
ফাতেহ ডেস্ক:
দেশে জঙ্গিবাদে যারা জড়াচ্ছেন তাদের ৬১ ভাগের বেশি তরুণ। আর তাদের মধ্যে ৭৩ ভাগের বেশি সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার ৫১২ জঙ্গির তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পেয়েছে সিটিটিসি।
ওই গবেষণা প্রতিবেদনে জঙ্গিবাদে জড়িত হওয়ার লক্ষণ ও প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সিটিটিসি। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে তাদের অভিযানে গ্রেপ্তার ৫১২ জঙ্গির ওপর গবেষণা চালিয়েছে তারা। ওই গবেষণার বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জঙ্গিবাদে যারা জড়াচ্ছেন তাদের অধিকাংশই তরুণ ও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। এর মধ্যে ৬১.১ ভাগই ২০ থেকে ৩৪ বছর বয়সী। তবে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীরা বেশি জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে, শতকরা হিসাবে যা ২৭.৫ ভাগ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা, যা শতকরা হিসাবে ২০.১ ভাগ। এরপরই রয়েছে ৩০ থেকে ৩৪ বছর বয়সীরা, যা শতকরা হিসাবে ১৩.৫ ভাগ। আর ৩৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ৯.৪ ভাগ, ৪০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী ৮ ভাগ এবং ৪৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ৩.৩ ভাগ। এছাড়া ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ৩ ভাগ। গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোর বয়সীরাও জড়িয়ে পড়ছে জঙ্গিবাদে, যা শতকরা হিসাবে ৭.৬ ভাগ।
গবেষণায় ৫১২ জঙ্গির শিক্ষাগত যোগ্যতা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জঙ্গিবাদে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিতরা বেশি জড়াচ্ছেন। শতকরা হিসাবে এর সংখ্যা ৭৩.২ ভাগ। এরপরই রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিতরা, শতকরা হিসাবে যা ২৩ ভাগ। তারপর রয়েছে ভোকেশনাল ২.১ ভাগ। আর শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই এমন রয়েছে ১.৬ ভাগ।
গবেষণায় জঙ্গিবাদে জড়ানোর আটটি কারণ উঠে এসেছে। এগুলো হলো ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ভাবাদর্শগত, আন্তর্জাতিক ও প্রাসঙ্গিক কারণ। ব্যক্তিগত কারণের মধ্যে রয়েছে হতাশা, বিষণ্নতা, বিচ্ছেদ, বঞ্চনার উপলব্ধি কিংবা কৌতূহল ও বীরত্ব প্রদর্শন। পারিবারিক কারণের মধ্যে রয়েছে পারিবারিক অশান্তি বা বিচ্ছিন্নতা কিংবা পরিবার ও বন্ধুদের প্রভাব। সামাজিক কারণের মধ্যে রয়েছে হঠাৎ পরিবর্তন, পরিচয় সংকট ও প্রতিশোধ স্পৃহা। রাজনৈতিক কারণের মধ্যে রয়েছে হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন ও আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংকল্প।
অর্থনৈতিক কারণের মধ্যে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক বঞ্চনা ও শ্রেণিবৈষম্য; ভাবাদর্শগত কারণ হচ্ছে ধর্মের প্রকৃত জ্ঞানের অভাব ও পারলৌকিক প্রাপ্তির লোভ; আন্তর্জাতিক কারণের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিভিন্ন ঘটনার প্রভাব। এছাড়াও সর্বশেষ প্রাসঙ্গিক কারণের মধ্যে রয়েছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী গোষ্ঠীর আকর্ষণীয় প্রচারণা এবং ইন্টারনেট ও অফলাইনে চিত্তাকর্ষক প্রচারপত্র/অডিও/ভিডিওর সহজলভ্যতা।
