
রাকিবুল হাসান নাঈম:
ফজরের পর থেকেই একের পর এক নৌকা এসে ভিড়ছে মাদরাসার সিঁড়িতে। মাদরাসার নিচতলা, বোর্ডিং, টিওবয়েল সব ডুবে আছে পানির নিচে। নৌকা এসে ভিড়ছে দুতলায় উঠবার সিঁড়িতে। ইতোমধ্যে তিন-চারশ মানুষ এসে আশ্রয় নিয়েছে এই মাদরাসায়। মাদরাসাটির নাম—জামেয়া মারকাজুল উলূম বর্মাউত্তর-রামনগর-বাণীপুর সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জ সদরেই মাদরাসাটির অবস্থান।
ভয়াবহ বন্যায় ডুবে গেছে সিলেট-সুনামগঞ্জ। উপরের দৃশ্যটি সুনামগঞ্জের। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, পানি ক্রমশ বাড়ছে। সবার ঘরেই কোমর সমান পানি। সবাই খুঁজছে নিরাপদ আশ্রয়, মাথা গুঁজার ঠাই। এরই প্রেক্ষিতে জামেয়াটি পানিবন্দী মানুষের জন্য খুলে দিয়েছে দরজা। তিনতলা মাদরাসাটির নিচতলা পানির নিচে। বাকি দুতলা ও তিনতলায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সকাল দশটায় কথা হয় মাদরাসাটির মুহতামিম মাওলানা আবদুর রহমান কফিল সাহেবের সঙ্গে। ফাতেহকে তিনি জানান, ‘গতকাল মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন পানীবন্দী মানুষের জন্য দরজা খুলে দেয়া হয়েছে। ফজরের পর থেকে নৌকায় করে মানুষ আসছে। ইতোমধ্যে তিন-চারশ মানুষ এসে পড়েছে। বর্মাউত্তর, রামনগর, বাণীপুর বাসী এই ৩ গ্রামের পানিবন্দী মানুষ মাদরাসায় এসে আশ্রয় নিয়েছে।’
খাবার পানির সঙ্কট জানিয়ে মাওলানা বলেন, মানুষ এসে কেবল আশ্রয় নিচ্ছে। মাদরাসার বোর্ডিং এবং টিওবয়েল ডুবে যাওয়ায় এখানে রয়েছে খাবার এবং বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। কেউ সাহায্য নিয়ে এলে যেন শুকনো খাবার এবং পানি নিয়ে আসে। এটাই এখন সবচে বেশি দরকার। কারণ, আরও মানুষ আসছে। পানি ক্রমশ বাড়ছে। আশপাশের সব মাদরাসাই পানিতে ডুবে আছে।
স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি খোঁজ নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে মাওলানা বলেন, এখানের মোহনপুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড জয়নগরের মেম্বর গোলাম জিলানী আমাকে ফোন দিয়ে বলেছেন, মাদরাসাটি যেন মানুষের জন্য খুলে দেই। বাকি অন্য কোনো সহায়তার আশ্বাস তিনি দেননি। তারও হয়তো ব্যবস্থা নেই। তার বাড়িতেও পানি।
মাওলানা জানিয়েছেন, গতকাল সকাল থেকেই পানিবন্দী এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। ফলে মোবাইলের চার্জ দিতে না পারার কারণে মোবাইলের যোগাযোগ-ব্যবস্থা কতক্ষণ থাকবে, তাও বলা যাচ্ছে না। মাদরাসায় এসে যারা উঠছে, না খেয়ে তারাও কিভাবে বাঁচবে, তাই হয়ে উঠেছে চিন্তার প্রধান বিষয়।
