মার্কিন রাজনীতি ও প্রশাসনে গুরুত্ব বাড়ছে মুসলিমদের

ফাতেহ ডেস্ক:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় জনগোষ্ঠী হিসাবে মুসলিমরা তৃতীয় বৃহত্তম। দেশটির ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মুসলমানদের সুদীর্ঘ ইতিহাস। ইতিহাস বলছে, আড়াই শ’ বছর আগেই মার্কিন ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে ইসলাম। মার্কিন সংবিধানের আর্টিকেল ৬-এ স্পষ্টভাবে লেখা আছে, ‘ধর্ম কোনো ধরনের সরকারি রাষ্ট্রীয় বা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না।’

তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসনসহ আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতারা ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের জন্য ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছিলেন বলেই সংবিধানে এমন ধারা স্থান পেয়েছে।

এখানে একটি তথ্য জানিয়ে রাখা ভালো, দেশটির স্বাধীনতার অনেক আগে ১৭৬৫ সালে ইংরেজিতে অনুবাদ করা একটি কোরআনে কারিমের কপি কিনেছিলেন জেফারসন। ১১ বছর পর তিনিই রচনা করেন আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। জেফারসনের কেনা পবিত্র কোরআনের ওই কপিটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে সংরক্ষিত আছে।

আমেরিকার প্রথম মসজিদ নির্মাণ করা হয় ১৮৯৩ সালে শিকাগোতে। আর দ্বিতীয় মসজিদটি নির্মিত হয় প্রথম মসজিদ প্রতিষ্ঠার প্রায় তিন দশক পর ১৯২১ সালে। মিশিগান রাজ্যের হাইল্যান্ড পার্কে ওই মসজিদটি স্থাপন করেন কিছু মুসলিম অভিবাসী।

১৭৬৫ সালে ইংরেজিতে অনুবাদ করা কোরআনে কারিমের এই কপি কিনেছিলেন জেফারসন, ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন সমাজে কালো মানুষদের তখন তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হতো। কিন্তু ইসলাম তাদের দিয়েছিল এমন একটি প্ল্যাটফরম, যেখানে সব মানুষ সমান। এর ফলে দেখা যায় দেশটিতে মুসলিম অভিবাসী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে বিংশ শতকের শুরুর দিকে দলে দলে মানুষ মুসলমান হতে থাকেন। অন্য দিকে বিংশ শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই অন্তত ১১ লাখ মুসলিম আমেরিকায় প্রবেশ করেন। দীর্ঘদিন বসবাসের ও অভিবাসনের কারণে মুসলিমরা ধীরে ধীরে মার্কিন সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠে।

তবে এই পরিস্থিতি পাল্টে যায় ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর। কথিত মুসলিম জঙ্গিরা আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার। প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে ওই হামলায়। এ ঘটনা আমেরিকায় অবস্থানকারী মুসলিমদের ওপর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং এক ধরনের বিপদের মুখোমুখি হন তারা।

টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মসজিদ এবং ইসলামিক কেন্দ্রগুলোতে মার্কিন পতাকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং সবার জন্য দুয়ার উন্মুক্ত করে অমুসলিমদের আহ্বান জানানো হয় সাধারণ মুসল্লিদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের জন্য। এ সময় তারা ইসলাম ধর্মের শান্তির বার্তা সম্পর্কে অমুসলিমদের জানাতে শুরু করে এবং সদর্পে জানান দেয়, আমেরিকায় বসবাসকারী মুসলিমরা শান্তিপ্রিয় এবং দেশপ্রেমিক।

এরই মধ্যে ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধের সূচনা হয়। ঠিক এ সময়টিতে ইসলাম ধর্ম ও মুসলিমদের সম্পর্কে আমেরিকানদের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। মুসলমান, ইসলাম এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে বিশেষ প্রতিবেদন, তথ্যচিত্র এবং বিভিন্ন বই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোর্সগুলোতে যুক্ত করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কয়েক মিলিয়ন অমুসলিম আমেরিকান ইসলাম ধর্ম এবং এর অনুসারী, ঐতিহ্য ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে সক্ষম হয়।

২০১৭ সালে মার্কিন পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক শুমারিতে দেখা যায়, দেশটিতে প্রায় ৩৫ লাখ মুসলিম বসবাস করছেন। যা মোট আমেরিকান জনগোষ্ঠীর ১ দশমিক ১ শতাংশ। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন (সিএআইআর) নামে ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি অ্যাডভোকেসি সংগঠনের দাবি, আমেরিকায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ মুসলিম বসবাস করছেন।

পিউ রিসার্চের মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে আমেরিকায় মুসলিমের সংখ্যা ৮১ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। এমনটি হলে ইসলাম হবে আমেরিকার দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্ম। পিউ রিসার্চের মতে, মুসলিম নারীরা অধিকহারে সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম। ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে পৃথিবীতে যত শিশুর জন্ম হয়েছে, তার ৩৫ শতাংশই মুসলিম শিশু। ১৯৯২ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ মুসলিম বৈধভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করেন। ২০১২ সালেই প্রায় এক লাখ মুসলিম দেশটিতে অভিবাসিত হন। গত শতকের ৯০ দশকে আমেরিকায় প্রবেশ করা বেশিরভাগ মুসলিম মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার। তবে, ২০১২ সালের পর পাকিস্তান, ইরান, বাংলাদেশ ও ইরাক থেকে সবচেয়ে বেশি মুসলিম দেশটিতে বৈধভাবে প্রবেশ করেন।

আগের সংবাদমিয়ানমারের সামরিক শাসনকে ব্যর্থ করার আহ্বান জাতিসংঘের
পরবর্তি সংবাদদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত ৪৮৫, মৃত্যু ১৩