হামলা-ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগে উদ্বেগ, কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস সরকারের

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের পর ক্ষতিগ্রস্ত ভবন
মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের পরের চিত্র।

ফাতেহ২৪ ডেস্ক

রাজধানীতে একের পর এক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় ক্ষমতাসীন বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার দুঃখিত ও বিব্রত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো নাগরিকের স্থাপনা ভাঙচুর বা হামলার শিকার হলে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তদন্তে আরও কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও লুটপাট

২৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটি মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে ওই স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ তদন্তের বিষয়।

সরকারের পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়েছে, ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, শাহ আলী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনায় নয়জনকে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধারের তথ্যও তিনি জানিয়েছেন।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা

এর আগে ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজ এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই এলাকায় প্রায় ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠান ও একজন অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে মালিকানা বিরোধ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমিতে রাতে এক পক্ষ দখলের চেষ্টা করলে স্টুডিওতে ভাঙচুর হয়। ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে এবং গুলির খোসা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।

আরও কয়েকটি ঘটনায় দখলের অভিযোগ

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর আদাবরের শ্যামলী হাউজিং এবং মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায়ও ভবন ও জমি দখলের চেষ্টা, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার কয়েকটিতে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

‘অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই এবং দল-মত নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলার কথাও জানিয়েছেন।

সরকারের আশ্বাসের বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে তদন্তের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এ বিষয়টিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

প্রথম আলোর বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে জাতীয় অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্লাহর বক্তব্যও এসেছে। তিনি নেতা-কর্মীদের মধ্যে আইন না মানার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখাকে দলের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেছেন।

সার্বিকভাবে, সাম্প্রতিক হামলা-ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও আইনানুগ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই এখন প্রধান বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে।

আগের সংবাদবিশ্বশান্তিতে জাতিসংঘের উদ্যোগে বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: তারেক রহমান
পরবর্তি সংবাদদলীয় পরিচয় নয়, অপরাধে জড়ালেই গ্রেপ্তার: পুলিশকে আইজিপি