ভারতের হরিয়ানায় হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষ, নেপথ্যে কে?

আব্দুল্লাহ আফফান।।

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রাম ও নুহ শহর উত্তাল। গত সোমবার গুরুগ্রাম ও নুহ এলাকায় হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এখন পর্যন্ত সংঘর্ষে একজন ইমামসহ ৬জন মারা গিয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ৭০জন। এছাড়াও মসজিদ, মুসলিমদের দোকানপাট, বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

গত সোমবার শুরু হওয়া সংঘর্ষ রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। সহিংসতাপূর্ণ অঞ্চলে বুধবার পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের কয়েক হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট সেবাও। সাম্প্রদায়িক এ উত্তেজনার আঁচ পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে পার্শ্ববর্তী দিল্লিতেও। রাজধানীতে যাতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা।

নুহ বিভাগের এমএলএহ চৌধুরী আফতাব আহমেদ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেছেন, প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে এত বড় ঘটনা ঘটে গেছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রশাসনকে শুরুতেই এই মিছিল থামানোর জন্য অনুরোধ করেছিলেন তিনি। যদি শুরুতে এটি বন্ধ করে দেওয়া হতো তাহলে এত উত্তেজনা দেখা দিত না এবং রক্তপাতের ঘটনাও ঘটত না।

যেখান থেকে শুরু এ সংঘর্ষ
গত সোমবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) একটি শোভাযাত্রা ডাক দেয়। ভিএইচপির যুব বাহিনী বজরং এর কর্মী মনু মানেসারের একটি ভিডিওর মাধ্যমে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। তিনি ভিডিওতে, হরিয়ানার গুরুগ্রামের মুসলিম অধ্যুষিত নুহ বিভাগে হিন্দুদের একটি শোভাযাত্রা আয়োজন ও সেখানে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন।

মনু মিছিলে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর মুসলিমরা তাকে আটকানোর ঘোষণা দেন। কথা অনুযায়ী, সোমবার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সেই মিছিল শুরু করেন। এরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আর এই উত্তেজনা চূড়ান্ত রূপ নেয় মঙ্গলবার মধ্যরাতে। এদিন স্থানীয় এক মসজিদ পুড়িয়ে দেয়া হয়, মসজিদের ইমাম, হোমগার্ডের দুই সদস্য নিহত হন।

কে এই মনু মানেসার
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) যুব বাহিনী বজরং এর কর্মী মনু মানেসার। গত ফেব্রুয়ারিতে নূহ-তে জুনায়েদ ও নাসির নামে দুই মুসলিম যুবককে তাদের গাড়িতে জীবন্ত জ্বালিয়ে মারার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মনু মানেসার। এ ঘটনায় মনু এবং আরও ২০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত মনু মানেসারকে গ্রেফতার করা হয়নি। অবশ্য নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনার পর হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল বীজ জানিয়েছেন, আইন আইনের পথে চলবে। অভিযুক্ত বজরং দল সদস্যের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সূত্র: বিবিসি বাংলা ও এনডিটিভি।

আগের সংবাদযুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কোনো দলের পক্ষে নয়, গণতন্ত্রের পক্ষে: পিটার হাস
পরবর্তি সংবাদগঠনমূলক সমালোচনা সহ্য করতে পারে না সরকার: জি এম কাদের