সাহসের সঙ্গে পথ চলছে আলেকজান্ডারের দেশের মুসলমানরা

ফাতেহ ডেস্ক:

মহাবীর আলেকজান্ডার। বিশ্ববাসী তাকে এক নামে চেনেন। এখন থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে খ্রিস্টপূর্ব ৩৫৬ অব্দে গ্রিসের অতিক্ষুদ্র এক রাজ্য মেসিডোনিয়ার রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ইতিহাসের এই কিংবদন্তি।

মেসিডোনিয়াকে বলা হয় আলেকজান্ডারের দেশ। ১৯৯১ সালে সাবেক যুগোস্লাভিয়া থেকে বের হয়ে এসে স্বাধীনতা ঘোষণা করে মেসিডোনিয়া।

মুশকিল হলো, গ্রিসের একটি অঞ্চলের নামও মেসিডোনিয়া। গ্রিসের সবচেয়ে জনবহুল অংশ সেটি। অন্যদিকে দুই মেসিডোনিয়াই একসময় রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল, তাই নাম নিয়ে তাদের বিবাদ বহুকালের। দুই মেসিডোনিয়াই দাবি করে, তারা আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের উত্তরাধিকারী।

অনেক গ্রিকবাসীর কাছে নামটি বেশ স্পর্শকাতর। তারা মনে করেন, মেসিডোনিয়া শুধু গ্রিকের থাকবে। অতএব এই নামে আপত্তি গ্রিসের। শেষমেষ চুক্তি, আলোচনা ও গণভোটে ফায়সালা হয় মেসিডোনিয়া নাম বদলে ‘রিপাবলিক অব নর্থ মেসিডোনিয়া’ করবে। ২৮ বছরের বিবাদ শেষে ২০১৮ সাল থেকে মেসিডোনিয়ার সাংবিধানিক নাম ‘রিপাবলিক অব নর্থ মেসিডোনিয়া’ বা উত্তর মেসিডোনিয়া প্রজাতন্ত্র।

২৫ হাজার ৭১৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশ মেসিডোনিয়ার জনসংখ্যা ২৫ লাখের কাছাকাছি। রাজধানী স্কোপজে। যুগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীন হওয়ার পর দেশটি এখনও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেনি। গ্রিসের সঙ্গে ভাষা, ঐতিহ্য এমনকি চার্চ বিষয়ে মেসিডোনিয়ার বিরোধ দীর্ঘদিনের। তবে মেসিডোনিয়া নিজের মতো করে নিজ দেশের পরিচিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে।

মেসিডোনিয়ার একটি মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত
দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ মুসলিম। এদের বেশিরভাগ আলবেনিয়ার নাগরিক। তা ছাড়া তুর্কি, বসনিয়া ও রুমানিয়ার অধিবাসীও রয়েছে।

রাজনৈতিক উত্থান-পতন থাকলেও দেশটিতে মুসলমানের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষার হার ও রাজনীতিতে মুসলমানদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। পিউ ফোরাম রিসার্চ সেন্টারের দাবি, ২০৫০ সালে ৫৬.২ শতাংশে উন্নীত হবে মুসলমানরা।

দেশটিতে ৫৮০টি মসজিদ এবং একাধিক ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। উসমানীয় শাসনামলে গড়ে তোলা পাঁচ শতাধিক মসজিদ রয়েছে মেসিডোনিয়ায়। সেন্টার জুপা, দেবার, স্ট্রুগা ও প্লাসনিকাসহ দেশটির উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিমের কিছু অঞ্চলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিদ্যমান।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, স্পেনে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মুসলিম ধর্ম প্রচারকরা ছড়িয়ে পড়েন। তন্মধ্যে মেসিডোনিয়ায় সর্বপ্রথম ইসলামের প্রচার ঘটে। মুসলিম ধর্ম প্রচারকরা সেখানে মসজিদ ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

আগের সংবাদপ্রথম ভ্যাকসিন নিতে চান অর্থমন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদ‘নাস্তিকরা ইসলাম ধ্বংসে সিন্ডিকেট ভিত্তিক অপপ্রচার করছে’