ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে খৃস্টান সন্ত্রাসীর হামলা, ৮০০ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

গত বছর ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলার ঘটনায় দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করল নিউজিল্যান্ড। রয়্যাল কমিশনের এই রিপোর্টে বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে রয়্যাল কমিশন জানিয়েছে, জঙ্গিবাদ বন্ধের জন্য আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন নিউজিল্যান্ডে পরিবর্তন করা দরকার। তবে ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলা বন্ধ করা যেত বলে মনে করেননি তদন্ত কর্মকর্তারা। তদন্ত প্রতিবেদনে তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

২০১৯ সালে ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলা চালায় উগ্রপন্থী এক খৃস্টান। বন্দুক নিয়ে মসজিদে ঢুকে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর গুলি চালায় সে। তার গুলিতে ৫১ জন মুসলিম নিহত হয়। অপরাধীকে আটক করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এতোদিন পর সেই হামলার ঘটনায় আটশ পাতার প্রতিবেদনে একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলা বন্ধ করা যেত বলে উল্লেখ করা যায় না। কারণ, হামলাকারী কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নয়। জঙ্গিবাদ নিয়ে অনেকের সঙ্গে সে কথাও বলেনি। এক সময় সে বাবার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া থাকতো। সেখান থেকে বিশ্ব ভ্রমণে গিয়েছিল। পরে নিউজিল্যান্ডে থাকতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে উগ্রপন্থী কথা বললেও সন্দেহ করার মতো কোনো ঘটনা আগে সে ঘটায়নি।

ফলে গোয়েন্দাদের এই হামলার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। তাদের পক্ষে আগাম খবর জোগাড় করে এই হামলা বন্ধ করা সম্ভব ছিল না।

জানা গেছে, ৪৪টি আইন এবং প্রশাসনিক নীতি সংশোধনের কথা বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডেন বলেছেন, প্রতিটি বিষয় নিয়েই মন্ত্রীসভায় আলোচনা করবেন। কমিশনের রিপোর্টকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। তবে যেভাবে অস্ত্র কিনেছিল ওই ব্যক্তি, তা রোধ করা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ক্রাইস্টচার্চ হামলার ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারও এ্ররই মধ্যে সেই প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আর যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সেদিকে নজর রাখুক প্রশাসন।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স

আগের সংবাদদুপুর ১২টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসছেন চরমোনাই পীর
পরবর্তি সংবাদবিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহতের হার বেড়েছে ৩৩০ শতাংশ