌশলগত সম্পর্কে রূপান্তরিত হওয়ায় জোটবদ্ধ না হয়েও কার্যত শক্তিশালী সামরিক জোটে পরিণত হয়েছে।

আগের সংবাদবাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে দাঙ্গা : সত্য নাকি মিথ?
পরবর্তি সংবাদজুয়েল হত্যা: ৪ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর