তুরস্কের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেউলিয়া কানাডার কোম্পানি

(FILES) In this file photo taken on December 16, 2019, the Turkish-made Bayraktar TB2 drone is pictured at Gecitkale military airbase near Famagusta in the self-proclaimed Turkish Republic of Northern Cyprus (TRNC). - Morocco has taken delivery earlier this month of Turkish combat drones, the Far-Maroc unofficial website dedicated to military news reported. (Photo by Birol BEBEK / AFP)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সিরিয়া ও আজারবাইজানে তুরস্কের সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে কানাডা রজব তাইয়েব এরদোগানের দেশের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আর এ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার কারণে কানাডার একটি প্রতিরক্ষা কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেছে। লন্ডনভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ তথ্য জানায়।

তেলেমাস সিস্টেমস ইনক. নামে ওই কোম্পানি আগস্টে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করার জন্য আবেদন করেছে। কেননা ২০২০ সালে তুরস্কের ওপর কানাডা সরকারের আরোপ করা অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার কারণে এই কোম্পানি তার্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (টিএআই) মতো গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক হারিয়েছে। ওই কোম্পানি সামরিক ড্রোন টিএআই আনকার জন্য তুরস্কের গ্রাহকের কাছে ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্স এবং ইলেকট্রনিক সাপোর্ট সিস্টেম বিক্রি করত।

এ বিষয়ে কেপিএমজির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কের ওপর সরকারের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার কারণে কোম্পানির পক্ষে কোনো ধরনের মুনাফা অর্জন সম্ভব ছিল না।

তুরস্কের এক কর্মকর্তা জানান, তারা আগেই কানাডাকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। আমরা তাদের বলেছিলাম— এ নিষেধাজ্ঞার কারণে তুরস্ক ও কানাডা উভয় দেশের কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের আশা, কানাডার নতুন সরকার দূরদর্শী হবে।

কানাডার সরকার ২০২১ সালের এপ্রিলে আঙ্কারার বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে তেলেমাস সিস্টেমসের বিদ্যমান তুরস্কে অস্ত্রের সরঞ্জাম রপ্তানির পারমিট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা কোম্পানিকে চূড়ান্ত ধাক্কা দেয়।

অটোয়া চলতি বছর তুরস্কে প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত সব ধরনের পণ্য রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার যুদ্ধে কানাডার প্রযুক্তি দ্বারা নির্মিত অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে— তদন্তে এমন তথ্য পাওয়ার পর কানাডার সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ২০১৯ সালে তুরস্কের ওপর প্রাথমিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কানাডা। পরে ২০২০ সালের জুনে তুরস্ক ও কানাডার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আঙ্কারায় ড্রোনের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম বিক্রির অনুমতি দেয় অটোয়া।

এর পর নাগরনো-কারাবাখ যুদ্ধে ব্যবহৃত ড্রোনে কানাডার তৈরি ওয়েসক্যাম থাকায় সে বছরের অক্টোবরে ফের তুরস্কে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি বন্ধ করে অটোয়া।

আগের সংবাদআবাসিক হোটেলে ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ: হত্যা না আত্মহত্যা?
পরবর্তি সংবাদফিলিস্তিনের ৬ মানবাধিকার সংস্থাকে সন্ত্রাসী আখ্যা ইজরাইলের, জার্মানির নিন্দা